সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে,শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারী) সকালে নিয়মিত টহল কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মান্দারবাড়িয়া সংলগ্ন নদী এলাকায় সন্দেহজনকভাবে মাছ আহরণের সময় জেলেদের আটক করা হয়। অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তা সহকারী বন সংরক্ষক মশিউর রহমান জানান, জেলেরা অনুমতি ছাড়া সংরক্ষিত বনাঞ্চলে প্রবেশ করে অবৈধভাবে মাছ আহরণ করছিলেন।
অভিযানকালে দুটি ট্রলার থেকে দড়িবড়শি, বরফের বক্সসহ মাছ ধরার বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি আনুমানিক ৪শ’ কেজি শাপলা পাতা মাছও জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত ট্রলার ও সরঞ্জাম বনবিভাগের হেফাজতে রাখা হয়েছে।
আটক ২২ জন জেলের বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং অবৈধ আহরণ বন্ধে বনবিভাগ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিষেধাজ্ঞা ও কঠোর নজরদারির মধ্যেও কিছু অসাধু জেলে জীবিকার তাগিদে ঝুঁকি নিয়ে সুন্দরবনের ভেতরে প্রবেশ করছেন। তবে বনবিভাগ বলছে, আইন অমান্য করে বনসম্পদ আহরণ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সুন্দরবনের পরিবেশ ও মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও কাঁকড়া আহরণে নিষেধাজ্ঞা জারি থাকে। এ ধরনের অভিযানের মাধ্যমে বনাঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় কাজ করছে বনবিভাগ।
আটককৃত জেলেরা হলেন- পটুয়াখালীর মহিপুর থানার মহিপুর গ্রামের মমিনুদ্দিন হাওলাদারের ছেলে মো. ছোমেদ (৪৫), একই থানার আলীপুর গ্রামের ছাত্তার হাওলাদারের ছেলে জামাল হাওলাদার (৩২), একই গ্রামের আবুল ফরাজ হাওলাদারের ছেলে মো. কালু (৪৮), আব্দুল মজিদের ছেলে ফরহাদ (৩০), আব্দুর রহমান খানের ছেলে মো. ইয়াছিন খান (৪০), মো. শাহ আলম গাজীর ছেলে দুলাল গাজী (৩০), মৃত ওয়াহেদ হাওলাদারের ছেলে মো. হানিফ হাওলাদার (৪০), একই থানার চাপলি গ্রামের মজিবর হাওলাদারের ছেলে মো. রাসেল (৩০), একই জেলার তালতলী থানার তালতলী গ্রামের মো. নিজাম মিরের ছেলে ইসমাইল (অপ্রাপ্তবয়স্ক), একই জেলার পটুয়াখালী সদর থানার দক্ষিণ বড়বিঘা গ্রামের বাদশা মিয়ার ছেলে মো. শরিফ মিয়া (অপ্রাপ্তবয়স্ক), একই জেলার আলীপুর গ্রামের জামাল হাওলাদারের ছেলে রাজীব হাওলাদার (অপ্রাপ্তবয়স্ক) ও আফজাল হাওলাদারের ছেলে ইব্রাহিম (অপ্রাপ্তবয়স্ক) এবং বাগেরহাট জেলার মোল্লাহাট থানার কোদালীয়া গ্রামের মফিজ খানের ছেলে মো. শফিকুল খান (২০)।

