দিনাজপুর প্রতিনিধি:
কৃষি খামারি অ্যাপসসহ বিভিন্ন ডিজিটাল কৃষি সেবা ব্যবহার করে কৃষকরা ইতোমধ্যে সুফল পেতে শুরু করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান। তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি ২৫ বছরের লক্ষ্য সামনে রেখে চালু করা এসব কৃষি অ্যাপস ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষকরা এখন জমির ধরন অনুযায়ী নির্দিষ্ট মাত্রায় সার, উন্নত ও উচ্চফলনশীল বীজ ব্যবহার করতে পারছেন। এর ফলে উৎপাদন যেমন বাড়ছে, তেমনি জমির উর্বরতাও সুরক্ষিত থাকছে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় দিনাজপুর শহরের বনকালি এলাকায় আসন্ন আলুর ক্ষেত পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
কৃষি সচিব বলেন, অতিরিক্ত সার প্রয়োগ করলেই যে ফলন বাড়ে—এমন ধারণা সঠিক নয়। বরং মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহারে জমির উর্বরতা শক্তি কমে যায় এবং দীর্ঘমেয়াদে নাইট্রোজেনসহ গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি সৃষ্টি হয়ে জমি মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে। সে কারণেই কৃষিতে বিজ্ঞানভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই।
ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান আরও বলেন, কৃষি অ্যাপস ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষকরা তাদের জমির প্রকৃতি অনুযায়ী সঠিক পরিমাণ সার ও কীটনাশক ব্যবহার করছেন, যা ফসলের গুণগত মান ও উৎপাদন—উভয় ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এতে একদিকে সরকারের ভর্তুকির চাপ কমবে, অন্যদিকে কৃষি উৎপাদন হবে আরও টেকসই ও লাভজনক।
তিনি জানান, আগামী দিনের জন্য একটি সমন্বিত কৃষি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। কোন অঞ্চলে কোন ফসল ভালো হয়—সে অনুযায়ী উন্নত বীজ সরবরাহ, সুষম সার ব্যবস্থাপনা, আধুনিক কীটনাশক ব্যবহার এবং কৃষি সম্প্রসারণ কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। এসব কার্যক্রমে কৃষি অ্যাপস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
আলুর ক্ষেত পরিদর্শনকালে কৃষি সচিব সরাসরি একাধিক কৃষকের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় কৃষকরা জানান, তারা এখন সমবায় ভিত্তিতে কৃষি উৎপাদনে যুক্ত হচ্ছেন এবং কৃষি খামারি অ্যাপসের নির্দেশনা অনুযায়ী সার ও কীটনাশক ব্যবহার করে আগের তুলনায় ভালো ফলন পাচ্ছেন। এতে কৃষি ক্ষেত্রে এক ধরনের নতুন উদ্ভাবনী ধারা সৃষ্টি হয়েছে বলেও তারা উল্লেখ করেন।
পরে কৃষি সচিব, পার্টনার প্রোগ্রামের আওতায় স্থাপিত আলু ফসলের উত্তম কৃষি চর্চা প্রদর্শনী পরিদর্শন এবং কৃষক ও কৃষি উদ্যোক্তাদের সাথে মত বিনিময় সভা করেন । এ সময় কৃষি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

