উদ্ধারকৃত জমিতে পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার স্থাপনের আশ্বাস ডিআইজির

 

ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের সবদলে অন্যের দখলে থাকা বাংলাদেশ পুলিশের উদ্ধারকৃত এক একর জমিতে পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার স্থাপনের আশ্বাস প্রদান করেছেন রংপুর রেঞ্জ এর ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য (বিপিএম)।

মঙ্গলবার (২২শে মার্চ) সন্ধ্যা ৭টার দিকে সদর উপজেলার ভূল্লী সবদল হাটে পুলিশের উদ্ধারকৃত জমিতে বৃক্ষরোপন কর্মসূচী ও সবদল কালিমন্দির পরিদর্শন করেন রংপুর রেঞ্জ এর ডিআইজি।

এসময় স্থানীয় জনসাধারণ সবদলে পুলিশের উদ্ধারকৃত জমিতে ভূল্লী থানা স্থাপনের জোর দাবি জানালে ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য সেখানে পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার স্থাপনের আশ্বাস প্রদান করেন। এছাড়াও তিনি স্থানীয় সকলের উদ্দেশ্যে মাদকদ্রব্য,যৌতুক,আত্মহত্যা সম্পর্কে সচেতন হওয়ার জন্য পরামর্শ মূলক বক্তব্য প্রদান করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন, ইন সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট (পুলিশ সুপার) নাসির উদ্দিন যুবায়ের, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোছাঃ সুলতানা রাজিয়া, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তানভিরুল ইসলাম, রুহিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা চিত্ত রঞ্জন রায়, ৫ নং বালিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ জুলফিকার আলী ভুট্টো চৌধুরী, জমিদাতা মরহুম রেজওয়ানুল হক ইদু চৌধুরীর কনিষ্ঠপুত্র সুলতানুল নাঈম শুভ চৌধুরী সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৯ সালে এলাকার জনগনের নিরাপত্তা ও জানমালের রক্ষায় পুলিশ ফারি বসানোর উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিচালক বরাবর তৎকালিন ১ আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রেজওয়ানুল হক চৌধুরী (ইদু) তার ব্যক্তিগত ১ একর জমি দান করেন। পরে কিছুসময় সেখান অস্থায়ী পুলিশ ফারি বসানো হলেও উঠিয়ে নেয়া হয়। একসময় জমিটি স্থানীয় মানুষের দখলে চলে যায়।

পুলিশ সূত্রে জানাযায়, দীর্ঘদিন স্থানীয় এক জমির দালাল আজিজের দখলে ছিলো জমিটি। জমিতে তিনি বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ করতেন। কিন্তু সম্প্রতি আরও কিছু কতিপয় ব্যক্তি স্থানীয় নূর ইসলাম (সদ্য সাবেক মেম্বার), রাজ্জাক, হাসেম আলী, জয়নাল, দুলু মিঞা সেই জমিটিতে ভবন সহ আর কিছু কার্যক্রম শুরু করে। তারা সকলে জাল দলিলের ব্যবস্থা করেছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু জমিটি পুলিশের মালিকানা থাকার বিষয়টি জানতোনা জেলা পুলিশ। স¤প্রতি গোপন সূত্রে বিষয়টি জানতে পারে ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তানভীরুল ইসলাম। এর পরেই তিনি জমিটি নিয়ে তদন্ত শুরু করেন। খুঁজে বের করেন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও জমির দলিল।

ওসি তানভীরুল ইসলাম জানান, ‘এক একর বিষয়টি জানতে পেরে আমি গোপনে তদন্ত শুরু করি। প্রয়োজনীয় সকল কাগজ বের করি। এরপর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সদর থানার পুলিশ সহ জমিটি উদ্ধার অভিযানে যাই। জমিটি এখন পুলিশের দখলে আছে। সেখানে বাংলাদেশ পুলিশের সাইনবোর্ড লাগানো ও তারের বেরা দিয়ে ঘেরা হয়েছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
বিষয়: * ঠাকুরগাঁও * ডিআইজি * পুলিশ * বাংলাদেশ পুলিশ * রংপুর রেঞ্জ
লাইভ রেডিও
সর্বশেষ সংবাদ