নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো তাঁর প্রাপ্ত পুরস্কারটি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উৎসর্গ করতে চান—এমন বক্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এই বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছে নোবেল কমিটি।
ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে মাচাদো যুক্তরাষ্ট্র সফরে আসবেন। সেই সফরের সময় ওয়াশিংটনেও তার সঙ্গে সাক্ষাৎ হবে এবং তখনই পুরস্কার সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। ট্রাম্পের দাবি, এই সফর মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেই করছেন মাচাদো।
উল্লেখ্য, নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা ট্রাম্প বহুবার প্রকাশ করেছেন। তিনি বিভিন্ন সময় দাবি করেছেন, একাধিক আন্তর্জাতিক সংঘাত বন্ধে ভূমিকা রাখায় তাঁর একাধিক নোবেল পুরস্কার পাওয়া উচিত ছিল। এমনকি সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নোবেল পাওয়া নিয়েও কটাক্ষ করে ট্রাম্প বলেছেন, ওবামা ‘কিছু না করেই’ পুরস্কার পেয়েছিলেন। সম্প্রতি ট্রাম্পের মন্তব্য, “আমাকে নোবেল না দেওয়া একেবারেই বোকামি।”
অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক পালাবদলের পর মাচাদো নিজে রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণ না করে দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেসকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিতে দেন। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র-ভেনেজুয়েলা সম্পর্ক ও দেশটির তেলসম্পদ ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এমন প্রেক্ষাপটেই মাচাদোর যুক্তরাষ্ট্র সফর গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে নোবেল কমিটি পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছে, শান্তি পুরস্কার কোনোভাবেই অন্যের কাছে হস্তান্তর, ভাগ বা প্রত্যাহার করা যায় না। কমিটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, একবার যাঁর নামে নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণা করা হয়, সেই সিদ্ধান্ত স্থায়ী ও অপরিবর্তনীয়।
ফলে মাচাদোর ইচ্ছা বা ট্রাম্পের আগ্রহ থাকলেও নোবেল শান্তি পুরস্কার আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তরের কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে নোবেল কর্তৃপক্ষ।
