কোর্টের ১৪৪ ধারা আইন অমান্য করে জমির আম বাগান কেটে সাবার

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ নালিশি জমিতে থাকা আম বাগানের উপর ১৪৪ ধারা জারি থাকার পরেও আদালতের আদেশকে তোয়াক্কা না করে বিবাদী ইউসুফ আলী বেআইনী ভাবে তার ভাড়াটে লোকজন দিয়ে প্রায় ১৫-২০ লক্ষ টাকা মূল্যের ১৮টি পুরাতন  আম গাছ কর্তন করে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড সৃষ্টি করেছে এলাকায়।
এমন অভিযোগ উঠেছে ইউসুফ আলীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল ও হরিপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী চৌরঙ্গী নামক এলাকার রণহাট্রা গ্রামে।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানাযায়, গত ২৬ ফ্রেরুয়ারি ইউসুফের লোকজন আদালতের আদেশ অমান্য করে আম বাগাম কেটে সাবার করেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনা স্থলে অভিযান চালিয়ে গাছ কাটা যন্ত্রপাতি উদ্ধার সহ ৩জন আসাামীকে আটক করেছে।
 বাকী আসামীরা পুলিশের উপস্থিতি টেরপেয়ে পালিয়ে যায়। আটককৃত আসামীরা হলেন, হরিপুর উপজেলা শিহিপুর শেখটোলা গ্রামের  আব্দুল বারেক (৩৫), একই গ্রামের আব্দুল মালেক (২২) উভয়ের পিতা নুরুল ইসলাম,  উপজেলার পতন ডোবা গ্রামের হেমন্ত দাসের ছেলে ভুপেন দাস। বিবাদীদ্বয়রা বিজ্ঞ অদালতের আদেশ অমান্য করায় ঘটনা স্থল থেকে ৩ জনকে আটক করে তাদের বিরুদ্ধে ১৫১ ধারায় মামলা রুজু করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে পুলিশ। এমন তথ্যদিয়ে ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন থানা তদন্ত অফিসার আমিরুল ইসলাম।
এদিকে ১৪৪ ধারার মামলার বাদী ওমর ফারুক পুলিশের উপর অভিযোগ করে বলেন-গাছ কাটা মিস্ত্রি/লেবারের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। অথচ অজ্ঞাত কারণে গাছ কাটা হুকুমদাতাকে আসামী করা হয়নি! মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জাহাঙ্গীর মুঠো ফোনে বলেন-পরবর্তীতে তদন্ত করে বাকী আসামীদের নাম প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হবে। ওমর ফারুক বলেন-হরিপুর উপজেলার রণহাট্রা মৌজার জে এল নং ৫৯, খতিয়ান নং এস এ-৪৩, খারিজ নং-৮৪১, ৫৭৯-দাগে ৩ একর ৭৬শতক জমির মধ্যে ১ একর ৫৭ শতক জমির অংশ হিসেবে মৃত আব্দুল মতিনের একমাত্র পুত্র ওমর ফারুক মালিক। তিনি বলেন, তার পিতা মতিন সহ ২ চাচা আব্দুল বারী ও আলী আকবর এস এ রেকট মুলে ৩ একর ৭৬ শতক জমির মালিক। ওমর ফারুকের পিতা আব্দুল মতিন ১৩ সালে মারা যায়। পিতা মারা যাওয়ার পরে ওমর ফারুক উক্ত সম্পত্তি দাবী করলে তার চাচাত ভাই ইউসুফ আলী, মুসা, ইউনুস আলী ও আলাউদ্দীন তাকে জমিতে ভোগদখলে বাধা দেয়। তার পিতার কাছে নাকি তারা দলিল করে নিয়েছেন। এমন কথা শুনে ওমর ফারুক উক্ত দলিল বাতিলের মামলা করেছে আদালতে। তিনি বলেন তার পিতা কাউকে কোনদিন দলিল করে দেননি। পিতার মৃত্যুর পর থেকে জবর দখল করে ভোগদখল করে আসছে তারা। সম্পত্তি উদ্ধারের জন্য ওমর ফারুক বাদী হয়ে ৫৭৬ দাগে ১ একর ৫৭ শতক জমির উপর ১৪৪ ধারা জারি করেছে।
বিবাদীরা আদালতের আদেশ অমান্য করে ভাড়াটে লোকজন দিয়ে নালিশি জমিতে থাকা ১৮টি পুরাতন আমগাছ কর্তন করে। যার বাজার মূল্য প্রায় ২০ লক্ষ টাকা। আটককৃত আসামী আব্দুল বারেক, মালেক ভুপেন দাস বলেন, ইউসুফ আলী মাস্টার গংরা তাদের আম বাগান কাটার হুকুম দিয়েছেন। ওমর ফারক বলেন, তার পিতার মৃত্যুর পর নালিশি জমিতে ভোগদখলে যেতে না পারায় তিনি সর্বস্বান্ত হয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর ভাবে জীবন যাপন করছেন।
বিবাদী ইউসুফ মাস্টার বলেন-১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে তা তার জানা ছিল না। তার চাচা ওমর ফারুকের পিতা আব্দুল মতিন ৫৯ সালে রেকট মুলে তার ফুপুদের নিকট বিক্রি করে। ৬৪ সালে তার পিতা আলী আকবর তার ফুপুদের কাছ থেকে দলিল নিয়েছেন। ওমর ফারুক কোন জমি পাবেনা। তিনি বলেন তার পরেও তাদের ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করা ঠিক হয়নি।
তাদের ফুপু বাদরুননেসা, যার বয়স প্রায় ১শত বছর। তিনি বলেন, আমি কারো কাছে জমি ক্রয় করিনাই এবং কারো কাছে জমি বিক্রিও করিনাই।
এবিষয়ে হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল করিম বলেন, রেকট মুলে দাবী করছেন একজন, অন্যান্যরা ক্রয়সূত্রে দাবী করছেন। এনিয়ে আদালতে একটি মামলা হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে জানলেও আদালতে মামলা চলমান , অতএব এ সম্পর্কে কিছুই মন্তব্য করা ঠিক হবেনা। বিজ্ঞ আদালত আমাকে যদি তদন্তের দায়িত্ব দেন তাহলে বিষয়টি বিবেচনা করে দেখা যাবে।
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
বিষয়: * ১৪৪ ধারা আইন * ইউএনও * ঠাকুরগাঁও * রাণীশংকৈল
লাইভ রেডিও
সর্বশেষ সংবাদ