বেশি কিছু করতে না পারলেও জীবন চলে যাবে: কোয়েল পাখির সফল খামারি জাহিদ

মোঃ জাহিদ হাসান মিলু, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: কেউ যদি কোয়েল পাখির খামার করে তাহলে জীবনে বেশি কিছু করতে না পারলেও সেই আয় দিয়ে তার জীবন চলে যাবে বলে আশা ও ধারণা ব্যাক্ত করেন, ঠাকুরগাঁওয়ের সফল উদ্যোক্তা কোয়েল পাখির খামারি জাহিদুল ইসলাম জাহিদ।

ঠাকুরগাঁও শহরের শাহপাড়া এলাকার বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম জাহিদ। শহরের হাজিপাড়ায় বিসমিল্লাহ ড্রাইওয়াশের দোকান করে দিনযাপন করছিলেন তিনি। করোনায় লকডাউন থাকায় দীর্ঘদিন দোকান বন্ধ রাখতে হয় তাকে। আয়ের পথ না থাকাই কোয়েল পাখি পালনের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। অবশেষে কোয়েল পাখির খামারে পেলেন নিজের সফলতা। এই উদ্যোক্তার খামারের মাধ্যমে যেমন হয়েছে নিজের একটি অবস্থান ঠিক তেমনি অনেকের হয়েছে কর্মসংস্থান।

গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সালান্দর এলাকায় ১ একর জমি লিজ নিয়ে বগুড়ায় নিজের চাচার থেকে ৩ হাজার ৫শ টি কোয়েল পাখি নিয়ে আসেন তিনি।  “বিসমিল্লাহ কোয়েল পাখির খামার” নাম দিয়ে পাখির খামার শুরু করেন উদ্যোক্তা জাহিদুল ইসলাম। প্রায় ৩ লাখ টাকা ব্যয় করে শুরু করেছিলেন খামারটি। খামার দেয়ার পরে ঠান্ডার কারণে  বেশ কিছু পাখি মারা যায় তার। তবে তাও হাল ছাড়ে দেননি তিনি। অবশেষে খামার দেওয়ার ২ মাস পরেই কোয়েলের ডিম বিক্রি করে লাভের মুখ দেখেন এই উদ্যোক্তা। পাখির ডিম ও পাখি বিক্রয়ে অধিক লাভের আশায় রয়েছেন এই উদ্যোক্তা। তবে সরকারি সহযোগিতা পেলে খামারের পরিধি বৃদ্ধি করে আরও অনেকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে বলে আশাও করছেন উদ্যোক্তা জাহিদ।

বর্তমানে জাহিদুলের খামারে ২৫শ থেকে ৩ হাজার কোয়েল পাখি রয়েছে। প্রতিদিন খামার থেকে ২২শ থেকে ২৩শ ডিম সংগ্রহ করে বাজারজাত করা হচ্ছে। আর এই খামারে দেখা শুনা করছেন পাঁচজন কর্মচারী। যার ফলে তাদেরও তৈরী হয়েছে একটি আয়ের উৎস। প্রতিদিন খামারে পাখিদের জন্য চার বেলায় ৭০ কেজির মতো খাবার দেয়া হয়। দিনে ২ বার ও রাতে ২ বার করে চার বার লেয়ার ফিড ৭০% ও সোনালী স্টেটার ফিড ৩০% খাবার দেয়া হয় পাখিগুলোকে।

এই খামারে কাজ করে নিজে চলতে পারে ও সংসারও ভালোভাবে চলে বলে জানান, খামারে কর্মরত আলী হোসেন। তিনি বলেন, এখানে পাখি গুলো লালন-পালন করতে অনেক ভালো ও আনন্দ লাগে তার। সামর্থ হলে ভবিষৎতে তিনিও এমন একটি কোয়েল পাখির খামার দিতে চান।

খামারের ম্যানেজারের দায়িত্বে থাকা শরিফুল ইসলাম শরিফ জানান, খামারটি প্রথমে ৩ হাজার ৫’শ পাখি নিয়ে শুরু করা হয়েছিল। ঠান্ডার কারণে কিছু পাখি মারা যায়। এখন ২ হাজার ৫শ’র মতো পাখি আছে। এতে পাখিরা যা ডিম দেয় তা বিক্রয় করে আমাদের বেতন ভাতা দিয়ে মালিকেরও কিছু আয় হয়। তিনি আরও জানান, দরিদ্র ভাবে খামারটি চালু করলেও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এটিকে আরও বড় আকারে করা যাবে ও তাতে আমাদের দেখে আশে পাশে আরও অনেকে খামার করার উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে।

কোয়েল পাখির খামার করে সমাজে বেকারত্ব দূর করা যাবে বলে জানান, এই সফল উদ্যোক্তা জাহিদুল ইসলাম জাহিদ। জাহিদুল ইসলাম জাহিদ বলেন, করোনাকালে হতাশ হয়ে গেলেও আমার চাচার পরামর্শ নিয়ে এই কোয়েল পাখির খামার শুরু করি। প্রথম দিকে মাংসের জন্য পাখি লালন-পালন বা উৎপাদন করলেও সেটার তেমন চাহিদা না থাকায় পরে ডিম উৎপাদনের জন্য পাখি পোষা শুরু করি। এখন ডিম বিক্রয় করে আমার এখানে কর্মরত কর্মচারিদের বেতন দিয়ে আল্লাহর রহমতে আমারও সংসার ভালো চলছে।

যারা কোয়েল পাখির খামার করতে চান বা করতে আগ্রহী তাদের উদ্দেশ্যে করে তিনি আরও বলেন, তারা বাড়তি কিছু না করতে পারলেও এই আয় দিয়ে তাদের জীবন চলবে। আমিতো জমি লিজ নিয়ে খামার করেছি তাই আমার খরচ বেশি হয়। কেউ নিজের জমিতে খামার করলে তারা আরও বেশি লাভবান হতে পারবে। তবে খামার দেওয়ার আগে ডিম বা পাখি বিক্রয় করার রাস্তা তৈরি করতে হবে বলে পরামর্শ তার।

জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডাঃ মোঃ আবুল কালাম আজাদ বলেন, কোয়েল পাখির খামার একটি লাভজনক ব্যবসা। যদি এটি কেও করে তাহলে তার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। তাদের মাধ্যমে আরও নতুন নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি হবে। যেটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে খুবই জরুরি। তবে সব থেকে যে অঞ্চলে এটির ভোক্তা বেশি সেই অঞ্চলে এমন খামার করলে বেশি লাভবান হওয়া যায়।

তিনি আরও জানান, যারা এমন খামার করেন বা করতে চান তাদেরকে আগে আমরা বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রশিক্ষিত করি। এছাড়াও খামারের জন্য চিকিৎসা দিয়ে থাকি এবং সেগুলো আমরা মনিটরিং করি।

আবুল কালাম আজাদ বলেন, জাহিদুলের মতো আমরা যদি আরও নতুন নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি করতে পারি তাহলে দেশে বেকারত্ব দূরীকরণে এটি অগ্রণি ভূমিকা রাখবে বলে আশা করেন এই কর্মকর্তা।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
বিষয়: * কোয়েল পাখি * জাহিদ
লাইভ রেডিও
সর্বশেষ সংবাদ