বাতাসে ভাসছে ইট ভাটার কালো বিশাক্ত ধোঁয়া পশু পাখি-সহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ

মোঃ সাইফুল ইসলাম, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) : গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার অধিকাংশ তৃফলা ফসলি কৃষি জমি ইট ভাটার দখলে। কি এক অজ্ঞাত কারনে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ফসলি জমি খ্যাকো ইট ভাটা মালিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছেন না, তা জানতে চায় সচেতন মহল।

এ ব্যাপারে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউপির একজন প্রবীন রাজনীতিবিদ ও সমাজ সেবক মোঃ আজগার হোসেন জানান, সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে উঠছে একের পর এক ইট ভাটা। এই ইট ভাটা মালিকদের পরিবেশ অধিদপ্তর বা সরকারী অনুমোদন আছে কি না, তা কারোরি জানা নেই। তবে লোকমুখে শুনা যায় তারা প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই ইট ভাটার নামে ধ্বংস করছে ফসলি জমি, তাতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে দেশ ও জাতি।
সরেজমিনে দেখা যায়, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার আলোচিত মজুমদারহাট নামকস্থানে ১ কিঃমিঃ এর ভিতরে ৪টি ইট ভাটা রয়েছে। ওই  সকল ইট ভাটার পার্শ্বে ৪টি সরকারী বিদ্যালয় ও কয়েকটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
ইট ভাটার বিশাক্ত কালো ধোয়ায় নানা রকম রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। এমনকি রামজীবন ইউপির আলমডাঙ্গা এলাকায় একটি ইট ভাটা প্রতি বছর সু-কৌসলে কৃষকদের মোটা অংকের টাকা দিয়ে কয়েক একর ত্রি-ফলা ফসলি জমি তার ইট ভাটার কাজে ব্যবহার করছেন। ইট ভাটাটির পাশ্বে একটি বে-সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
ভাটাটির অন্যপাশ্বে আইপি দ্বাতা সংস্থা এডিপির অর্থায়নে ২ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা ব্যায়ে নির্মান করা হয় একটি সেতু, যা ভাটার একাধিক গাড়ী যাতায়াতের কারনে ধ্বংসের দারপ্রান্তে পৌছেছে। ফসলি জমির উর্বর মাটি দিয়ে তারা রাতের আধারে ইট তৈরি করেন। ফলে অধিক ফলন থেকে মুখ ফিরেছে কৃষকদের, এমনকি সম্ভাবনাময় উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে উপজেলা কৃষি অফিস।
এব্যাপারে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মোঃ অলিউর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি জানান, সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় মোট ২৬ টি ইট ভাটা রয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের সাথে কথা বলবো, তাদের ব্যাপারে সরেজমিনে খোজ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তবে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আল মারুফের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদ আল হাসান জানান, আমরা পরিবেশ অধিদপ্তরের সাথে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
এব্যাপারে সুন্দরগঞ্জ ইট ভাটা মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ নজরুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমাদের লাইসেন্সে ইট ভাটার এরিয়া উল্লেখ আছে যে, ফসলী জমি ইট ভাটার কাজে ব্যবহার করা যাবে। তবে আমরা সরকারকে সঠিক ভাবে ভ্যাট প্রদান করেই ইট ভাটার কার্যক্রম চলমান রেখেছি। আমাদের ইট ভাটার সঙ্গে ৬টি সংস্থা কাজ করে। আপনারা সংস্থাগুলোর সাথে যোগাযোগ করলে বিস্তারিত জানতে পারবেন।
অপরদিকে ভাটা শ্রমিক কলিমউদ্দিন, আকবর হোসেন, রহিম মিয়াসহ কয়েকজনের সাথে কথা  হলে তারা জানান, আমরা দিনরাত পরিশ্রম করলেও ভাটা মালিকরা আমাদের বেতন ঠিক ভাবে দেয়না। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উপার্জিত টাকা দিতে গড়িমশি করে ভাটা কর্তৃপক্ষ।
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
বিষয়: * ইট ভাটা * উপজেলা প্রশাসন * গাইবান্ধা * বিশাক্ত ধোঁয়া * সুন্দরগঞ্জ
লাইভ রেডিও
সর্বশেষ সংবাদ