রাণীশংকৈলে কাঠ ফসল ছেড়ে উন্নত বড়ই চাষেই সফলতা দেখছেন কৃষক আমান

 

 

Exif_JPEG_420

 

নাজমুল হোসেন, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি:

একটি চাষ যোগ্য ফসলি জমিতে বছরে বিভিন্ন প্রকার দুই টি ফসল চাষাবাদ করে যে টাকা লাভ করা সম্ভব। তার চেয়ে কয়েক গুণ কম খরচ করে বিভিন্ন উন্নত জাতের বড়ই চাষ করে বেশি লাভবান হওয়া যায় বলে এমনটাই ধারণা  করেছেন ঠাকুরগাঁও জেলার রানীশংকৈল উপজেলার কুমারগঞ্জ পৃর্ব করনাইট গ্রামের কৃষক আমানুল্লাহ। সরেজমিনে গিয়ে দেখাযায়,তিনি এবার প্রথমবারের মতো ৫ বিঘা জমিতে বিভিন্ন প্রকার তিন ধরনের  কাঠ ফসল ছেড়ে দুই ধরনের উন্নত জাতের বড়ই চাষ করেছেন এবং কাঠ ফসলের চেয়ে অধিক লাভের আশা করছেন। তিনি আমাদের প্রতিনিধি কে জানান, আমি কৃষি দিবানিশি নামে একটি অনুষ্ঠান টিভিতে দেখার পর আমারো মনের ভিতর কৌতুহল জাগে কিভাবে এই চাষ করা যায় এবং এই বড়ই গাছের চাড়া কথায় পাওয়া যায়।মনের ভিতর এমন ইচ্ছা কে কাজে লাগিয়ে খোজ নিতে নিতে একদিন একজন আম ব্যবসায়ীর সাথে কথা হয় চাড়ার ব্যাপারে এবং সেই আম ব্যবসায়ী ৫ শত চারা এনে দিতেও রাজি হয় বিভিন্ন জায়গা থেকে। এ থেকেই শুরু হয় আমানুল্লাহর বড়ই চাষের উপর ইচ্ছা,সেই সুবাদে এখন তার ৫ বিঘা জমিতে ৪ শত ৫০ টি বল সুন্দরী ও কাশ্মীরী আপেল কুল এই দুই ধরনের বড়ই গাছ রয়েছে পাশা পাশি আরো রয়েছে অন্য জমিতে বিভিন্ন প্রকার আমের গাছ এবং মাল্টার প্রজেক্ট। চারা লাগানোর ছয় মাসের মধ্যেই প্রতিটি গাছে ফুল আসতে শুরু করে এবং উপজেলা কৃষি অফিসের সকল ধরনের পরামর্শ কে কাজে লাগিয়ে বাগানের পরিচর্যা শুরু করেন।

  চলতি বছরেরই বাগানে প্রথম বারের মতো থোকাই থোকাই ফল ধরেছে,প্রথম পর্যায়ে গাছ থেকে পাঁচ লক্ষ টাকার ফল বিক্রি করার সম্ভাবনা দেখছেন কৃষক আমানুল্লাহ যা ইতিমধ্যে দুই থেকে তিন লক্ষ টাকার বিক্রি করেছেন স্থানীয় খুচরা ব্যাবসায়ীদের কাছে।অপর দিকে বাগানের ফল সংগ্রহ ও বাগানের নিরানী কাজ করতে প্রায় ৫/৬ জন মহিলা কৃষাণীর একটি স্থায়ী কাজের সন্ধান হয়েছে। সেই বাগানে কাজ করতে পেরে মহিলা কৃষাণীরাও খুশি তারা বলেন অন্যত্র আর কাজের সন্ধান করতে হয় না।কয়েকজন আনন্দের সাথে জানায় যে তারা প্রত্যহ সকালে বাড়ির কাজ শেষ করে চলে আসেন বাগানে সেখানে বিভিন্ন ধরনের কাজ শেষ করে আবার বিকাল সাড়ে ৪ টায় বাড়ি চলে যান এবং প্রতি দিন ৩ শত টাকা করে মুজুরী পান যা অন্য খানে কাজ করলে পাওয়া যেত দুই শত কুড়ি টাকা থেকে আড়াই শত টাকা আর এখানে পাওয়া যায় তিন শত টাকা। আবার কাজ পেতে কোন দোড়ঝাপ পোহাতে হয় না।আর এখানে প্রতিদিন কাজ করে যে টাকা পাওয়া যায় তা থেকে সংসারের খরচ  ও ছেলে মেয়েদের কোন রকম ভাবে পড়ালেখা খরচ হয়ে যায়।

এদিকে খুচরা ব্যাবসায়ীরা বলেন, আমানুল্লাহর বাগান থেকে আমরা বড়ই কিনে বাজারে বিক্রি করেও বেশি লাভবান হচ্ছি আমরা কারণ হিসাবে বলেন,অন্য কোন বাজার থেকে বড়ই কিনতে যা খরচ হয় তার চেয়ে এখানে কেজি প্রতি পাঁচ থেকে সাত টাকা কম দরে পায় তাই আমাদের ও লাভের অংশ টা একটু বেশি থাকে।

এবিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার সঞ্জয় দেবনাথ বলেন, করনাইট ব্লকের কৃষক আমানুল্লাহ কে আমাদের উপসহকারী কৃষি অফিসার সকল ধরনের পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করেন এবং সময় পেলে আমিও বাগান পরিদর্শনে যায়।বড়ই চাষ করে ৭/৮ মাসের ব্যবধানে আমানুল্লাহ প্রায় চার থেকে পাঁচ লক্ষ টাকার আয় করতে পারবেন।এবং বিভিন্ন পুষ্টির চাহিদা মেটানো সম্ভব।তাই এলাকার অনেক শিক্ষিত ছেলে মেয়ে বেকার বসে না থেকে জমি লিজ নিয়ে হলেও বাগান করে টাকা আয় করতে পারেন এবং এজন্য আমারা সকল প্রকার সহযোগিতা করবো কৃষি অফিস থেকে।

 

Exif_JPEG_420
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
বিষয়: * বড়ই চাষ * রাণীশংকৈল
লাইভ রেডিও
সর্বশেষ সংবাদ