দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দলের বাইরে অবস্থান, দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং ব্যক্তিগত ও আইনি জটিলতার মধ্যেও রাজনীতি নিয়ে নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে সুযোগ এলে আবারও সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরতে চান এবং নিজের জন্মস্থান মাগুরা থেকেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি রয়েছে তার।
সাকিবের এই মন্তব্য কেবল ক্রীড়াঙ্গনেই নয়, রাজনৈতিক অঙ্গনেও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। জাতীয় দলের বাইরে থাকা, ক্ষমতাচ্যুত সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এবং একাধিক মামলার মুখোমুখি হওয়া সত্ত্বেও রাজনীতিতে ফেরার বিষয়ে তার আত্মবিশ্বাসী বক্তব্য ভবিষ্যৎ পরিকল্পনারই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাকিব আল হাসান আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মাগুরা-১ আসন থেকে নির্বাচন করে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে তিনি প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার ভোট পেয়ে জয়ী হন। তবে একই বছরের আগস্টে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হলে সংসদ ভেঙে দেওয়া হয় এবং দেশের রাজনীতিতে নাটকীয় পরিবর্তন আসে।
সরকার পতনের সময় সাকিব আল হাসান দেশের বাইরে অবস্থান করছিলেন। ওই সময় তাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয় এবং তার নামে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। ক্ষমতাচ্যুত সরকারের সংসদ সদস্য হওয়ার কারণে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনার মুখেও পড়েন। এমন বাস্তবতার মধ্যেও রাজনীতি থেকে সরে আসার কোনো ইঙ্গিত দেননি সাকিব।
ভবিষ্যৎ নির্বাচন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সাকিব আল হাসান বলেন,
‘হ্যাঁ, নির্বাচন কেন করব না? নির্বাচন তো করবই। এটা নিয়ে আমার মনে কোনো সংশয় বা সন্দেহ নেই। ইনশাআল্লাহ, আমি আমার জন্মস্থান মাগুরা থেকেই নির্বাচনে লড়ব।’
তিনি আরও বলেন, মাগুরার মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের উন্নয়নে কাজ করাই তার রাজনীতিতে আসার মূল উদ্দেশ্য। জন্মভূমির প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই তিনি আবারও মাগুরা থেকেই নির্বাচন করতে আগ্রহী বলে জানান।
বর্তমানে সাকিব আল হাসান বিশ্বের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলে ক্রিকেটে ব্যস্ত সময় পার করছেন। জাতীয় দলে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও মাঠের বাইরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান ধরে রাখার বিষয়ে তিনি যে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, তার এই বক্তব্যে তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
তবে ক্রিকেট ক্যারিয়ারের অনিশ্চয়তা, চলমান আইনি জটিলতা এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতা—সবকিছু মিলিয়ে সাকিবের এই রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, তার বিরুদ্ধে থাকা মামলা এবং সাধারণ মানুষের একটি অংশের বিরূপ মনোভাব সত্ত্বেও নির্বাচনী রাজনীতিতে ফেরার ঘোষণা দেওয়া একটি সাহসী ও ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত।
বর্তমান প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সাকিব আল হাসানের এই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব, তা নিয়ে জনমনে রয়েছে যথেষ্ট সংশয়। একই সঙ্গে তার এই অবস্থান মাগুরার সাধারণ মানুষ ও ভক্তদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
রাজনীতিতে ফেরার এই ঘোষণার মাধ্যমে সাকিব আল হাসান যে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে ফিরে এসেছেন, তা নিঃসন্দেহে বলা যায়। সামনে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় এবং সাকিবের এই পরিকল্পনা কতটা বাস্তব রূপ পায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

