কমিউনিস্ট পার্টির চারদিনব্যাপী দ্বাদশ কংগ্রেসের উদ্বোধন শুরু হচ্ছে কাল

বিশেষ প্রতিনিধি : বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির  দ্বাদশ কংগ্রেস কাল শুরু হচ্ছে। এদিন সকাল ১০টায় গুলিস্তান মহানগর নাট্য মঞ্চে উদ্বোধনের মাধ্যমে কংগ্রেসের কার্যক্রম শুরু হবে।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি নিখিল ভারত কমিউনিস্ট পার্টির উত্তরাধিকারী সংগঠন। ১৯২৫ সালের ২৬ ডিসেম্বর কানপুরে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি গঠিত হয়।
জন্মলগ্ন থেকেই ভারতে ব্রিটিশ সরকারের দমন নীতির শিকার কমিউনিস্ট পার্টি বেশির ভাগ সময়েই গোপনে কাজ করেছে। ১৯৩৪ সালে কমিউনিস্ট পার্টিকে প্রথম নিষিদ্ধ করা হয়, যা পরে ১৯৪২ সালে প্রত্যাহার হয়। ভারত ভাগের পর ১৯৪৭ সালে ঢাকায় ৭ সদস্যের একটি আঞ্চলিক কমিটি গঠন করা হয়। পরের বছর কলকাতায় অনুষ্ঠিত ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির দ্বিতীয় কংগ্রেসে পূর্ববঙ্গ ও পশ্চিম পাকিস্তান থেকে আগত কাউন্সিলররা ৬ মার্চ পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টি গঠন করেন। একই দিনে পূর্ববঙ্গের কাউন্সিলরগণ ১৯ সদস্যের পূর্ববঙ্গ প্রাদেশিক কমিটি গঠন করেন, যার সম্পাদক নির্বাচিত হন খোকা রায়। ১৯৭৩ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় কংগ্রেসে দলের একটি নতুন গঠনতন্ত্র গৃহীত হয়। কংগ্রেসে মণি সিংহকে সভাপতি ও মোহাম্মদ ফরহাদকে সাধারণ সম্পাদক করে ২৬ সদস্যের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি নির্বাচিত হয়।
১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের  হত্যাকান্ডের পর  প্রকাশ্য প্রতিবাদ করে কমিউনিস্ট পার্টি। ওই সময় পার্টির নেতা-কর্মীরা সামরিক সরকারের কঠোর নিপীড়নের শিকার হন। পার্টির কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতারা গ্রেপ্তার হন। অনেকের বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি হয়। ১৯৭৭ সালের অক্টোবর মাসে কমিউনিস্ট পার্টি ফের নিষিদ্ধ হয়। পরের বছর সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও পার্টির নেতা-কর্মীদের মুক্তি দেয়া হয়।
সিপিবি ১৯৮৩ সালে এরশাদের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে গঠিত ১৫ দলীয় জোটে যোগ দেয়। ১৯৮৬ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কমিউনিস্ট পার্টি ৫টি আসনে জয়লাভ করে। ১৯৯০ সালে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্বদানে সিপিবি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সিপিবি‘র এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী কাল সকাল ১০টায় ঢাকা মহানগর নাট্যমঞ্চে সারাদেশ থেকে আগত প্রতিনিধি পর্যবেক্ষকদের নিয়ে কংগ্রেসের উদ্বোধনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
শুরুতেই দ্বাদশ কংগ্রেস প্রস্তুতি কমিটির সাংস্কৃতিক উপ-পরিষদ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করবে। জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে কংগ্রেসের উদ্বোধন ঘোষিত হবে।  পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম যথাক্রমে জাতীয় পতাকা ও পার্টির পতাকা উত্তোলন করবেন।
উদ্বোধনী সমাবেশের পর বিকাল ৩টায় গুলিস্তানের কাজী বশির মিলনায়তনে (মহানগর নাট্যমঞ্চ) সাংগঠনিক অধিবেশন শুরু হবে এবং চলবে ২৮ ফেব্রুয়ারি বিকেল পর্যন্ত।  কংগ্রেসের শেষ অধিবেশনে আগামী ৪ বছরের জন্য কেন্দ্রীয় কমিটি ও কন্ট্রোল কমিশন নির্বাচন করা হবে এবং জাতীয় পরিষদ ঘোষণা করা হবে। কংগ্রেস চলাকালে প্রতিদিন বিকেল চারটায় গণমাধ্যম কেন্দ্রে মুখপাত্রগণ সংবাদ ব্রিফিং করবেন। কংগ্রেস চলাকালীন প্রত্যেকদিন সন্ধ্যে ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মহানগর নাট্যমঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলবে। অনুষ্ঠানে দেশের বরেণ্য শিল্পীরা অংশ নেবেন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
২৫-২৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির চারদিনব্যাপী দ্বাদশ কংগ্রেসের সফলতা কামনা করেছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য, আরপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান।
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
বিষয়: * কমিউনিস্ট পার্টি * কাজী বশির মিলনায়তন * গুলিস্তান মহানগর নাট্য মঞ্চ * বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
লাইভ রেডিও
সর্বশেষ সংবাদ