প্রধানমন্ত্রীর হাতে ছেলের স্মারকগ্রন্থ

       
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দৌহিত্র, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জ্যেষ্ঠ সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্মদিনে ‘সজীব ওয়াজেদ জয়: তারুণ্যদীপ্ত গর্বিত পথচলা’ স্মারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে দ্বিভাষিক গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন করেন।

মুক্তিযুদ্ধের সেই উত্তাল সময়ে ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে গর্ভে ধারণ, আর তার জন্মের পরের কঠিন সময়টার গল্প শোনান মা শেখ হাসিনা। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জনপ্রশাসন পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি বলেন, “আজকে যেই ডিজিটাল বাংলাদেশে আমি আপনাদের সাথে কথা বলছি, এটা কিন্তু জয়েরই ধারণা, জয়েরই চিন্তা।

মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে ১৯৭১ সালের ২৭ জুলাই ঢাকায় পরমাণু বিজ্ঞানী এম এ ওয়াজেদ মিয়া ও শেখ হাসিনা দম্পতির ঘরে জন্ম নেন সজীব ওয়াজেদ জয়। মঙ্গলবার তার জীবনের ৫০ বছর পূর্ণ হল।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করে আসা জয় ২০০৭ সালে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে ‘গ্লোবাল লিডার অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ নির্বাচিত হন।

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনার ক্ষেত্রে জয়ের বড় ধরনের ভূমিকার কথা বলেন আওয়ামী লীগের নেতারা। তাদের ভাষ্য, নির্বাচনী ইশতেহারে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’র ধারণা জয়ের উদ্যোগেই যুক্ত হয়েছিল। আর তা তরুণ প্রজন্মের মন কেড়ে নেয়।

ছেলের নাম কীভাবে ঠিক হয়েছিল, সেই স্মৃতি স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে বলেন, সেদিন ছিল ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ, প্রথম সন্তান তার গর্ভে। ২৩ মার্চ আপনারা জানেন পাকিস্তান দিবস হিসেবে ইয়াহিয়া খান তখন ঢাকায়। সারা বাংলাদেশে কিন্তু পাকিস্তানি পতাকা কেউ ওড়ায়নি। সেইদিন সমস্ত বাড়িতে বাংলাদেশের পতাকা ওড়ানো হয়েছিল। ৩২ নম্বর বাড়িতেও সেদিন আমার বাবা বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করলেন। যদিও পাকিস্তানের সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খান তখন ঢাকায় ছিল, কিন্তু তাকে সবাই অস্বীকার করেছিল।

বঙ্গবন্ধুর হাত, পায়ের নখ কেটে দেওয়া আমার নিয়মিত কাজ ছিল। তিনি যখন বিশ্রাম নিতে বসেছেন দুপুরে, আমি তখন একটা মগে পানি নিয়ে তার হাতের নখ কেটে দিচ্ছি। তখন তিনি বললেন- ‘হ্যাঁ ভালোভাবে কেটে দে। জানি না আর এই সুযোগ পাবি কিনা। তবে তোর ছেলে হবে। এবং সেই ছেলে স্বাধীন বাংলাদেশে জন্ম নেবে। তার নাম জয় রাখবি’।

এরপর ২৫ মার্চ রাতে ঢাকায় বর্বর গণহত্যা শুরু করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। গ্রেপ্তার হওয়ার আগে ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যান বঙ্গবন্ধু। বাঙালি ঝাঁপিয়ে পড়ে মুক্তিযুদ্ধে।

কিছুদিন পর বঙ্গবন্ধুর স্ত্রী বেগম ফজিলাতুননেছা মুজিব, ছেলে শেখ জামাল ও শেখ রাসেল, মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাকে গ্রেপ্তার করে ১৮ নম্বর রোডের একটি একতলা বাসায় আটকে রাখে পাকিস্তানিরা।

সেসব দিনের কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, যখন আমার সন্তান প্রসবের সময় হয়, আমাকে পাকিস্তানি মিলিটারিরা হাসপাতালে যেতে দিয়েছিল, কিন্তু আমার মাকে যেতে দেয়নি।

ওই সময় হাসপাতাল থেকেই মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমি যখন বন্দি, সেই বন্দি অবস্থায় জয়ের জন্ম। এবং তার নাম জয়ই আমরা রেখেছিলাম।

তিনি বলেন, হাসপাতাল থেকে বন্দিশালায় ফিরে আসার পর একদিন বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকার সময় পাকিস্তানি এক সেনা কর্মকর্তা তার ছেলের নাম জানতে চান। শেখ হাসিনা ছেলের নাম বলতেই সেই সেনা কর্মকর্তা নামের অর্থ জানতে চান।

শেখ হাসিনা তাকে বলেছিলেন, জয় মানে ‘ভিক্টরি’। তখন সেই পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তা খুব ক্ষেপে যায় এবং শিশু জয়কেও গালি দেয় বলে জানান তার মা।
তিনি বলেন, “কাজেই এই রকম একটা পরিবেশেই কিন্তু জয়ের জন্ম। সেখানে আমরা ফ্লোরেই থাকতাম, কোনো প্রাইভেসি ছিল না। একতলা একটা বাড়ি। ওই অবস্থার মধ্যে খাওয়া দাওয়ারও কোনো ঠিক ছিল না।

ওকে নিয়ে আমি যখন একটা বাড়ি থেকে আরেকটা বাড়িতে আশ্রয় নিই, তখন জানি না কীভাবে বেঁচে ছিলাম। খাওয়া দাওয়া কোনো কিছুরই ঠিক ছিল না। কেবল আল্লাহর কাছে দোয়া চাইতাম, আমার বাচ্চাটা যেন একটা সুস্থ বাচ্চা হয়। আমার মা সব সময় সেই দোয়াই করতেন।

শেখ হাসিনা বলেন, আজকে সেই জয়ের জন্মদিন। পঞ্চাশ বছর তার বয়স হল। এই করোনার কারণে আমরা সবাই এক হতে পারলাম না। এটা আরেকটা দুঃখ। আপনারা এই দিনটি স্মরণ করছেন, সেজন্য আপনাদের ধন্যবাদ জানাই।

সজীব ওয়াজেদ জয়ের বর্ণাঢ্য জীবনের ওপর বেশ কিছু নিবন্ধ, সংবাদচিত্র ও দুর্লভ আলোকচিত্র রয়েছে এই বইয়ে। বইটির ইংরেজি সংস্করণের নাম ‘সজীব ওয়াজেদ জয়: আ স্পিরিটেড গ্রেসফুল জার্নি’। ১৬০ পৃষ্ঠার বইটির উপদেষ্টা সম্পাদক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

বইটি সম্পাদনা করেছেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ এবং পদ্মা ব্যাংকের চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিজ সরাফাত। জয়ীতা প্রকাশনী থেকে বইটি প্রকাশ করেছেন ইয়াসিন কবীর জয়। ই-বুক আকারেও (https://gorbitopothchola.net/) বইটি পড়া যাচ্ছে। স্মারকগ্রন্থের প্রচ্ছদ ও গ্রন্থ পরিকল্পনা করেছেন শাহ্‌রিয়ার খান বর্ণ। বইটির দাম তিন হাজার টাকা।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন