নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ভাগই সরকারের সব অর্জনকে খেয়ে ফেলবে: মেনন

 

 

 

সৈয়দ আমিরুজ্জামান, বিশেষ প্রতিনিধি | ঢাকা, ১১ মার্চ ২০২২ : নির্বাচনকালীন সরকার নয়, নির্বাচনে যাতে মানুষ কোন প্রভাব ও হস্তক্ষেপ ছাড়া ভোট দিতে পারে সেটা নিশ্চিত করতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ। বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতা এখন ক্ষুদ্র অতি ধনী ও সামরিক-বেসামরিক আমলাতন্ত্রের কর্তৃত্বাধীন হয়ে পরেছে। তারা ইচ্ছামত কখনও এদল, কখনও ওদলকে ক্ষমতায় আসতে নির্বাচনী ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করে চলেছে। দেশের মানুষের ভোট প্রদান এখন তাদের হাতে বন্দী। এই অবস্থা থেকে নির্বাচনী ব্যবস্থাকে পুনরুদ্ধার করে স্বাধীন, নিরপেক্ষ কার্যকর নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রথমবারের মত আইনি কাঠামোয় নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে এখন সেই যোগ্যতার পরিচয় দিতে হবে।

 

শুক্রবার (১১ মার্চ ২০২২) সকালে ঢাকা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতির ভাষণে পার্টির সভাপতি কমরেড রাশেদ খান মেনন এমপি এসব কথা বলেন।

মেনন বলেন, নির্বাচনই শেষ কথা নয়, বরং মানুষের ভাতের অধিকার নিশ্চিত করা একইসাথে কর্তব্য। বর্তমান লুটেরা ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রেখে সেটা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, যুদ্ধের জন্য জিনিষের মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে এটা ঠিক নয়। খুবই পরিকল্পিতভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিষের দাম বাড়ানো হয়েছে। সরকার যদি এর নিয়ন্ত্রণ না করেন তখন এই মূল্যবৃদ্ধির ভাগই সরকারের সব অর্জনকে খেয়ে ফেলবে।

মেনন আগামী ১৩ থেকে ২০ তারিখ পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধির বিরুদ্ধে দেশব্যাপী বিক্ষোভ অনুষ্ঠানের আহবান জানিয়ে বলেন, জনগণের দাবিকে উপহাস করা, তাকে দমানোর চেষ্টা ব্যুমেরাং হয়ে দেখা দেবে।

মেনন ১৯৪৮-এর ১১ মার্চের ভাষা আন্দোলনের প্রথম প্রকাশের উল্লেখ করে বলেন, এর মধ্য দিয়ে বাঙালী জাতীয় চেতনার উন্মেষের সূত্রপাত হয়েছিল। বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে সেটাই একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে রূপ নিয়েছিল।

সভার সূচনা বক্তব্যে মেনন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীসহ পাকিস্তানী আমলের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সকল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

এর আগে করোনাকালে পার্টি ও দেশ বিদেশের বিশিষ্টজনদের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন পলিটব্যুরোর সদস্য কমরেড কামরূল আহসান। সম্প্রতি বিশ্বপরিস্থিতির উপর আন্তর্জাতিক প্রস্তাব উত্থাপন করেন পলিটব্যুরোর সদস্য কমরেড আলী আহমেদ এনামুল হক এমরান।

পলিটব্যুরোর সদস্য কমরেড নুর আহমদ বকুলের সঞ্চালনায় ও গণশিল্পী সংস্থার সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্যদিয়ে সভার সূচনা হয়।

দেশের বাইরে চিকিৎসাধীন পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড ফজলে হোসেন বাদশা এমপি তার ভিডিও বক্তব্যে বলেন, ওয়ার্কার্স পার্টিই এদেশের বামপন্থী মূল ধারা। ওয়ার্কার্স পার্টিই মস্কো-পিকিং পন্থার দিকে না তাকিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছে ও সকল গণসংগ্রামে অগ্রভাগে থেকেছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
বিষয়: * মেনন * সরকার
লাইভ রেডিও
সর্বশেষ সংবাদ