রাজশাহী প্রতিনিধি:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে রাজশাহী বিভাগের ৩৯টি সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ ঘিরে সর্বাত্মক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন। আর বিভাগের প্রতিটি আসন নিরাপত্তাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকবে। অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট সম্পন্ন করতে ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে বিভাগীয় প্রশাসন।
আজ বুধবার (১ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ।
তিনি বলেন, নির্বাচন ও গণভোট একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়া। ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে, নির্বিঘ্নে ও উৎসবমুখর পরিবেশে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। কোনো ধরনের সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা বা নাশকতার অপচেষ্টা কঠোর হাতে দমন করা হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
রাজশাহী বিভাগে রয়েছে ৮টি জেলা, ৬৭টি উপজেলা, ১টি সিটি কর্পোরেশন, ৬২টি পৌরসভা ও ৫৬৫টি ইউনিয়ন। প্রায় ১৮ হাজার ১৫৪ বর্গকিলোমিটার এলাকায় বসবাস করছেন আনুমানিক ২ কোটি ৩ লাখ মানুষ। এ বিভাগের চূড়ান্ত ভোটার সংখ্যা ১ কোটি ৬৩ লাখ ৭৭ হাজার ৯৬ জন। মোট ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে ৫ হাজার ২৮৭টি। এর মধ্যে ১ হাজার ৭৬৭টি কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে এবং সেসব কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে বিভাগে ২১৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ৩৯ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মোট ১ লাখ ৪ হাজার ৬৬ জন সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। এর মধ্যে সেনাবাহিনীর ১০ হাজার সদস্য, বিজিবির ৪ হাজার ১২৩ জন, রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের ১৩ হাজার ৭৯৬ জন, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের ২ হাজার ৪০৫ জন, র্যাবের ১ হাজার ৬ জন এবং আনসারের ৭২ হাজার ৭৩৬ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতি আসনে গড়ে ২ হাজার ৬৬৮ জন সদস্য নিয়োজিত থাকবেন।
এছাড়া ৫ হাজার ২৬৬টি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং ২ হাজার ৩১৮টি বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে। গত বছরের ১ জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ৫৬টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে।
একই সময়ে রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশ ৭৪টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৪৩৩টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে। পাশাপাশি বৈধ অস্ত্র জমা পড়েছে ৪ হাজার ৫৯৪টি। নির্বাচনকালীন সময়ে গোয়েন্দা নজরদারি, টহল জোরদার এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট কার্যক্রম বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভাগীয় পর্যায়ে একটি কোর কমিটি সক্রিয় রয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নিয়মিত সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১০ ফেব্রুয়ারি থেকে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে জয়েন্ট অপারেশন সেল চালু হয়েছে, যা ভোট-পরবর্তী সময় পর্যন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করবে। পাশাপাশি মিডিয়া সেলের মাধ্যমে নিয়মিত হালনাগাদ তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে, সকলের সহযোগিতা ও সচেতন অংশগ্রহণের মাধ্যমে রাজশাহী বিভাগের ৩৯টি সংসদীয় আসনে শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন এবং গণভোট সম্পন্ন হবে।

