বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা

আবু সায়েম মোহাম্মদ সা’-আদাত উল করীম:

গণপরিবহনকে প্রাধান্য দিয়ে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণে কাজ করা হচ্ছে- মোঃ নজরুল ইসলাম, সচিব সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগ

বর্তমান সরকার গণপরিবহন ব্যবস্থাকে প্রাধান্য দিয়ে মেট্রোরেল, বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট, বাস রুট ফ্রাঞ্চাইজের আওতায় এবং উন্নত আধুনিক বাস সার্ভিসের মাধ্যমে গণপরিবহন ভিত্তিক শহর গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। এক্ষেত্রে সিটি কর্পোরেশনকেও এগিয়ে আসতে হবে। ফুটপাতগুলো হাঁটার উপযোগী হিসেবে গড়ে তোলা প্রয়োজন। সড়কে গাড়ির সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আমাদের স্টাডি করা প্রয়োজন। ডিটিসিএ সকল অংশীজনদের সাথে নিয়ে সমীক্ষা পরিচালনার উদ্যোগ গ্রহণ করলে মন্ত্রণালয় থেকে সহযোগিতা করা হবে।  বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িম্ক্তু দিবস ২০২১ উপলক্ষে আয়োজিত কর্মশালায় সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোঃ নজরুল ইসলাম এ কথা বলেন।প্রতি বছর ২২ সেপ্টেম্বর ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) এর সমন্বয়ে সরকারি এবং বেসরকারি সংস্থার সম্মিলিত উদ্যোগে বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত  দিবস উদযাপন করা হয়। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য হল “গণপরিবহনে ও হেঁটে চলি, ব্যক্তিগত গাড়ি সীমিত করি”। আয়োজিত কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ এর নির্বাহী পরিচালক খন্দকার রাকিবুর রহমান। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন, বিআরটিসি এর চেয়ারম্যান মোঃ তাজুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোঃ মুনিবুর রহমান, সড়ক  ও জনপথ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী জনাব সবুজ উদ্দিন খান, ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রতিনিধি, ডিএমটিসিএল এর কোম্পানী সচিব, বিআরটি কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. এস এম সালেহউদ্দিন, ভিত্তি স্থপতিবৃন্দ লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্থপতি ইকবাল হাবিব, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. আকতার মাহমুদ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মুসলেহ উদ্দিন হাসান, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের দূর্ঘটনা গবেষণা কেন্দ্র এর পরিচালক ড. মোঃ হাদীউজ্জামান, ইউএনডিপি এর টাউন ম্যানেজার মারুফ হোসেন, জনাব সাইফুদ্দিন আহমেদ, পরিচালক, ডাব্লিউবিবি টাস্ট্র এবং সরকারি- বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ।

ডিটিসিএ এর নির্বাহী পরিচালক খন্দকার রাকিবুর রহমান বলেন, মেট্রোরেল, বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট, বাস রুট ফ্রাঞ্চাইজ, প্রয়োজনীয় সড়ক অবকাঠামো নির্মাণ এবং মানসম্মত ফুটপাত তৈরিসহ বিভিন্ন ধরনের কাজ চলমান রয়েছে। এগুলি সম্পন্ন হলে ব্যক্তিগত ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করার জন্য পর্যায়ক্রমে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি আমাদের মেট্রোরেল স্টেশন, বিআরটি স্টেশন ও বাস স্টপেজ এর সাথে সংযুক্ত সকল সড়কে অন্তত ১০ মিনিটের নিরবচ্ছিন্ন প্রশস্ত  হাঁটাপথ (ফুটপাত) নির্মাণ করার উদ্যোগ গ্রহন করা প্রয়োজন। সেই সাথে ব্যক্তিগত গাড়ির উপর কনজেশন চার্জ, বাস টার্মিনালের জন্য জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া গ্রহণ,  ঢাকা মহানগরে রাস্তার ধারণক্ষমতা অনুযায়ী গাড়ির সংখ্যা নির্ধারণে সমীক্ষা জরীপ পরিচালনা করা প্রয়োজন। পরিশেষে তিনি পরিবহন সিস্টেম ও পরিবহন অবকাঠামো উন্নয়নের সাথে সকল সংস্থাকে শুরু থেকেই ডিটিসিএ’র সাথে সমন্বয় সাধনের কখা বলেন।

ড. এস এম সালেহউদ্দিন বলেন, ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবসের তাৎপর্য আমাদের বুঝতে হবে। পথচারীকে প্রাধান্য দিয়ে গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন করতে হবে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়িকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, আমাদের যেটুকু সড়ক আছে তার সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে হবে। এনএমটি ও পথচারীকে প্রাধান্য দিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। সড়কে যে মাধ্যমগুলোতে মানুষ বেশি যাতায়াত করে সেই মাধ্যমকে প্রাধান্য দিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

 

ড. আকতার মাহমুদ বলেন, কার ফ্রি ডে এর দর্শন সকল ক্ষেত্রে কাজে লাগাতে হবে। ঢাকা শহরে প্রায় ৪০% ট্রিপ ২ কি:মি: এর মধ্যে সংঘটিত হয়। প্রতিটি ট্রিপ হেঁটে শুরু হয়। তাই পথচারীকে প্রাধান্য দিয়ে ফুটপাতগুলোকে চলাচলের উপযোগী রাখতে হবে।

ড. মোঃ হাদীউজ্জামান বলেন, ব্যক্তিগত গাড়ির প্রবৃদ্ধিও হার ৫.২%। ২০৩০ সালে সাড়ে ৩ লক্ষ্য ব্যক্তিগত গাড়ি রাস্তায় চলাচল করবে। এ বিশাল সংখ্যক ব্যক্তিগত গাড়ি পার্কিং এর জন্য যে পরিমাণ জায়গা প্রয়োজন হবে তা আমরা দিতে পারবো না। এজন্যই এখনই সময় ব্যক্তিগত গাড়িকে নিয়ন্ত্রণ করা।

ধন্যবাদসহ-(নিখিল ভদ্র)আহ্বায়ক, প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটিবিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস উদযাপন কমিটি

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
বিষয়: * গাড়ি * গাড়িমুক্ত * দিবস