সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদ নেতা শেখ হাসিনা। ফাইল ছবি

প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকার উপকূলীয় অঞ্চল জুড়ে কৃত্রিম ম্যানগ্রোভ অরণ্য সৃষ্টির পাশাপাশি সর্বাধিক অগ্রাধিকার দিয়ে এর জীববৈচিত্র্য রক্ষার মাধ্যমে সুন্দরবন সম্প্রসারণের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বুধবার একাদশ জাতীয় সংসদের এয়োদশ অধিবেশনে (২০২১ সালের বাজেট অধিবেশন) তার জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সংরক্ষিত আসনের মহিলা সংসদ সদস্য বেগম সুলতানা নাদিরার প্রশ্নের জবাবে জাতীয় সংসদকে এ তথ্য জানান। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়নে যে পদক্ষেপই নেওয়া হোক না কেন, সুন্দরবন এবং এর জীববৈচিত্র যেন কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এ বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হয়।’

‘সুন্দরবন এবং এর জীববৈচিত্র রক্ষার বিষয়ে বর্তমান সরকার সবসময় আন্তরিক ও বদ্ধপরিকর,’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সুন্দরবনের আয়তন বাড়ানোর জন্য কৃত্রিম ম্যানগ্রোভ সৃষ্টির উদ্যোগ নিয়ে সমগ্র উপকূলীয় অঞ্চলে এর বিস্তৃতি ঘটানোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সুন্দরবনের বৃক্ষাদি এবং বন্যপ্রাণী রক্ষার জন্য তথা বন অপরাধ দমনের জন্য স্মার্ট পেট্রোলিংসহ নানাবিধ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।’এ সময় সুন্দরবনের উন্নয়নে সরকারের নেওয়া নানান পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী ।

বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ক্যামেরা ট্র্যাপিংয়ের মাধ্যমে ২০১৫ সালে বাঘ শুমারি অনুযায়ী সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ছিল ১০৬টি। ২০১৮ সালের শুমারিতে এর সংখ্যা ১১৪টি পাওয়া গেছে। সুন্দরবনের কার্বন মজুদের পরিমাণ ২০০৯ সালের ১০৬ মিলিয়ন টন থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৯ সালে ১৩৯ মিলিয়ন টন হয়েছে।

তিনি বলেন, জীব বৈচিত্রের আধার সুন্দরবনে এখন ৩৩৪ প্রজাতির উদ্ভিদ, ১৬৫ প্রজাতির শৈবাল, ১৩ প্রজাতির অর্কিড এবং ৩৭৫ প্রজাতির বন্যপ্রাণী রয়েছে। বন্যপ্রাণীর মধ্যে ৪২ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৩৫ প্রজাতির সরীসৃপ, ৮ প্রজাতির উভচর, ৩১৫ প্রজাতির পাখি, ২১০ প্রজাতির মাছ, ২৪ প্রজাতির চিংড়ি ও ১৪ প্রজাতির কাঁকড়া আছে।

 

সরকারদলীয় সংসদ সদস্য সহিদুজ্জামানের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকারের কার্যকর ও ফলপ্রসূ পদক্ষেপে গত ১১ বছরে দেশে মাছের উৎপাদন ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি বলেন, জাতিসংঘের ২০২০ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী স্বাদু পানির মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ দ্বিতীয় স্থানে। এখন আমরা মাছ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। বর্তমানে দৈনিক ৬০ গ্রামে চাহিদার বিপরীতে আমরা ৬২ দশমিক ৫৮ গ্রাম মাছ গ্রহণ করছি।

 

তরিকত ফেডারেশনের সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেনের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাজধানী ঢাকাসহ দেশের যেসব স্থানে অবস্থান করে স্বাধীনতা সংগ্রাম ও বিভিন্ন আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সেসব স্থান বিশেষভাবে সংরক্ষণের জন্য বর্তমান সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।’

তিনি বলেন, ‘সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের স্মরণে ভাস্কর্য নির্মাণ করা হবে। ইতিমধ্যে ১৫০ ফুট উঁচু গ্লাস টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে। যশোরের রাজগঞ্জ বাজারে ও ফরিদপুরের আম্বিকা ময়দানে বঙ্গবন্ধু স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হবে। ঢাকার মিন্টো রোড ও আব্দুল গণি রোডের ভবনগুলোতে বঙ্গবন্ধুর অবস্থান ছিল, বিধায় সেগুলো সংরক্ষণের বিষয়ে আইনানুগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন