ইরানে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের পথ সুগম করতেই যুক্তরাষ্ট্র পরিকল্পিতভাবে নানা অজুহাত তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে তেহরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য ও হুমকির প্রতিক্রিয়ায় এ অভিযোগ তোলে ইরান।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) জাতিসংঘে ইরানের স্থায়ী মিশন থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানজুড়ে চলমান বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন যে ‘কঠোর পদক্ষেপ’ নেওয়ার কথা বলছে, তা আসলে দেশটিতে ক্ষমতার পরিবর্তনের একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ।
ইরানের দাবি, নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি, অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা উসকে দেওয়া এবং বিশৃঙ্খলা তৈরির মধ্য দিয়ে সামরিক অভিযানের পরিবেশ গড়ে তোলাই যুক্তরাষ্ট্রের মূল উদ্দেশ্য। তেহরানের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক ও সামরিক কৌশলের ধারাবাহিকতা।
জাতিসংঘে ইরানের মিশন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে জানায়, ওয়াশিংটনের বর্তমান নীতি ও দৃষ্টিভঙ্গি পুরোপুরি তেহরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্যকে সামনে রেখেই গড়ে উঠেছে। পোস্টে বলা হয়,
‘নিষেধাজ্ঞা, হুমকি, পরিকল্পিত অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা—সবই সামরিক হস্তক্ষেপের জন্য অজুহাত তৈরির অংশ।’
ইরান আরও বলেছে, অতীতে যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের কৌশল বহুবার প্রয়োগ করলেও সেগুলো ব্যর্থ হয়েছে এবং এবারও তা সফল হবে না। তেহরানের অভিযোগ, দেশটির অভ্যন্তরীণ সংকটকে পুঁজি করে ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানে মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব ও আর্থিক দুরবস্থার প্রতিবাদে যে বিক্ষোভ শুরু হয়, তা দ্রুত রাজনৈতিক রূপ নিয়ে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। ২০২২ সালের পর এটিই ইরানের সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী আন্দোলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল ইরানের একজন সরকারি কর্মকর্তা প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছেন যে, দুই সপ্তাহ ধরে চলা এই বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ প্রায় দুই হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন বড় শহরে পরিস্থিতি এখনো উত্তপ্ত রয়েছে। একই সঙ্গে লন্ডনসহ বিশ্বের বিভিন্ন শহরে বসবাসরত প্রবাসী ইরানিরাও এই বিক্ষোভের সমর্থনে সমাবেশ করছেন।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ইরানি বিক্ষোভকারীদের ‘দেশপ্রেমিক’ আখ্যা দিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। ট্রাম্পের ‘সাহায্য আসছে’—এমন বক্তব্যকে ইরান একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সরাসরি ও নির্লজ্জ হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে।
গত বছর ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত এবং যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর থেকেই ইরান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাড়তি চাপের মুখে রয়েছে। তেহরানের দাবি, বর্তমান বিক্ষোভ কোনো স্বতঃস্ফূর্ত গণআন্দোলন নয়; বরং এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রত্যক্ষ মদদ রয়েছে এবং পরিকল্পিতভাবে অস্থিরতা উসকে দেওয়া হচ্ছে।
