হাসপাতাল নির্মাণ শেষ হয়েও এক বছর ধরে উদ্বোধনের অপেক্ষায় 

                                                                                                            নবাবগঞ্জে মা ও শিশু হাসপাতাল

 

প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের দোর গোড়ায় চিকিৎসা সেবা পৌছে দেওয়ার লক্ষ্যে সরকারি অর্থায়নে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় কৈলাইল ইউনিয়নের তেলেঙ্গা গ্রামে নির্মাণ করা হয় মা ও শিশু হাসপাতাল। ৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি নির্মাণ কাজ শেষ করে এক বছর আগে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান খান ট্রেডার্স সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দিয়েছেন। তবে এখনো হাসপাতালটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়নি। ফলে স্থানীয়দের চিকিৎসা নিতে অন্যত্র যেতে হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ চিকিৎসা সেবা দিতে না পারলে তবে কার স্বার্থে সরকার এত টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে হাসপাতালটি।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার কৈলাইল ইউনিয়নের তেলেঙ্গা গ্রামের বড় রাস্তার পাশে ৫২ শতক জমির উপর নির্মাণ করা হয়েছে ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু হাসপাতালটি। হাসপাতালের পরিবেশ খুব সুন্দর, পরিপাটি। দু’তলা ভবন পাশে রয়েছে ফ্যামিলি কোয়াটার। চারিদিকে দেয়াল দিয়ে ঘেরা প্রবেশ পথে রয়েছে নিরাপত্তা বিশিষ্ট বড় ফটক। ভিতরে রোগীর কক্ষে বিছানা বালিশ দিয়ে সাজানো থাকলেও নেই রোগীর পরীক্ষা নিরীক্ষা করানোর যন্ত্রপাতি। এ ছাড়া ফার্মাসিস্ট কক্ষ ও অন্যান্য কক্ষগুলো বন্ধ পাওয়া যায়।

কাগজে কলমে হাসপাতালটিতে ২ জন চিকিৎসক, ১ জন মেডিকেল টেকনোলজি, ২ জন নার্স, ৪জন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা, ১ জন ফার্মাসিষ্ট, ১ জন অফিস সহকারী, ১ জন আয়া, ১ জন ড্রাইভার, ১ জন পিয়ন ও ১ জন নিরাপত্তা প্রহরী থাকার কথা।

জানা যায়, বর্তমানে ডেপুটেশনে ১ জন চিকিৎসক ১ জন নার্স ১ জন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা ও ১ জন আয়া দিয়ে সপ্তাহে দুই দিন খোলা রাখে হাসপাতালটি। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ এ পর্যন্ত কোনো ডাক্তার নার্স কাউকে দেখি না। শুধু একজন নিরাপত্তা কর্মীকে তার কাজ করতে দেখা যায়। অনেকে চিকিৎসা নিতে আসলেও কাউকে না পেয়ে চলে যায়।

 

জমিদাতা বাহাদুর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এ এলাকার মানুষের সেবার জন্য আমরা ৫২ শতক জমি দিলাম। অনেক দিন ধইরা হাসপাতাল বন্ধ রইছে কবে চালু অইবো জানি না। রোগীরা আহে আর ফেরত যায়। লাভ কি অইলো আমাগো এতগুলি জমি দিয়া মানুষের যদি কোনো কামে না লাগে।’

এ বিষয়ে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, আমাদের সব প্রস্তুতি নেয়া আছে। করোনার কারণে আমরা উদ্বোধন করতে পারতেছিনা। আশা করি খুব শিগগিরই উদ্বোধনের তারিখ ঘোষণা করা হবে। পরীক্ষা নিরীক্ষার যন্ত্রপাতির বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে হাসপাতালের যেসব যন্ত্রপাতি প্রয়োজন তার চাহিদা পাঠানো হয়েছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন