চাঁদ জয়ের পথে এক বিশাল মাইলফলক স্পর্শ করল নাসার আর্টেমিস-২ মিশন। পৃথিবী থেকে এযাবৎকালের সবচেয়ে দূরবর্তী স্থানে ভ্রমণের নতুন রেকর্ড গড়ে অবশেষে নিরাপদে ফিরে এসেছেন ওরিয়ন মহাকাশযানের চার নভোচারী। ১০ দিনের রোমাঞ্চকর অভিযান শেষে বাংলাদেশ সময় আজ শনিবার ভোর ৬টা ৭ মিনিটে ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগো উপকূলে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করে মহাকাশযানটি।
১৯৭০ সালে অ্যাপোলো-১৩ মিশনের গড়া রেকর্ড ভেঙে এই অভিযানে ওরিয়ন পাড়ি দিয়েছে মোট ৬ লাখ ৯৪ হাজার ৪৮১ মাইল পথ। এর আগে অ্যাপোলো-১৩ এর নভোচারীরা পৃথিবী থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৪৮ হাজার ৬৫৫ মাইল দূরে গিয়েছিলেন। গত ২ এপ্রিল ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে এই ঐতিহাসিক সফরের সূচনা হয়েছিল।
প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণের সময় ওরিয়ন মহাকাশযানটি ঘণ্টায় প্রায় ২০ মাইল গতিতে পানিকে আঘাত করে। যদিও এই গতি সাধারণ মনে হতে পারে, তবে মহাকাশবিজ্ঞানীদের মতে, দীর্ঘ সময় ভরহীন অবস্থায় থাকার পর নভোচারীদের কাছে পানির আঘাতটি শক্ত দেয়ালের মতো অনুভূত হয়েছে।
ক্যাপসুলের পাঁচটি কমলা রঙের এয়ারব্যাগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে গিয়ে যানটিকে সোজা রাখে।
মার্কিন নৌবাহিনীর ডুবুরি দল এবং এমএইচ-৬০ সিহক হেলিকপ্টার দ্রুত উদ্ধারে নামে। নভোচারীরা বের হওয়ার আগে ডুবুরিরা নিশ্চিত করেন যে কোনো ক্ষতিকারক গ্যাস নির্গত হচ্ছে কি না।
ক্যাপসুল থেকে একে একে বেরিয়ে আসেন মিশনের কমান্ডার রেইড ওয়াইজম্যান, ক্রিস্টিনা কোচ, ভিক্টর গ্লোভার এবং জেমি হ্যানসেন। যুদ্ধজাহাজ ‘জন পি মুর্থা’-তে নিয়ে যাওয়ার পর তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। নাসার মেডিকেল অফিসাররা জানিয়েছেন, চার নভোচারীই সম্পূর্ণ সুস্থ বা ‘গ্রিন’ অবস্থায় আছেন।
এই সাফল্যকে হিউস্টনের কন্ট্রোল রুমে উল্লাসের সাথে উদযাপন করা হয়েছে। নাসার অ্যাসোসিয়েট অ্যাডমিনিস্ট্রেটর অমিত কেশাত্রিয়া এই মিশনকে ‘বিশ্বের জন্য একটি উপহার’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “এটি ভাগ্য নয়, বরং হাজারো মানুষের নিরলস পরিশ্রমের ফল। কঠিনতম সমস্যারও সমাধান যে সম্ভব, এই মিশন তা প্রমাণ করল।”
এই মিশনের সফল সমাপ্তি মানুষের মহাকাশ অনুসন্ধানে এক নতুন যুগের সূচনা করল, যা ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানুষের যাওয়ার পথকে আরও প্রশস্ত করবে।

