ফের আতঙ্কের নাম অমিক্রণ, কঠোর প্রদক্ষেপ নেয়া জরুরী

 

বিশ্বব্যাপী করোনা এক ভয়ানক আতঙ্কের নাম। এই করোনা সময়ের সাথে সাথে নানা রূপে আবির্ভূত হচ্ছে। করোনার দুষ্ট বলয় থেকে বিশ্ব যেন সহজে ছাড় পাচ্ছেনা। মুক্তি মিলছে না এর করুন থাবা থেকে। নতুন করে এর রূপ বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে। করোনার এই নতুন ভয়ঙ্কর রূপের নাম ‘অমিক্রণ’। সম্প্রতি করোনাভাইরাসের এই ধরন শনাক্ত হয়। দক্ষিণ আফ্রিকায় শনাক্ত হওয়া এই নতুন ধরনের ভাইরাসের নমুনার নাম গবেষকরা রেখেছেন অমিক্রণ। অমিক্রণ অন্যসব করোনা গ্রুপের চেয়ে মারাত্মক ধরনের ভয়ানক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করছে বিশ্বকে। ইতোমধ্যে ৭৭টি দেশে ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্ব নেতারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। জাপান নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র বিধি-নিষেধ জারি করেছে। শনাক্ত হওয়া দেশ আফ্রিকাসহ ৭ দেশ ভ্রমণ না করা হয়, সে বিষয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

মহামারীতে নতুন আতঙ্ক অমিক্রণ-

কোভিড আক্রান্তের প্রায় দুই বছর হতে চললো। সমান দাপটের সাথে এই অভিশাপ পৃথিবীব্যাপী দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছে। ধনী-গরীব কোনো রাষ্ট্রই রেহাই পায়নি এর ছোবল থেকে। মৃত্যুর সংখ্যা কোটির ঘর ছাড়িয়েছে। গত দুই বছরে করোনা নানা রূপে পৃথিবীতে আক্রমণ করেছে। আলফা, বেটা, গামা, ডেল্টা তারপর এখন অমিক্রণ ভ্যারিয়েন্ট এর অস্তিত্ব শনাক্ত হয়েছে আফ্রিকায়। অমিক্রণ এখন নতুন আতঙ্কের নাম।

এই নতুন মারাত্মক ভ্যারিয়েন্ট এর বিস্তার রোধে আফ্রিকার ৭ দেশে ভ্রমণে বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে একের পর এক দেশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি প্যানেল অমিক্রণ বি১.১.৫২৯কে উদ্বেগের ভ্যারিয়েন্ট বলে আখ্যায়িত করে বিশ্বকে সতর্ক থাকতে বলেছে। প্রাথমিকভাবে এটিকে এখন পর্যন্ত অত্যান্ত সংক্রমণ ভাইরাস হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

দক্ষিণ আফ্রিকা, বতসোয়ানা, হংকং, ইসরায়েল, ইতালি ছাড়াও ইউরোপের একমাত্র দেশ হিসেবে বেলজিয়ামেও এই ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি মিলেছে। ইতিমধ্যে এই ভ্যারিয়েন্ট ৭৭টি দেশের বেশি ছড়িয়ে পড়েছে। পূর্ব আফ্রিকার দেশ মালাউই থেকে ইসরাইল আসা এক পর্যটকের শরীর পরীক্ষা করে নতুন ধরনের ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়। ফলে গেল সোমবার থেকে আফ্রিকার সাথে সাত দেশের যোগাযোগ বন্ধ করতে বাধ্য হয় জো বাইডেন। কিন্তু ইতোমধ্যে তা ৭০টির বেশি দেশ ছাড়িয়ে গেছে। ফলে বোঝা যায় কত ভয়ঙ্কর, নিদারুণ এই অমিক্রণ নামের নতুন করোনা ভ্যারিয়েন্ট। যা বাতাসের গতিবেগে ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বময়।

করোনার নতুন স্ট্রেইন অমিক্রণ ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে যেহেতু এখনও বিস্তর তথ্য পাওয়া যায়নি, তাই এর ঝুঁকি কত ভয়ানক হতে পারে তা এখনও অজানা। সংক্রামক ঝুঁকি অন্যান্য ভ্যারিয়েন্ট থেকে শতভাগ বিপদজনক। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রাথমিক ধারণা এটি অন্যান্য অত্যন্ত সংক্রমণ যোগ্য ভ্যারিয়েন্ট এর মতই মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। বর্তমান বাজারে প্রতিষেধক টিকা,খাওয়ার ক্যাপসুল রয়েছে তা এর বিরুদ্ধে কার্যকর কিনা, জানতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। এই সময়টুকুর ভেতরে বিশ্বে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এই মারাত্মক ব্যাধি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কোভিড-১৯ বিষয়ক কারিগরি কমিটির প্রধান মারিয়া ভন কারখোভ জানালেন অমিক্রণ বি১.১.২৫৯কে উদ্বেগের ভ্যারিয়েন্ট বলা হচ্ছে। কারণ, এর ভেতরে দুশ্চিন্তা করার মত কিছু বৈশিষ্ট্য দেখা গেছে। এই ভেরিয়েন্টের কিছু মিউটেশন দেখা গেছে। মিউটেশন হচ্ছে জিনগত পরিবর্তন যা সত্যিই উদ্বেগের।

 

প্রাথমিকভাবে পরিস্থিতি সামাল দিতে আফ্রিকার সাত দেশসহ নানাবিদ নিষেধারোপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ ২৭ টি দেশ।  সাময়িকভাবে এই আফ্রিকার ৭দেশ থেকে কেউ কোথাও বের হতে পারবে না। তবে এই ৭দেশ থেকে মার্কিন নাগরিকদের বের হতে পারবে বলে জানিয়েছেন জো বাইডেন। ৭ দেশের কথা বলা থাকলেও এই ভ্যারিয়েন্ট ৭০ টির বেশী দেশে শনাক্ত হওয়ার আভাস পাওয়া গেছে। যা সত্যিই দুঃখজনক।

 

এদিকে ব্রিটিশ স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ তার দেশের আইন মন্ত্রীদের বলেছেন-‘যত দ্রুত সম্ভব এই বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে অগ্রসর হওয়া উচিত।’ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দ্রুত নির্দেশ রাশিয়া সরকারের। আগামী রোববার থেকে ভ্রমণ নিষেধ করেছে দেশটি। উদ্বেগ প্রকাশ করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন বলেন-‘ নতুন স্ট্রেইন অমিক্রণ নিয়ে পরিষ্কার ধারনা না পাওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট স্থগিত রাখতে হবে।

 

অমিক্রণ নিয়ে উদ্বেগের কথা শুনিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংক্রমণ রোগ বিশেষজ্ঞ ড. অসন্থনি ফাউজি। তিনি বলেন-‘এই নতুন ভেরিয়েন্ট নিয়ে আমাদের নতুন করে ভাবতে হবে, এবং তা দ্রুত। এই নিয়ে গবেষণা করে ফলাফল হাতে না আসা পর্যন্ত আমরা এর নমুনা, সংক্রামন, ভয়াবহতা কী হতে পারে তা স্পষ্টভাবে বলতে পারিনা। তবে বিশ্বকে ফের কঠোর সতর্ক থাকতে হবে।’

 

বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করে বলেছেন-‘সাউথ আফ্রিকায় যে গতিতে এটি ছড়াচ্ছে তাতে ধরে নেয়া যায় যে, এটি আগেরগুলোর চেয়েও রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ফাঁকি দেয়ার ক্ষমতা অনেক বেশি রাখে।’

