আগামীকাল পবিত্র ঈদুল আজহা

স্বাস্থ্যবিধি মেনে মসজিদে জামাত

রাত পোহালেই আগামীকাল বুধবার দেশব্যাপী উপযাপিত হবে ১৪৪২ হিজরীর পবিত্র ঈদুল আজহা। বৈশ্বিক করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। করোনা সংক্রমণ রোধে এরই মধ্যে ঈদের জামাত নিয়ে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। করোনা ভাইরাস মহামারিতে এবারও ঈদগাহ বা খোলা জায়গায় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে । যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে সারা দেশের মসজিদগুলোতে ঈদ জামাত অনুঠিত হবে। এ ব্যাপারে সকল প্রস্তুতিসম্পন্ন করা হয়েছে। ঈদের জামাত শেষে কোলাকুলি এবং পরস্পর হাত মেলানো পরিহার করতে বলা হয়েছে। গতকাল সোমবার পবিত্র হজ পালিত হয়েছে। সউদী আরবে আজ মঙ্গলবার পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে।

করোনা ভাইরাস মহামারিতে মৃত্যুর হার দিন দিন বাড়ছে। গতকাল সোমবারও সারা দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ২৩১ জন নারী-পুরুষ মারা গেছেন। করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় গতবারের মতো এবারও রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দান এবং ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে দেশে সর্ববৃহৎ ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে এবার পাঁচটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। মহাখালীস্থ মসজিদে গাউছুল আজম কমপ্লেক্সে এবারও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে চারটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

বর্তমান করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদের খতিব, ইমাম, ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ঈদুল আজহার জামাত মসজিদে নাকি ঈদগাহে কিংবা খোলা জায়গায় আয়োজন করা হবে তা জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয় করে স্থানীয় প্রশাসন নির্ধারণ করার কথা। জানা গেছে, স্থানীয় প্রশাসন করোনা সংক্রমণের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় জননিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ঈদগাহে বা খোলা জায়গায় ঈদ জামাতের অনুমতি দেয়নি। প্রয়োজনে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে মসজিদে একাধিক ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। উল্লেখ্য, দেশে গত বছর ৮ মার্চ করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ার পর ওই বছরের দুই ঈদের জামাতই মসজিদে আদায় করতে হয়। এ বছর গত ১৪ মে ঈদুল ফিতরের নামাজের জামাতও হয়েছিল মসজিদেই। ঈদুল আজহায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম জামাত সকাল ৭টায়, দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮টায়, তৃতীয় জামাত সকাল ৯টায়, চতুর্থ জামাত সকাল ১০টায়, পঞ্চম ও সর্বশেষ জামাত বেলা পৌনে ১১টায় হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা বলা হয়েছে।

তবে ঈদের জামাত আয়োজনে বেশ কয়েকটি শর্ত মানতে হবে। সেগুলো হলো মসজিদে ঈদের নামাজ আয়োজনের ক্ষেত্রে কার্পেট বিছানো যাবে না। নামাজের আগে সম্পূর্ণ মসজিদ জীবাণুনাশক দিয়ে জীবাণুমুক্ত করতে হবে। মুসল্লিরা নিজ দায়িত্বে জায়নামাজ নিয়ে আসবেন। এছাড়া প্রত্যেককে নিজ নিজ বাসা থেকে অজু করে মসজিদে আসতে হবে।

শর্তের মধ্যে আরও রয়েছে মসজিদের অজুর স্থানে সাবান, পানি ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখা এবং প্রবেশদ্বারেও হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা হাত ধোঁয়ার ব্যবস্থাসহ সাবান ও পানি রাখতে হবে। মুসল্লিদের অবশ্যই মাস্ক পরে আসতে হবে। ঈদের নামাজ আদায়ের সময় কাতারে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি অবশ্যই অনুসরণ করে দাঁড়াতে হবে। শিশু, বয়োবৃদ্ধ, অসুস্থ ব্যক্তি এবং অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের ঈদের নামাজের জামাতে অংশগ্রহণে নিরুৎসাহিত করছে ধর্মমন্ত্রণালয়। সর্বসাধারণের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন