জুলাই বিপ্লবের সম্মুখসারির যোদ্ধা ও ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী সংগ্রামী বীর শহীদ ওসমান হাদিকে নিয়ে লেখা ইসলামি নাশিদগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক নতুন জোয়ার সৃষ্টি করেছে। প্রখ্যাত গীতিকার ও ইসলামি আলোচক মুফতি মুশাহিদ মুনাওয়ারের লেখা এসব নাশিদে ফুটে উঠেছে শহীদের জীবন, আত্মত্যাগ এবং অমীমাংসিত বিচারহীনতার প্রশ্ন।
ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন পর্যন্ত শহীদ ওসমান হাদিকে নিয়ে মুশাহিদ মুনাওয়ারের লেখা ছয়টি নাশিদ প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে ‘দিলমে হাদি’, ‘আয় হাদি ফিরে আয়’ এবং ‘জানাও ইন্টেরিম’ (জানাও অন্তর্বর্তী) নাশিদগুলো শ্রোতামহলে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছে।
‘দিলমে হাদি’: জনপ্রিয় শিল্পী সায়নান সায়েমে কণ্ঠে গাওয়া এই নাশিদটিতে আবেগ ও স্মৃতির মেলবন্ধন ঘটেছে।
‘আয় হাদি ফিরে আয়’: মিউজিক ডিরেক্টর আবু উবায়দার সুরে গোল্ডেন ভয়েসখ্যাত শিল্পী কাজী মাশকুরে এলাহীর এই নাশিদটি ওসমান হাদির অনুপস্থিতির বেদনাকে তুলে ধরেছে।
‘জানাও ইন্টেরিম’: কাতিব টিভির আয়োজনে প্রকাশিত এই নাশিদটি সরকারের কাছে শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।
মুফতি মুশাহিদ মুনাওয়ারের মতে, এই নাশিদগুলো কেবল গান নয়; বরং শহীদের স্মৃতিকে প্রজন্মের চেতনায় স্থায়ী করার একটি প্রয়াস। তিনি বলেন:
“শহীদদের স্মৃতি যেন কেবল নির্দিষ্ট দিবসে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং সুর ও কবিতার ভাষায় তা যেন দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে—সেই চিন্তা থেকেই এই নাশিদগুলো লেখা।”
মুশাহিদ মুনাওয়ার ইতোমধ্যে শতাধিক জনপ্রিয় নাশিদ লিখেছেন এবং নিয়মিত জাতীয় দৈনিকে সমসাময়িক বিষয়ে কলাম লিখছেন। খতিব হিসেবে তাঁর ধর্মীয় বয়ান ও সাংস্কৃতিক লেখনী একই আদর্শিক জায়গা থেকে উৎসারিত।
তরুণ শ্রোতারা এই কাজগুলোকে ‘সাহসী’ ও ‘সময়োপযোগী’ হিসেবে অভিহিত করছেন। বিশেষ করে ‘জানাও ইন্টেরিম’ নাশিদটি বিচার ত্বরান্বিত করার দাবিতে ভার্চুয়াল জগতে একটি সাংস্কৃতিক বিপ্লব তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, একজন গীতিকার যখন ধর্মীয় অবস্থান ও সামাজিক দায়বদ্ধতাকে একীভূত করেন, তখন তা কেবল সংগীত থাকে না, বরং সময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিলে পরিণত হয়।
মুশাহিদ মুনাওয়ার জানিয়েছেন, শহীদ ওসমান হাদিকে নিয়ে আরও চারটি নাশিদ বর্তমানে প্রকাশের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

