ব্রহ্মপুত্রে নাব্যতা সংকট, নৌকা চালক ও যাত্রীদের বিড়ম্বনা

 

 

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারীর ব্রহ্মপুত্র নদের নাব্যতা সংকটে নৌ চলাচলে বিড়ম্বনার সৃষ্টি হয়েছে। চলতি মৌসুমে ব্রহ্মপুত্র নদের নাব্যতা অসাভাবিক ভাবে হ্রাস পাওয়ায় কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা জামালপুর জেলার ৮টি উপজেলার প্রায় অর্ধশতাধিক নৌ-পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে করে নৌ-পথে চলাচলকারী মানুষের দুর্ভোগের পাশাপাশি যোগ হয়েছে চরম ভোগান্তির। কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী, রৌমারী, রাজিবপুর, উলিপুর ও কুড়িগ্রাম সদর, গাইবান্ধা, ফুলছড়ি, জামালপুরের ইসলামপুর ও দেওয়ানগঞ্জ, উপজেলার সাথে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম নৌ-পথ। তবে বিভিন্ন কারনসহ নাব্যতা- সংকটের কারনে জামালপুরের সাথে নৌ যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, বন্যা নেমে যাওয়া এবং শীতের শুরু থেকে পানি কমার সাথে সাথে শতশত বালুচর জেগে ওঠায় বন্ধ হয়ে গেছে বেশকিছু নৌ-রুট। চিলমারী উপজেলায় থেকে ইতি মধ্যে কর্ত্তিমারীসহ বেশ কয়েকটি নৌ-রুট বন্ধ হয়ে পড়েছে এবং বিভিন্ন রুটে ঝুঁকি নিয়ে নৌকা চলাচল করলেও বিড়ম্বনায় পড়ছে যাত্রীরা। চিলমারী রমনা ঘাট ও নৌ বন্দর সুত্রে জানা গেছে, বর্তমানে রমনা ঘাট থেকে রাজিবপুরে ২টি, রৌমারী ৪টি, কোদাল কাটি ১টি, অষ্টমীর চর ২টি, নয়ারহাটে ২টি এবং চিলমারী ইউনিয়নে ২টি স্যালো ইঞ্জিন চালিত নৌকা ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে। নৌকার মাঝি শাহজামাল, আনয়াল হক, শাহিনসহ অনেকে জানায়, বর্তমানে রাজিবপুর, তারাবর, শাখাহাতি, ভাটিয়ারচর, কড়াইবরিশাল, কর্তিমারী ও নালিতাখাতা এলাকায় নৌকা ডুবোচরে নিয়মিত আটকা পড়ছে। ফলে নৌকা চালক ও যাত্রীদেরকে বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে।

এ ছাড়াও নদীতে নাব্যতা না থাকার কারণে ভারতীয় পণ্যবাহী জাহাজ গুলো ব্রহ্মপুত্র নদ দিয়ে স্বাচ্ছন্দে চলাচল করতে পারছে না। স্যালো ইঞ্জিন চালিত নৌকা মালিকরা জানায়, বিভিন্ন রুটে কোনও প্রকার ড্রেজিং এর ব্যবস্থা না থাকায় অসংখ্য ডুবোচর নদের গতিপথ পরিবর্তন এবং নৌরুট গুলোতে চর জেগে উঠায় নৌ-পথ ীণ হয়ে এসেছে। ফলে নৌ-যানগুলোকে অতিরিক্ত পথ ঘুরে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। বড় বড় ডুবোচর নাব্যতা হ্রাসের স্থানগুলোকে চিহ্নিত করে জরুরী ভিত্তিতে ড্রেজিং করা না হলে চিলমারীর অভ্যন্তরীণ নৌ-রুট গুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়তে পারে। এতে বিপাকে পড়বে এই সকল রুট চলাচলকারী ইঞ্জিনচালিত নৌকা মালিক, শ্রমিক ও যাত্রীরা। নৌকার মালিকরা জানান, চলতি ও শুকনা মৌসুমে নব্যতা হ্রাস ও নৌ-রুট বন্ধ হয়ে পড়ায় শতশত মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ে এবং বন্ধ হয়ে যায় আয় রোজগার। এব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএ চিলমারী পাইলট মাইদুল ইসলাম বলেন, নাব্যতার সংকটের কারনে বিভিন্ন চ্যানেল বন্ধ হয়ে গেছে এবং কিছুটা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে তবে নদী বন্দরের কার্যক্রম চালুসহ ড্রেজিং হলে সমস্যার গুলো আর থাকবেনা।

 

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
বিষয়: * নৌকা * ব্রহ্মপুত্র * যাত্রী
লাইভ রেডিও
সর্বশেষ সংবাদ