গৌরীপুরে গরমে তালের শাঁস বিক্রির ধুম পড়েছ 

মো. হুমায়ুন কবির, গৌরীপুর প্রতিনিধিঃ
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার পৌর শহরে বুধবার ৩১ মে দুপুরে শহীদ হারুণ পার্কের সামনে থেকে বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষকে তালের শাঁস কিনতে দেখা যায়।
প্রচণ্ড গরমে কদর বেড়েছে তালের শাঁসের। একটু স্বস্তি পেতে রাস্তার পাশে ফুটপাতে বিক্রি হওয়া রসালো এই ফলের স্বাদ নিচ্ছেন অনেকে। কচি তালের শাঁস ও পাকা তাল বাংলাদেশসহ এশিয়ার অনেক দেশেই জনপ্রিয়। পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ এই ফলে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন ও খনিজ উপাদান রয়েছে। এর বেশিরভাগ অংশ জলীয় হওয়ায় এটা খেলে দ্রুত শরীরে পানিশূন্যতা দূর হয়।
এক তথ্যে তালের শাঁসের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জানা গেছে মিষ্টি স্বাদের মোহনীয় গন্ধে ভরা প্রতি ১০০ গ্রাম তালের শাঁসে রয়েছে ৮৭ কিলোক্যালরি, ৮ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, জলীয় অংশ ৮৭.৬ গ্রাম, আমিষ .৮ গ্রাম, ফ্যাট .১ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেটস ১০.৯ গ্রাম, খাদ্যআঁশ ১ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ২৭ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ৩০ মিলিগ্রাম, লৌহ ১ মিলিগ্রাম, থায়ামিন .০৪ গ্রাম, রিবোফাভিন .০২ মিলিগ্রাম, নিয়াসিন .৩ মিলিগ্রাম, ভিটামিন সি ৫ মিলিগ্রাম। এসব উপাদান আপনার শরীরকে নানা রোগ থেকে রক্ষা করাসহ রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে।
তালের শাঁসের স্বাস্থ্য উপকারিতা-তালের শাঁস প্রাকৃতিকভাবে দেহকে রাখে ক্লান্তিহীন। গরমের তালের শাঁসে থাকা জলীয় অংশ পানিশূন্যতা দূর করে। খাবারে রুচি বাড়িয়ে দিতেও সহায়ক।তালে থাকা ভিটামিন এ দৃষ্টিশক্তিকে উন্নত করে। তালে থাকা উপকারী উপদান আপনার ত্বকের যত্ন নিতে সক্ষম। কচি তালের শাঁস লিভারের সমস্যা দূর করতে সহায়তা করে।  কচি তালের শাঁস রক্তশূন্যতা দূরীকরণে দারুণ ভূমিকা রাখে। তালের শাঁসে থাকা ক্যালসিয়াম হাঁড় গঠনে দারুণ ভূমিকা রাখে। তালে থাকা এন্টি অক্সিডেন্ট শরীরকে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। তালে থাকা ভিটামিন সি ও বি কমপ্লেক্স আপনার পানি পানের তৃপ্তি বাড়িয়ে দেয়।তাল বমিভাব আর বিস্বাদ দূর করতে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পৌর শহরের বিভিন্ন গলিতে, রাস্তার পাশে তালের শাঁস বিক্রি হচ্ছে। ছোট-বড় সব বয়সের মানুষের পছন্দের খাবার হিসেবে সমাদৃত তালের শাঁস। মানুষের চাহিদা থাকায় পুরান উপজেলায় ব্যাপক বিক্রি হচ্ছে এই ফল।
ফুটপাতে দাঁড়িয়ে পরিবারের সবার জন্য তালের শাঁস কিনেছিলেন কলতাবাজারের বাসিন্দা জুবেদা বেগম। তিনি বলেন, ফরমালিন বা কেমিক্যাল ছাড়া কোনও ফল পাওয়া মুশকিল। সেখানে তালের শাঁস সর্বোৎকৃষ্ট। কোনও ধরনের ভেজাল নেই। তবে তালের শাঁস সুপারশপে বিক্রি হয় না, এটা কেবল ফুটপাত বা মহল্লার অলিগলিতে পাওয়া যায়। ছোট শাঁস অনুযায়ী দাম কিছুটা বেশি হলেও এ নিয়ে কিছু বলার নেই। বিক্রেতারা কষ্ট করে কেটে দেয়। লাভ না হলে তারা চলবে কীভাবে।’
আরেক ক্রেতা মাসুদ  বলেন, ‘গণমাধ্যমের বরাতে জানতে পেরেছি তালের শাঁস অনেক উপকারী। এটা ডায়েটের জন্য বেশ কার্যকর। এছাড়া শুষ্ক ত্বক ও চুল পড়া বন্ধ করে। লিভার, কোষ্ঠকাঠিন্য, রক্তশূন্যতা এগুলোর জন্যেও উপকারী। এটা খেতেও সুস্বাদু। এজন্য নিজে খেলাম পরিবারের সদস্যদের জন্যেও নিলাম।’
তালের শাঁসের খুচরা বিক্রেতা জানান, গত বিশ বছর ধরে গরম এলেই তিনি তালের শাঁস বিক্রি করেন। আগে গ্রামের এলাকায় বিক্রি করতেন, এখন পৌর শহরে বিক্রি করেন। বেচাকেনাও ভালো। পরিবহন খরচসহ সব খরচ বাদ দিয়ে দৈনিক সাত-আটশ’ টাকা লাভ থাকে। গরম যতো বাড়ে তালের শাঁসের চাহিদাও বাড়ে।
বিক্রেতা আজিজুল হক বলেন প্রথম প্রথম স্কুল কলেজের ছাত্র ছাত্রীরা আমার মূল হক থাকলেও গরমের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে বয়স্ক পুরুষ, মহিলা, ভ্যানচালক, অটোরিকশার চালক সহ সকল শ্রেণী পেশার মানুষ গরমের সাময়িক তৃপ্তি পেতে এই তালের শাঁস খেতে যায়। নির্ভেজাল ও বিশুদ্ধ হওয়ার কারনে এখানে দাড়িয়ে খাওয়ার পাশা-পাশি বাড়ির জন্যও নিয়ে যায় অনেকে।
গ্রাম থেকে  তাল আনেন বলে জানান বিক্রেতা দুলাল। তিনি বলেন, ‘সব খরচ একসঙ্গে ধরে গড়ে এক ছড়া তাল পাইকারি একশ’ টাকা বিক্রি করা হয়। আমাদেরও লাভ থাকে, তবে সীমিত। বেচাকেনা বেশি হলে লাভ বেশি হয়। এক ছড়াতে বারো থেকে চৌদ্দটি তাল থাকে। কোনও ছড়ায় আরও বেশি থাকে। আমাদের কাছ থেকে যারা পাইকারি কেনেন তারা একটা তালের শাঁস ১০ টাকা করে বিক্রি করেন।
গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.ইকবাল আহামেদ নাসের বলেন তাপমাত্রার কারণে ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া, চুল পড়া ইত্যাদি রোধ করতে সাহায্য করে এটি। অতিরিক্ত ঘামের ফলে শরীর থেকে যে পানি বেরিয়ে যায় তা পূরণ করতে সাহায্য করে তালের শাঁস।
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

বিষয়: * গৌরীপুরে গরমে তালের শাঁস বিক্রির ধুম পড়েছ
লাইভ রেডিও
সর্বশেষ সংবাদ