ক্রিকেটারদের নিয়ে বিতর্কিত ও আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক নাজমুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বোর্ড। একই সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ক্রিকেটারদের বর্জনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে বিপিএল খেলা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছে বিসিবি।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিসিবির পক্ষ থেকে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ক্রিকেটারদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাম্প্রতিক বক্তব্য ও পরিস্থিতি বোর্ড গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে এবং নাজমুল ইসলামের মন্তব্যের ব্যাখ্যা জানতে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
বিসিবি বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করে, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে খেলোয়াড়রা বিপিএলসহ বোর্ডের অধীনে পরিচালিত সব ক্রিকেট কার্যক্রমের মূল অংশীদার ও প্রাণ। বোর্ড আন্তরিকভাবে প্রত্যাশা করে যে ক্রিকেটাররা টুর্নামেন্টের সফল সমাপ্তিতে সহযোগিতা করবে এবং বিপিএল ২০২৬-এর সুষ্ঠু ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তাদের পেশাদারিত্ব ও প্রতিশ্রুতি প্রদর্শন অব্যাহত রাখবে।’
সম্প্রতি বিসিবির পরিচালক নাজমুল ইসলাম জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে ‘ভারতীয় দালাল’ বলে আখ্যায়িত করেন, যা ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। এর রেশ কাটতে না কাটতেই বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স ও অর্থনৈতিক সুবিধা নিয়ে করা তার মন্তব্য নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি করে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইস্যুতে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে নাজমুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী হলেও উপযুক্ত পরিবেশ চায়। এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে—বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ না করলে ক্রিকেটারদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে কি না—এই বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি ক্রিকেটারদের নিয়ে তির্যক ও আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করেন।
নাজমুল ইসলাম বলেন,
‘এই প্রশ্নটা তোলারই সুযোগ নেই। আমরা ক্রিকেটারদের পেছনে এত খরচ করছি, বিভিন্ন জায়গায় পাঠাচ্ছি, কিন্তু তারা কিছুই করতে পারছে না। আজ পর্যন্ত আমরা একটি বৈশ্বিক শিরোপাও আনতে পারিনি। তাহলে তো প্রতিবারই আমরা বলতে পারি, তোমরা খেলতে পারোনি, তোমাদের পেছনে যে টাকা খরচ হয়েছে, সেটা এবার ফেরত দাও।’
তার এই বক্তব্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে ক্রিকেটারদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয় এবং ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব (ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) প্রকাশ্যে এর প্রতিবাদ জানায়।
কোয়াবের সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন এক ভিডিও বার্তায় বলেন,
‘নাজমুল ইসলাম যেভাবে সব ক্রিকেটারকে নিয়ে মন্তব্য করেছেন, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একজন বোর্ড পরিচালক হিসেবে এ ধরনের বক্তব্য অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন। তিনি যদি বৃহস্পতিবার ম্যাচের আগে পদত্যাগ না করেন, তাহলে আমরা সব ধরনের ক্রিকেট বয়কটের ঘোষণা দেব।’
এই ঘোষণার পর বিপিএলের ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতিতে বিসিবি দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে নাজমুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় এবং একই সঙ্গে ক্রিকেটারদের শান্ত থাকার ও খেলা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানায়।
বিসিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নাজমুল ইসলামের জবাব পাওয়ার পর বোর্ড পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। এদিকে ক্রিকেট বোর্ড ও ক্রিকেটারদের মধ্যকার এই উত্তেজনা দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে বড় ধরনের সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
