চবিতে প্রথমবারের মত শিক্ষক শিক্ষার্থীদের প্রদর্শন হলো ১০৫ গবেষণাকর্ম

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: জ্ঞান-গবেষণা ও মুক্তবুদ্ধি চর্চার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হলেও বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষায় কতটুকু অগ্রগতি হয়েছে?

তবে বিশ্ববিদ্যালয় গুলোকে পিছিয়ে পড়া থেকে রক্ষা করতে গবেষণায় ও  আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিংয়ে জোর দিতে হবে। তাই  শিক্ষার্থীদের গবেষণামুখী করতে এবার ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি এস্যুরেন্স সেল (আইকিউএসি) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) আয়োজন করেছে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের গবেষণাপত্র প্রদর্শনী। এতে দেখা গেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপচে পড়া ভিড়।

জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ২৫৭ শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সর্বমোট ১০৫টি গবেষণাপত্র প্রদর্শন করা হয়েছে এই অনুষ্ঠানে। যেগুলোর কোনটাই এখনো প্রকাশিত হয় নি। সর্বোচ্চ গবেষণাপত্র এসেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বন ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগ থেকে ১৭টি। এর পরে রয়েছে অর্থনীতি বিভাগের ১২টি গবেষণাপত্র। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় অন্যন্য বিভাগেরও রয়েছে গবেষণাপত্র।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো এমন আয়োজনে প্রসংসায় ভাসাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বাড়তি আমেজ বিরাজ করছে গবেষণা শিক্ষার্থীদের মাঝেও। এছাড়া শিক্ষকরাও বেশ আগ্রহের সাথে শিক্ষার্থীদের গবেষণার বিষয়বস্তু সম্পর্কে বোঝাতে সহায়তা করছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের জারুলতলায় আয়োজিত এই গবেষণাপত্রের পোস্টার প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। শিক্ষার্থীরা ঘুরে ঘুরে দেখছেন গবেষণাপত্রগুলো। যেখানে রয়েছেন গবেষকরাও। যে গবেষণাপত্রগুলো শিক্ষার্থীদের বুঝতে সমস্যা হচ্ছে তা বুঝিয়ে দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট গবেষকরা।

চট্টগ্রাম শহরে গাছের প্রজাতির বৈচিত্র্যতা ও কার্বন ধারণ ক্ষমতার মধ্যে পার্থক্য এমন এক বিষয় নিয়ে গবেষণা পত্র প্রদর্শন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব ফরেস্ট্রি এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগের ১৪-১৫ সেশনের সমরেশ্বর সিনহা সহ অন্যান্যরা । গবেষণায় চট্টগ্রাম শহরের তিনি পাঁচটি অঞ্চলের গাছ নিয়ে গবেষণা করেছেন। যেখানে আছে নগরীর পার্ক,পাহাড়,সমাধিস্থল, সড়ক ডিভাইডারের গাছ। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যপক মো. মনিরুজ্জামান ভূঁইয়ার প্রদর্শিত এক গবেষণাপত্রে তুলে ধরেছেন চট্টগ্রাম অঞ্চলের নারীরা কিভাবে দেনমোহর থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তবে কৌশলগত কারণে তিনি গবেষণার পুরো বিষয় প্রকাশের অনুমতি দেন নি।

চবির এ শিক্ষক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে গবেষণার স্থান। আজকের এই আয়োজনের মাধ্যমে আমাদের শিক্ষার্থীরা গবেষণার প্রতি আরও আগ্রহী হবেন। যা তাদের এবং দেশের জন্য কল্যাণকর।

আইকিউএসির পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেন বলেন, আমরা অনেকদিন ধরে এই অনুষ্ঠানটা করতে চাচ্ছিলাম। করোনার কারণে তা হয়ে ওঠে নি। তবে আজকে অনুষ্ঠানটা করতে পেরেছি। অনেক শিক্ষক-শিক্ষার্থী এসেছেন। যাদের থেকে আমরা ইতিবাচক সাড়া পেয়েছি ৷ তিনি বলেন, এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অপ্রকাশিত গবেষণাপত্রগুলোও প্রদর্শনের সুযোগ পেয়েছে শিক্ষার্থীরা। যা তাদের জন্য অনুপ্রেরণা যোগাবে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গবেষণায় আগ্রহ বাড়াবে।
তিনি আরও বলেন, দেশিয় ও আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিংয়ে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় অনেকটা পিছিয়ে। আমি আশা করছি এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন নতুন গবেষক সৃষ্টি হবে। আর এতে করে আমাদেন বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাংকিংও এগিয়ে যাবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
বিষয়: * গবেষণাপত্র প্রদর্শনী * চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
লাইভ রেডিও
সর্বশেষ সংবাদ