বিশ্ববাসীর সামনে অমিক্রণ চিন্তাঃ

নতুন এ করোনাভাইরাসের নাম গ্রীক ভাষায় পনেরোতম অক্ষর দিয়ে লেখা অমিক্রণ। ইংরেজি ভাষার ও দিয়ে প্রকাশ করা হয়। ভাইরাসটির সঙ্গে মিল রেখে এমন নামকরণ করা হয়েছে। অমিক্রণ এর সাথে তিনটি নাম জুড়ে দেয়া হয়েছে। ভ্যারিয়েন্ট অফ কন্সার্ন মানে   উদ্বেগের ভ্যারিয়েন্ট।

 

অমিক্রণ এর উপস্থিতি পাওয়া গেছে এমন কয়েকটি দেশে চলছে কঠোর বিধি-নিষেধ। এ বিধি নিষেধ অমান্য করলে শাস্তি মূলক ব্যবস্থা নেয়ারও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনা-১৯ বিষয়ক কারিগরি কমিটির প্রধান মারিয়া ভন কারখোভ জানালেন এ বিষয়ে কেউ অবহেলা করা উচিত নয়। করোনা-১৯ এর যে ভ্যাকসিন আবিষ্কৃত হয়েছে, মুখে খাওয়ার যে ক্যাপসুল বাজারে এসেছে তা এই নতুন ভ্যারিয়েন্ট অমিক্রনে কোনো ফল ফলবে না বলেও বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন।

জাতিসংঘের সর্তকতাঃ

জাতিসংঘের স্বাস্থ্য সংস্থা ১৯৪টি সদস্য দেশকে সংক্রমণের ঢেউ থামাতে বিশেষ গ্রুপের মানুষের মধ্যে টিকাদানের হার বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে। অপরিহার্য স্বাস্থ্যসেবা ঠিক রাখতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনার যথার্থতাও নিশ্চিত করতে বলেছে ডব্লিউএইচও । নতুন ভেরিয়েন্ট অমিক্রনের স্পাইক প্রোটিনে কমপক্ষে ৩০ থেকে ৫০ বার অভিযোজন বা মিউটেশন (জিনগত পরিবর্তন) হতে পারে। এর মধ্যে কিছু মিউটেশন খুবই উদ্বেগজনক। সে কারণে বিশ্ববাসীকে নতুন করে সতর্ক থাকতে পরামর্শ দিয়েছে জাতিসংঘ। এই নতুন ভ্যারিয়েন্ট মহামারীর গতিপথ বদলে ফের মানব সভ্যতার উপর আছড়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে। ডব্লিউএইচও  আরো উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে। এই ভ্যারিয়েন্ট অমিক্রণ এর ধরন বিশ্বের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।

অমিক্রণ তথা করোনা নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশের ভূমিকাঃ

শনাক্ত হওয়া বিপদজনক নতুন অমিক্রণ বি১.১.২৫৯ ভেরিয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ১৫টি নির্দেশনা দিয়েছে। তবে প্রাপ্ত খবরে ইতোমধ্যে বহু যাত্রী দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে বাংলাদেশে এসেছে। তাদের নাম-পরিচয় ঠিকানা ছবি মোবাইল নাম্বারসহ যাবতীয়  বিমানবন্দর ইমিগ্রেশনে রয়েছে। তথাপিও কর্মকর্তাদের কেউ কেউ কিছু টাকার খাতিরে ইমিগ্রেশন থেকে তাদের ছেড়ে দেয়। যা সত্যি দুঃখজনক।

 

১. সাউথ আফ্রিকা, নামিবিয়া, জিম্বাবুয়ে, বতসোয়ানা, এসওয়াতিনি, লেসোথো এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সময় ঘোষিত অন্যান্য আক্রান্ত দেশ থেকে আগত যাত্রীদের বন্দর সমূহে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও স্ক্রীনিং জোরদার করতে হবে।

