বাগেরহাটে ৫০ বছর পর ২ বিধবা বোনের বে- দখলীয় সম্পত্তি উদ্ধার

আবু-হানিফ,বাগেরহাট অফিসঃ

বাগেরহাটে জায়গার সীমানা নির্ধারন করতে গিয়ে নিজেই ফেসে গেলেন কাজী নুরুল হুদা নামের এক ব্যক্তি। সীমানা নির্ধারনের জন্য স্থানীয় ষাট গম্বুজ ইউনিয়ন পরিষদে আবেদন করেন কাজী নুরুল হুদা। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (১৮ মে) ষাটগম্বুজ ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতের সহযোগীতায় সার্ভেয়ার মোঃ শহিদুল ইসলামের মাধ্যমে সম্পত্তি পরিমাপ করা হয়। সম্পত্তি পরিমাপ করলে উল্টা কাজী নুরুল হুদার সম্পত্তির মধ্যে দুই বিধবা চাচাতো বোন ২০ শতক জমি পান।

দীর্ঘ ৫০বছর ধরে কাজী নুরুল হুদা তথ্য গোপন করে বেআইনী ভাবে ভোগ দখল করে আসছিলেন। ঘটনাটি ঘটেছে বাগেরহাট সদর উপজেলার খানজাহান আলী মাজার মোড় এলাকার রনবিজয়পুর গ্রামে। উদ্ধারকৃত জমির মালিকরা হলেন সদর উপজেলার রনবিজয়পুর গ্রামের আব্দুল জলিল কাজীর মেয়ে দেলোয়ারা বেগম ও মনোয়ারা বেগম।

দেলোয়ার বেগম জানান, আমার রনবিজয়পুর মৌজায় ৪১১ নং দাগে ৪৫ শতক জমি রয়েছে। পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তিতে দীর্ঘ দিন ধরে পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছি। আমাদের সম্পত্তির মধ্যে প্রায় ১০ শতক জমি আমার চাচাতো ভাই কাজী নুরুল হুদা দীর্ঘ ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বে-আইনী ভাবে ভোগদখল করেআসছিল। সে আমাদের সম্পত্তিতে দোকান তৈরি করে ভাড়া দিয়েছে। তারা আমাদের সম্পত্তি দখলের জন্য বিভিন্ন সময় হুমকি ধামকি ও বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করেছে। তিনি আরো জানান, আমার চাচাতো ভাই কাজী নুরুল হুদা আমাদের বাড়ির
চলাচলের পথ পর্যন্ত বন্ধ করে দিয়েছিল। পরবর্তীতে আমরা অন্য স্থান থেকে চলাচল করতে বাধ্য হয়েছি। আগামীতে যেন শান্তিপূর্ন ভাবে সমত্তি ভোগ দখল করতে পারি এজন্য প্রশাসনের সহযোগীতা কামনা করে এই বিধবা নারী।

মনোয়ারা বেগম বলেন, আমার রনবিজয়পুর মৌজায় ৪১১ নং দাগে পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত ২০ শতক জমি রয়েছে। তার মধ্যে আমার ৫ শতক জমি আমার চাচাতো ভাইকাজী নুরুল হুদা ভোগ দখল করে আসছিল। ৫০ বছর পরে হলেও পিতার সম্পত্তির অংশ ফিরে পেয়ে সত্যিই অনেক ভালো লাগছে বলে তিনি জানান।

এ বিষয়ে দেলোয়ার বেগমের ছেলে খন্দকার আছাদুজ্জামান বলেন, আমার মা ও খালার সম্পত্তি দীর্ঘদিন ধরে বেদখল ছিল। আমার মায়ের চাচাতো ভাইয়েরা তাদের প্রাপ্ত অংশটুকু সঠিক ভাবে বুঝিয়ে দেইনি। উল্টা তারা আমাদের সম্পত্তি বে- আইনীভাবে ভোগ দখল করেও আমাদের মিথ্যা হয়রানি করেছে। এত দিন পর হলেও বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ তন্ময়ের কল্যানে আমরা আমাদের মায়ের প্রাপ্ত অংশটুকু বুঝে পেয়েছি।

এ বিষয়ে সার্ভেয়ার মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের নির্দেষনা মোতাবেক স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে জমি পরিমাপ করে দুই পক্ষকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

বিষয়: * বাগেরহাটে ৫০ বছর পর * বিধবা বোনের বে- দখলীয় সম্পত্তি উদ্ধার