ভোলার লালমোহন উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়নের রায়চাঁদবাজারে গত শুক্রবার রাতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ‘জামায়াতকে ভোট দিলে বেহেশত পাওয়া যাবে’—এমন একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তর্কের জেরে এই সহিংসতার সূত্রপাত হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার সকালে জামায়াতের নারী কর্মীদের একটি দাওয়াতি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অভিযোগ উঠেছে, সেখানে ‘জামায়াতকে ভোট দিলে বেহেশত পাওয়া যাবে’—এমন কথা বলা হয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় বিএনপি কর্মীদের সঙ্গে জামায়াত সমর্থকদের কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। বিকেলে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জাফর ইকবাল ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করে দিলেও সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
রাত ৮টার দিকে রায়চাঁদবাজার এলাকায় উভয় পক্ষ লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। বাজারের নির্মাণাধীন সড়কের ইট-পাটকেল ব্যবহার করে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে একে অপরের ওপর হামলা চালায়। খবর পেয়ে নৌবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। সংঘর্ষ চলাকালে উত্তেজিত জনতা নৌবাহিনীর গাড়িতেও হামলার চেষ্টা করে।
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে গুরুতর আহত ৯-১০ জনকে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ভোলা জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ঘটনার পর রাত ৯টায় এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত সমর্থিত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও বিডিপি মহাসচিব মুহা. নিজামুল হক অভিযোগ করেন:
“আমরা শান্তি বজায় রাখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ৩০-৪০ জন নেতা-কর্মী নিয়ে কার্যালয়ে যাওয়ার সময় বিএনপির দুই শতাধিক কর্মী আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে আমাদের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।”
অন্যদিকে, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জাফর ইকবাল দাবি করেন:
“ধর্মকে পুঁজি করে জামায়াত অপপ্রচার চালাচ্ছিল। আমি নিজে গিয়ে উত্তেজনা প্রশমিত করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু পরে সংঘর্ষে যুবদল সভাপতি জসিম ও নান্নু মাস্টারসহ আমাদের ১৫-১৬ জন কর্মী আহত হয়েছেন। আমার বিরুদ্ধে হামলার নির্দেশের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।”
লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম জানান, সকালে জামায়াতের নারী কর্মীদের দাওয়াতি কাজ ও সেখানে দেওয়া কিছু বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। রাতে দুই পক্ষ ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করলে পুলিশ ও নৌবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি, তবে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