২. সকল ধরনের সামাজিক রাজনৈতিক ধর্মীয় অন্যান্য জনসমাগম নিরুৎসাহিত করতে হবে।

৩. প্রয়োজনে বাইরে গেলে প্রত্যেক ব্যক্তিকে বাড়ির বাইরে সর্বদা সঠিক ভাবে নাক-মুখ ঢেকে মাস্ক পরাসহ সকল স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করতে হবে।

৪. রেস্তোরাঁতে বসে খাওয়ার ব্যবস্থা ধারণক্ষমতার অর্ধেক বা তার কম করতে হবে।

৫. সকল প্রকার জনসমাবেশ পর্যটন স্থান বিনোদনকেন্দ্রের কমিউনিটি সেন্টার সিনেমাহল থিয়েটার হল ও সামাজিক অনুষ্ঠানে (বিয়ে বৌ-ভাত জন্মদিন পিকনিক পার্টি সভা-সেমিনার ইত্যাদি) ধারণক্ষমতার অর্ধেক বা তার কম সংখ্যক লোক অংশগ্রহণ করতে পারবে।

৬. মসজিদসহ সকল উপসনালয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করতে হবে।

৭. গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে হবে।

৮. আক্রান্ত দেশ সমূহ থেকে আগত যাত্রীদের ১৪ দিন কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে হবে।

৯. সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সকল মাদ্রাসা, প্রাক-প্রাথমিক,প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিশ্ববিদ্যালয় ও কোচিং সেন্টারে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে হবে।

১০. সকল স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানের সেবা গ্রহীতা সেবা প্রদানকারী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সর্বদা সঠিক ভাবে নাক-মুখ ঢেকে মাস্ক পরাসহ সকল স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করতে হবে।

১১. স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভ্যাকসিন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

১২. করোনা উপসর্গ লক্ষণযুক্ত, সন্দেহজনক, নিশ্চিত করোনা, রোগীর আইসোলেশন ও করোনা পজিটিভ রোগীর ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসা অন্যান্যদের কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

১৩. কোভিড-১৯ এর লক্ষণ যুক্ত ব্যক্তিকে আইসোলেশনে রাখা এবং তার নমুনা পরীক্ষার জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে সহায়তা করা যেতে পারে।

১৪. অফিসে প্রবেশ এবং অবস্থানকালীন সময়ে বাধ্যতামূলকভাবে নাক-মুখ ঢেকে মাস্ক পরা নিশ্চিত  করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা দাপ্তরিকভাবে নিশ্চিত করতে হবে।

১৫. কোভিড-১৯ রোগ নিয়ন্ত্রণ ও হ্রাস করার নিমিত্তে কমিউনিটি পর্যায়ে মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার সচেতনতা তৈরির জন্য মাইকিং ও প্রচারণা চালানো যেতে পারে। এক্ষেত্রে প্রয়োজনে মসজিদ মন্দির গির্জা প্যাগোডাসহ উপাসনা কেন্দ্রে মাইক ব্যবহার করা যেতে পারে এবং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করা যেতে পারে।

কোনভাবেই যেন অবহেলা না হয় সেদিকে সজাগ রেখে দেশের প্রত্যেক নাগরিক স্ব স্ব স্থান থেকে দায়িত্ব পালন করে, সচেতনতা সৃষ্টি করে, নিজেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে আশা করি নিজেও অসুস্থ থাকতে পারবে অপরকেও সুস্থ নিরাপদে রাখতে পারবেন। নয়তো অমিক্রণ নামের বিশ্বব্যাপী আরেক আতঙ্ক আর একটি অভিশাপ হয়ে যেভাবে এসেছে তাতে পৃথিবী আগের তুলনায় আরও চার গুণ বেশি ক্ষতি হতে পারে।*

 

লেখক কবি প্রাবন্ধিক কলামিস্ট ও সাংবাদিক

সম্পাদকঃ আবীর আকাশ জার্নাল

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
বিষয়: * অমিক্রণ * আতঙ্ক * জরুরী * ফের
লাইভ রেডিও
সর্বশেষ সংবাদ