দূতাবাস, আন্তর্জাতিক সংগঠনের সুরক্ষা দেয়ার প্রতিশ্রুতি তালেবানের

আফগানিস্তানের তালেবান নেতারা সুইজারল্যান্ডের একটি প্রতিনিধি দলের সাথে সাক্ষাত করেছেন এবং আফগানিস্তানের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন বলে তালেবানের কাতারের কার্যালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন।

তালেবানের মুখপাত্র সুহাইল শাহীন লিখেছেন, ‘শনিবার ইউরোপীয় বিভাগের প্রধান পিও (রাজনৈতিক কার্যালয়) মোল্লা এ ওয়াসিক এবং তার সহযোগী প্রতিনিধিদল আফগানিস্তানে সুইজারল্যান্ডের অনাবাসী রাষ্ট্রদূত বেনেডিক্ট ডি সেরজাত এবং কাতারে নিযুক্ত সুইস রাষ্ট্রদূত এডগার দোরিগ ও তার প্রতিনিধিদলের সাথে সাক্ষাত করেছেন।’

তিনি বলেন, আফগানিস্তানের চলমান পরিস্থিতি, বর্তমান শান্তি প্রক্রিয়া এবং মানবিক ও উন্নয়ন সহায়তা নিয়ে উভয় পক্ষ আলোচনা করেছেন। দূতাবাস, মানবিক সংস্থা, কূটনীতিক এবং কর্মীদের নিরাপত্তা সম্পর্কিত বিষয়গুলি নিয়েও আলোচনা করা হয়েছিল বলে তিনি জানান। সুহেল আরও বলেন, আফগানিস্তানের ইসলামিক আমিরাতের প্রতিনিধিরা পুনর্বার বলেছেন যে দূতাবাস এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো আফগানিস্তান ও বিশ্বের মধ্যে সম্পর্ক এবং যোগাযোগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের সুরক্ষা আমাদের জাতীয় স্বার্থের অংশ হিসাবে বিবেচনা করি।’ এদিকে, কাতারের রাজধানী দোহায় আফগান সরকার ও তালেবানের মধ্যে দু’দিনব্যাপী সংলাপ কোনো ফলাফল ছাড়াই শেষ হয়েছে। তবে সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে দু’পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। রোববার রাতে আফগান সরকার ও তালেবান পক্ষের প্রতিনিধিদলের প্রধানরা এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ সমঝোতার কথা জানান। আফগান সরকারের প্রতিনিধিদলের প্রধান আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহ বলেন, দোহা বৈঠকে দু’পক্ষ তাদের মতামত স্পষ্ট করে তুলে ধরেছে এবং এ বিষয়ে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আবার আলোচনায় বসার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

আব্দুল্লাহর বক্তব্য শেষ হওয়ার পর সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন তালেবান প্রতিনিধিদলের প্রধান মোল্লা আব্দুল গনি বারাদার। এর কিছুক্ষণ পর সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত তালেবান মুখপাত্র মোহাম্মাদ নাঈম এক টুইটার বার্তায় ছয় ধারাবিশিষ্ট একটি বিবৃতি প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি বলেন, দোহা বৈঠকে দু’পক্ষ আফগানিস্তানের অবকাঠামো রক্ষা করার পাশাপাশি বেসামরিক নাগরিকদের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সম্মত হয়েছে।

দোহা শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার পর ধারনা করা হচ্ছিল আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হবে দু’পক্ষ। কিন্তু যৌথ সংবাদ সম্মেলনে কোনো পক্ষই সেরকম কোনো ঘোষণা দেয়নি। এছাড়া, দু’পক্ষ এমন একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করবে যাতে পারস্পরিক আস্থা, সংবিধান ও আফগান রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার একটি রোডম্যাপ ঘোষিত হবে বলেও আশা করা হচ্ছিল। কিন্তু তেমন কোনো ঘোষণাও আসেনি।

তালেবান ও আফগান সরকারের প্রতিনিধিদল দু’দিনই আলোচনা শেষে এ সংক্রান্ত বিষয়বস্তু, আলোচনার পরিবেশ ইত্যাদি বিষয় গোপন রাখার চেষ্টা করেছে। দোহা শান্তি আলোচনার উদ্বোধনি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকরা উপস্থিত থাকলেও আলোচনার বাকি সেশনসগুলোতে আফগানিস্তানের দুই আলোচক পক্ষ ও কাতারের আফগান বিষয়ক বিষয়ক প্রতিনিধি ছাড়া আর কাউকে রাখা হয়নি। রুদ্ধদ্বার কক্ষে দু’দিনের বাকি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সূত্র : ট্রিবিউন।

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন