মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে ছোড়া গুলিতে গুরুতর আহত চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী হুজাইফা আফনানের (৯) অবস্থা সংকটাপন্ন। গুলিতে তার মস্তিষ্কের একটি বিপজ্জনক স্থানে বুলেট আটকে আছে, যা অপসারণ করা বর্তমানে অসম্ভব বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। জীবন বাঁচাতে শিশুটির মাথার খুলির একটি অংশ খুলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ফ্রিজে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
গত রোববার (১১ জানুয়ারি) সকালে টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্তে নিজ বাড়িতে থাকাকালীন মিয়ানমার থেকে আসা গুলিতে বিদ্ধ হয় হুজাইফা। তার মুখের ডান পাশ দিয়ে গুলি ঢুকে মস্তিষ্কে আঘাত হানে। বর্তমানে সে চমেক হাসপাতালের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে রয়েছে।
চমেক হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশিদ জানান, “বুলেটটি মস্তিষ্কের এমন জায়গায় আটকে আছে যেখানে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালী রয়েছে। এটি বের করতে গেলে তাৎক্ষণিক মৃত্যুর ঝুঁকি রয়েছে। রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে খুলি খুলে আপাতত ফ্রিজে রাখা হয়েছে।”
হুজাইফার বাবা পেশায় মাছ বিক্রেতা মোহাম্মদ জসিম কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “আমার মেয়ের মতো আর কারও সন্তান যাতে এমন পরিণতির শিকার না হয়। আমি সরকারের কাছে সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানাচ্ছি।” শিশুটির চাচা মোহাম্মদ এরশাদ এই ঘটনার বিচার দাবি করেছেন।
এদিকে, সীমান্তে নিরাপত্তা এবং হুজাইফার সুচিকিৎসার দাবিতে সোমবার দুপুরে টেকনাফে স্থানীয়রা মানববন্ধন করেছেন। বক্তারা মিয়ানমার থেকে নির্বিচারে গুলিবর্ষণের তীব্র নিন্দা জানান।
অন্যদিকে, সোমবার কেফায়েত উল্লাহ (২২) নামে আরও এক রোহিঙ্গা যুবক মিয়ানমারের গুলিতে আহত হয়ে চমেক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, সীমান্ত এলাকায় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. তসলিম উদ্দীন জানান, নিউরো সার্জারিসহ কয়েকটি বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা শিশুটিকে সুস্থ করতে আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে তার অবস্থা এতটাই আশঙ্কাজনক যে তাকে এই মুহূর্তে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য কোথাও স্থানান্তর করা সম্ভব নয়।

