বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাস নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত দুই বছরে আক্রান্ত ৯ জনেরই মৃত্যু হয়েছে। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) জানায়, ২০০১ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত দেশে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৪৭ জন, তাদের মধ্যে মারা গেছেন ২৪৯ জন।
নিপাহ ভাইরাস সাধারণত ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সংক্রমণের জন্য পরিচিত। তবে ২০২৫ সালের আগস্টেও নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ায় অ-মৌসুমে সংক্রমণের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু খেজুরের কাঁচা রস নয়, বাদুড়ের অর্ধ-খাওয়া ফল থেকেও সংক্রমণের প্রমাণ মিলেছে।
আইইডিসিআরের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা জানান, ভোলা জেলায় প্রথমবারের মতো অ-মৌসুমে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। ডা. সৈয়দ মঈনুদ্দিন সাত্তার বলেন, “যারা নিপাহ ভাইরাস থেকে বেঁচে গেছেন, তাদের অনেকেই দীর্ঘমেয়াদে স্নায়বিক জটিলতায় ভুগছেন। একজন মা তার সন্তানকে চিনতে পারছেন না, একজন কৃষক মাঠের পথ ভুলে যাচ্ছেন।

নিপাহ ভাইরাস একটি আরএনএ ভাইরাস, যা মূলত মস্তিষ্কে তীব্র প্রদাহ সৃষ্টি করে। সংক্রমণের হার প্রায় ২৮ শতাংশ, যা কোভিডের তুলনায় অনেক বেশি। তবে মানুষের মধ্যে কোনো প্রাকৃতিক ইমিউন প্রতিরোধ না থাকায় এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
বর্তমানে খেজুরের রস অনলাইনে বিক্রি হয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে পৌঁছাচ্ছে। আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরিন বলেন, “কম তাপমাত্রায় পরিবেশিত কাঁচা রস ভাইরাস বাঁচানোর জন্য উপযুক্ত, তাই শহরেও ঝুঁকি বেড়েছে। পরিবারকেন্দ্রিক সংক্রমণও বৃদ্ধি পাচ্ছে।”
নিপাহ মোকাবিলায় আইইডিসিআর ‘ওয়ান হেলথ’ মডেলে কাজ করছে, যেখানে মানুষের স্বাস্থ্য ছাড়াও প্রাণী, পরিবেশ ও সামাজিক আচরণ সমান গুরুত্ব পাচ্ছে। সংক্রমণের খবর পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে মাঠে টিম গঠন করা হয়।
ডা. তাহমিনা শিরিন সতর্ক করেছেন, “বাদুড়ের সংস্পর্শে আসা যেকোনো খাবার সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। অনিয়ন্ত্রিত খেজুরের রস বিক্রি বন্ধ না করলে বড় ধরনের মহামারি ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

