ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) থেকে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের বাদ দেওয়ার ঘটনায় ভারতের মাটিতে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলার বিষয়ে ভাবছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তবে এ বিষয়ে বিসিবির পক্ষ থেকে আবেদন জানানো হলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি।
এই প্রেক্ষাপটে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল মন্তব্য করেন, এমন সংবেদনশীল বিষয়ে হুটহাট সিদ্ধান্ত না নিয়ে ধৈর্য ও সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। তামিমের এই বক্তব্যের পর বিসিবির পরিচালক ও অর্থ কমিটির প্রধান এম নাজমুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ‘ভারতের দালাল’ বলে আখ্যা দেন।
নাজমুল ইসলামের এমন মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই ক্রিকেট অঙ্গনে শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। বিষয়টি নিয়ে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল জানান, সংশ্লিষ্ট পরিচালকের কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশ চাওয়া হয়েছে।
এবার নাজমুল ইসলামের মন্তব্যকে কড়া ভাষায় নিন্দা জানিয়েছেন সাবেক বিসিবি পরিচালক ও জাতীয় দলের সাবেক কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন। একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় সুজন বলেন, ‘এই বক্তব্যের কোনো যৌক্তিকতা নেই। এমন কথা অসভ্য লোকেরাই বলতে পারে। উনি যে অসভ্য, এই মন্তব্য থেকেই সেটা পরিষ্কার।’
সুজন আরও বলেন, ‘ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড কী সিদ্ধান্ত নেবে—মুস্তাফিজকে রাখবে না বাদ দেবে—এটা আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। তারা যাকে অকশনে নিয়েছে, সেটাও তাদের সিদ্ধান্ত। কিন্তু একজন বিসিবি পরিচালক হয়ে যেভাবে তামিম ইকবালকে আক্রমণ করা হয়েছে, সেটি সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণযোগ্য বিষয়। একজন দায়িত্বশীল বোর্ড ডিরেক্টরের কাছ থেকে এমন বক্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটাকে নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্ব বিসিবির।’
এদিকে বিসিবির আরেক পরিচালক আসিফ আকবর মন্তব্য করেছেন, ‘দুই-একটা বিশ্বকাপ না খেললে কিছু যায় আসে না।’ যদিও বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, তিনি আসিফের বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন।
আসিফ আকবরের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় খালেদ মাহমুদ সুজন বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আর দেশের ভেতরে গান গাওয়ার মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য আছে। তামিম ইকবাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত একজন ক্রিকেটার। আর দেশীয় জনপ্রিয়তার সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনের তুলনা চলে না।’
বিশ্বকাপ বর্জনের সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির দিকটিও তুলে ধরেন সুজন। তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপ না খেললে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে বাংলাদেশ ক্রিকেট। তখন জিম্বাবুয়ের মতো দল ছাড়া কার সঙ্গে খেলবেন? টিভি সম্প্রচার থেকে কত আয় হবে? এই আয় ছাড়া ক্রিকেট কীভাবে চালাবেন?’
সব মিলিয়ে তামিম ইকবালকে ঘিরে বিসিবি পরিচালকদের মন্তব্য শুধু বিতর্কই নয়, বোর্ডের দায়িত্বশীলতা ও পেশাদারিত্ব নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

