২২০ রানের বড় জয় টাইগারদের

         

অনেক দিন পর টেস্টে ম্যাচে জয়ের দেখা পেল বাংলাদেশ। দুর্বল জিম্বাবুয়েকে ২২০ রানের বড় ব্যবধানে হারাল। জয়ের ২২১ রান দূরে থেকেই অলআউট জিম্বাবুয়ে। জিম্বাবুয়ের কফিনে শেষ পেরেকটি মারেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

জিম্বাবুয়ে অবিশ্বাস্য কিছু করতে পারেনি। এক সেশনেরও বেশি সময় বাকি রেখেই ম্যাচ হেরেছে স্বাগতিকরা। ২৫৬ রানে অলআউট হয়ে ২২০ রানে হেরে গেছে জিম্বাবুয়ে। বিদায়ী ম্যাচে উপহার পেয়ে গেলেন মাহমুদউল্লাহ।

প্রথম ইনিংসে ছিল স্পিনারদের বাংলাদেশের স্পিনারদের দাপট। ১০টি উইকেটের মধ্যেই ৯টিই নিয়েছিলেন স্পিনাররা। তবে দ্বিতীয় ইনিংসের পেসাররাও ভাগ বসান। তাসকিনের চার, এবাদতের একটি অর্থাৎ অর্ধেক উইকেট পেসারদেরই। বাকি ৫টির ১টি সাকিবের বাকি সবগুলো মিরাজের। মিরাজ প্রথম ইনিংসে পেয়েছিলেন ৫ উইকেট।

রোববার সকালে তিন–তিনটি ক্যাচ পড়েছিল, তাতেও শেষ পর্যন্ত তেমন কিছু যায়–আসেনি বাংলাদেশের। মধ্যাহৃ বিরতিতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত ৭ উইকেট ১৭৬ রান তুলেছে জিম্বাবুয়ে। জয়ের জন্য ৪৭৭ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমেছে স্বাগতিকেরা। একপ্রান্তে টিকে ছিলেন ডোনাল্ড তিরিপানো, তবে তাকে বাধা হয়ে থাকতে দেননি ইবাদত। ৫২ রানে ফিরেছেন তিরিপানো।

আর আগে পঞ্চম দিনের শুরুতে দুই প্রান্তেই স্পিনার এনেছিলেন অধিনায়ক মুমিনুল হক। মেহেদী মিরাজের সঙ্গে বোলিং আক্রমণে এসেছিলেন সাকিব আল হাসান। তবে প্রথম ব্রেক–থ্রু পেতে ১৮তম ওভার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে বাংলাদেশকে।

এর মাঝে দুবার বেঁচেছেন ডিওন মায়ার্স, একবার ডোনাল্ড তিরিপানো। সাকিবের বলে উইকেটের পেছনে মায়ার্সের (২২ রানে) ক্যাচ ছেড়েছেন লিটন দাস। মায়ার্সের ফিরতি ক্যাচ নিতে পারেননি তাসকিন। শেষ পর্যন্ত শর্ট মিডউইকেটে মিরাজের বলে সাদমান ইসলামের হাতে ক্যাচ দেন মায়ার্স, ২৬ রান করে। দুই বল পর টিমাইসেন মারুমা হয়েছেন এলবিডব্লু, মিরাজের বলের লাইনই বুঝতে পারেননি তিনি।

পরের দুই উইকেট নিয়েছেন তাসকিন আহমেদ। আগুনে স্পেলে রয় কাইয়া ও রেজিস চাকাভাকে ফিরিয়েছেন এই পেসার। কাইয়া ফুললেংথ থেকে ভেতরের দিকে ঢোকা বল মিস করে হয়েছেন এলবিডব্লু। আর চাকাভা ফুললেংথের বলে ব্যাট-প্যাড কিছুই না লাগাতে পেরে হয়েছেন বোল্ড। ভিক্টর নিয়াউচিও বোল্ড হয়েছিলেন। তবে তাসকিনে ফ্রন্টফুট ছিল পপিং ক্রিজের বাইরে। নিয়াউচিকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে এরপর।

অনন্য রেকর্ডে মাহমুদউল্লাহ
টেস্টে নিজের শেষ ম্যাচে অন্তত দেড় শ রানের ইনিংস খেলার তৃপ্তি খুব বেশি ব্যাটসম্যান পাননি। মাহমুদউল্লাহকে নিয়ে এ ক্লাবের সদস্যসংখ্যা মাত্র ১০ জন। সর্বশেষ তিনটি ঘটনাতেই জড়িয়ে আছে বাংলাদেশ।

এক দিক থেকে অনন্য মাহমুদউল্লাহ। এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৫৯ জন ক্রিকেটার টেস্ট খেলার স্বাদ পেয়েছেন। কিন্তু মাহমুদউল্লাহর মতো ইনিংসে পাঁচ উইকেট পেয়ে শুরু এবং দেড় শ রানের ইনিংস খেলে ক্যারিয়ার শেষ করতে পারেননি কেউ। যেমনটা আশা ছিল সেভাবে এগোয়নি টেস্ট ক্যারিয়ার, কিন্তু বিদায়বেলায় এ তৃপ্তি নিয়ে তো যেতে পারছেন মাহমুদউল্লাহ!

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন