পাতার ফাঁকে উকি দিচ্ছে মুকুল, পরিচর্যায় ব্যস্ত বাগান মালিকরা

 

হাবিব আহমেদ, রাজশাহী
আমের রাজধানী নামে খ্যাত রাজশাহী। সেই রাজধানীর আমের গাছে পাতার ফাঁকে উজিক দিতে শুরু করেছে মুকুল। ইতোমধ্যে গাছে গাছে দেখা যাচ্ছে মুকুরের সমরোহ। মুকুলের ঘ্্রানে মৌ মৌ গন্ধ ছড়াচ্ছে চারদিক। মৌ মাছিরাও আমের মুকুলের ঘ্রান নিতে ছুটে আসছে। এখনো পর্যাপ্ত গাছে আমের মুকুল দেখা না গেলেও আর এক সপ্তাহ পর থেকে রাজশাহীর সব আমের গাছেই মুকুলে দেখা পাওয়া যাবে। গাছে মুকুল দেখা দেয়ায় এবার অনেক আগে থেকেই ব্যবসায়ী ও বাগান মালিকরা আমের গাছ পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। যদিও সারা বছর আম বাগানের পরিচর্যা করা হয়। আর এই সময়টা এলেই বাগান মালিকরা একটু বেশি গাছ পরীচর্যায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এবারো তার ব্যতিক্রম হয়নি। গাছে মুকুল দেখা দেয়ার পর থেকে শুরু হয়েছে আম গাছের পরিচর্যার কাজ। তবে বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা আশা করছেন গত বছরের চেয়ে এবার গাছে বেশি মুকুল আসছে। সেই লক্ষ্য নিয়ে তারা গাছ পরিচর্যায় কীটনাশক প্রয়োগ থেকে শুরু করে সেচের কাজটিও করছেন।

রাজশাহীর অর্থনীতির চাকা ঘোরাতে সব চেয়ে বড় ভুমিকা রাখে এ অঞ্চলের আম। প্রতিবছর কোটি কোটি টাকার আম বিক্রি হয় রাজশাহী জেলা থেকে। রাজশাহীর আম শুধু দেশেই নয়, এই আম বাইরের বেশ কয়েকটি দেশেও রপ্তানি হয়। আয় হয় বিদেশী মুদ্রা। আমের মওসুমকে ঘিরে গাড়ে উঠে নতুন নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। কর্মসংস্থান হয় হাজার হাজার মানুষের। আমের মওসুম এলে এ অঞ্চলের অর্থনীতির দার খুলে যায়। আমের মওসুমকে ঘিরে গ্রামীন অর্থনীতি চাঙ্গা হয়ে উঠে। বছরঘুরে আবারো আসছে আমের মওসুম। গাছে গাছে পাকার ফাঁকে ফাঁকে উকি দিতে শুরু করে মুকুল। এই মুকুল শুধু মুকুল নয়, এই মুকুল মানুষের অর্থনীতির চাকা ঘোরানোর মেশিন বলেও অনেকে মনে করেন।

এদিকে রাজশাহীতে গত ডিসেম্বর মাস পড়ার পর থেকে কিছু কিছু গাছে আমের মুকুল এসেছে। জানুয়ারী পড়ার পর গাছে ফুটতে শুরু করেছে মুকুল। মূলত জানুয়ারী মাসে সব গাছে মুকুল আসবে। সেই লক্ষে অনেক আগে থেকে বাগান মালিকরা আম গাছের পরিচর্যা শুরু করেন। যদিও আমের গাছ বছরের প্রায় সব সময় পরিচর্যার মধ্যে রাখতে হয়। তারপরও নভেম্বর থেকে শুরু হয় গাছের মুল পরিচর্যার কাজ। এবারো রাজশাহীতে বাগান মালিক ও ব্যবসায়ী ভাল ফলন পাওয়ার আসায় অনেক আগে থেকেই আম গাছের পরিচর্যা শুরু করেন। বর্তমান গাছে কীটনাশক প্রয়োগ থেকে শুরু করে সেচ কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা। দেখা গেছে, বাগান মালিকরা গাছে ভাল মুকুল আসার জন্য বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক ব্যবহার করছেন। অনেক এলাকার বড় বড় বাগান মালিকরা পুরো মওসুমজুড়ে গাছের পরিচর্যা করার জন্য লোকজন স্থায়ী ভাবে রেখে দিয়েছেন।

অপরদিকে রাজশাহীতে আগের চেয়ে আম বাগানের পরিধি খুব একটা বাড়েনি। গত বছর যে পরিমান জমিতে আমের বাগান ছিল এবারও প্রায় একই সমান রয়েছে। তবে গত বছরের চেয়ে কিছুটা বাগান বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে রাজশাহী কৃষি অফিস। রাজশাহী জেলা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, গত মৌসুমে রাজশাহীতে ১৭ হাজার ৯৪৩ হেক্টর জমিতে আম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। আর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল হেক্টর প্রতি ১১ দশমিক নয় মেট্রিক টন। এর আগের বছর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৭ হাজার ৫৭৩ হেক্টর। এক বছরের ব্যবধানে আমের আয়তন কমলেও বর্তমান চলতি মওসুমে আমের আয়তন বেড়েছে। এবার মৌসুমে রাজশাহীতে ১৭ হাজার ৯৪৩ হেক্টর বেশি জমিতে আমের বাগান রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত আমের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়নি। কারণ মুকুল আসার পর কৃষি অফিস থেকে আমের লক্ষ্যমাত্র্যা নির্ধারণ করা হয়। কৃষি অফিস বলছে, আমের মুকুলের জন্য বর্তমান আবহাওয়া অনেকটা অনুকুলে রয়েছে। এই অবস্থা থাকলে প্রতিটি গাছে মুকুল আসবে। মুকুল ঝরে পড়ার শঙ্কাও কম থাকবে। এতে শুরু থেকেই আমের গুটি সুস্থ্যসবল ভাবেই তৈরি হবে। তবে সব গাছে মুকুল আসার পর হালকা বৃষ্টি হলেও আমের মুকুল ঝরে পড়ার কোনো শঙ্কা থাকবে না। পরপর দুইবার বৃষ্টি হলে আমের ফলন ভাল হবে এমনটাও ধারণা করছে কৃষি অফিস।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
বিষয়: * আম বাগান * পরিচর্যা * বাগান মালিক * মুকুল * রাজশাহি
লাইভ রেডিও
সর্বশেষ সংবাদ