২৪ টি চা বাগানে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি দাবিতে অনির্দিষ্টকালীন কর্মবিরতি 

কামরুল হাসান কাজল
হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
হবিগঞ্জের ২৪টি বাগানে শ্রমিকের মজুরী বৃদ্ধি করে ৩শ টাকা করার দাবীতে ১৩ আগষ্ট শনিবার ফুঁসে উঠেছে চা-শ্রমিকগণ। এ দাবী না মানায় মহা-বিক্ষোভসহ অনির্দিষ্টকালের জন্য  কর্মবিরতির ঘোষণা  দিয়েছে চা-শ্রমিক ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ। তাছাড়া এ ঘটনায় আজ মহাসড়ক অবরোধের কঠোর হুশিয়ারী সংকেত দেয়া হয়েছে।জানা যায়, সারাদেশে চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরী ১শ ২০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৩শ টাকা করার দাবী জানিয়েছে চা-শ্রমিক ইউনিয়ন। এর পর থেকে এ দাবী আদায়ে আন্দোলনে নেমেছে হবিগঞ্জের চানপুর, নালুয়া, আমু, ছন্ডি, লস্করপুর, লালচান, জুয়াল ভাঙ্গা, বেলাবিল, রামগঙ্গা, সাতছড়ি, চাকলা, দেউন্দি, কাপাই, বেগমখাল, বৈকণ্ঠপুর, নোয়াপাড়া, তেলিয়াপাড়া. সুরমা, জগদিশপুর, শ্রী বাড়ি, দারা গাও, কামাইছড়া, রশিদপুর ও শিকলা চা বাগানে কর্মরত শ্রমিকরা। তারা গত ৩ দিন দুই ঘন্টা করে প্রতিদিন কর্মবিরতি পালন করেছে। তবে তাদের দাবী এ কর্মবিরতিতে কোন সুহারা মিলেনি। যে কারনে ফুসে উঠেছেন বাগানগুলোর চা শ্রমিকরা। শনিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ও সমাবেশের আহবান করেছে বাংলাদেশ চা-বাগান শ্রমিক ইউনিয়ন। ফলে হবিগঞ্জের ২৪টি চা বাগান নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে আজ সকাল ১১টায় এক বিশাল কর্মসুচির আহবান করেছে শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ। তাছাড়া মহাসড়ক অবরোধের হুশিয়ারীসহ অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করবে বলে জানিয়েছে জেলার ২৪টি বাগানের শ্রমিকরা।গত বৃহস্পতিবার গভীর রাত পর্যন্ত শ্রীমঙ্গলে শ্রম অধিদপ্তরে চা শ্রমিক ১০ নেতার সঙ্গে শ্রম দপ্তরের আলোচনা ব্যর্থ হলে শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল এ কর্মবিরতির ঘোষণা দেন।এর আগে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ডাকে ৯ আগস্ট থেকে ১১ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিদিন দুই ঘণ্টা এ কর্মবিরতি পালন করে হবিগঞ্জের ২৪টি বাগানসহ সারাদেশের চা বাগান শ্রমিকরা। বাগান মালিকদের তিন দিনের সময় দিয়ে তারা এ কর্মবিরতি শুরু করেছিলেন। এর পর গত বৃহস্পতিবার শ্রম দপ্তরের উপপরিচালক নাহিদুল ইসলামের দপ্তরে জেলার ২৪টি চা বাগানের ১০ প্রতিনিধি নিয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে । শ্রমিক নেতাদের নিয়ে আলোচনা করে মজুরি বাড়ানোর জন্য আগামী ২৮জুলাই আলোচনা হয় শ্রম অধিদপ্তরে। কিন্তু সেখানে কোনো মালিকপক্ষ ছিলেন না। ফলে আলোচনা ব্যর্থ হয়।বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল বলেন, ‘শ্রম অধিদপ্তর আলোচনার নামে সময়ক্ষেপণ করেছে। তারা আগামী ২৯ আগস্ট ত্রিপক্ষীয় আলোচনার সময় চেয়েছে। কিন্তু আমরা তাতে রাজি হইনি। শুক্রবার উপজেলার সব চা বাগানে ২ ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন শেষে এক সমাবেশে তিনি সব চা বাগান একযোগে বন্ধের ঘোষণা করেছি’। তিনি, ‘যদি কর্তৃপক্ষ দাবী না মানে তাহলে শায়েস্তাগঞ্জ নতুনব্রিজ মহাসড়ক অবরোধ করে দেয়ার হুশিয়ারী দেন।চা সংসদের  আহ্বায়ক তাহসিন আহমেদ বলেন, ‘তাদের অযৌক্তিক আন্দোলনে চা-উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। চা-শ্রমিকদের সাথে বাগান কর্তৃপক্ষের কোন ধরনের ঝামেলা নেই, অথচ তারা অযৌক্তিকভাবে আন্দোলন করছেন’। তিনি জানান, তাদের দাবি নিয়ে আলোচনা চলমান থাকাকালীন তারা হঠাৎ করে এ কর্ম বিরতি ঘোষণা দিয়েছে, সেটা অবৈধ কর্ম বিরতি যা  শ্রম আইনের পরিপন্থী।চানপুর চাবাগানের ম্যানাজার মোঃ শামীম হুদা বলেন, ‘হঠাৎ করে কর্ম বিরতী দিয়ে চা উৎপাদনে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। যেখানে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৩৫ হাজার পাতা তোলা হতো। এখন কমে প্রায় দাড়িয়েছে ২০ হাজার। আর যদি লাগাতার কর্ম বিরতী হয় তাহলে চা উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে’। উৎপাদন মৌসুমে শ্রমিকদের এ আন্দোলন কাম্য নয়।
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
বিষয়: * অনির্দিষ্টকালীন * কর্মবিরতি * বাগান
লাইভ রেডিও
সর্বশেষ সংবাদ