দেশে টিকা উৎপাদন নিয়ে সংশয়

ট্রায়াল প্রটোকল নিয়ে গ্লোব বায়োটেক এথিক্যাল কমিটির ভিন্নমত

 

দেশে করোনার টিকা উৎপাদন নিয়ে সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে। বঙ্গভ্যাক্স ভ্যাকসিনের ট্রায়াল প্রটোকল নিয়ে গ্লোব বায়োটেক ইথিক্যাল কমিটির মধ্যে ভিন্নমত দেখা দিয়েছে। ইথিক্যাল কমিটির সদস্যরা বলেন, টিকা যেহেতু মানবদেহে প্রবেশ করবে, তাই সব প্রটোকল মানা হয়েছে কি না, তা দেখতে হবে। ঝুঁকি আছে কি না, তা দেখতে কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে।

হিউম্যান ট্রায়ালের আগে বানর বা শিম্পাঞ্জির ওপর পরীক্ষা করতে হবে। এমন কিছু শর্ত পূরণ করলেই বঙ্গভ্যাক্সকে হিউম্যান ট্রায়ালের অনুমতি দেবে ইথিক্যাল কমিটি।

 

অন্যদিকে গ্লোব বায়োটেকের চেয়ারম্যান মো. হারুনুর রশিদ বলেন, ফাইজার ও মডার্না যে প্রক্রিয়ায় করোনার টিকা উৎপাদন করেছে, বঙ্গভ্যাক্সও একই প্রক্রিয়ায় উত্পাদনে সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ইঁদুরের ওপর ট্রায়ালে তারা সফল হয়েছেন। তবে বানর বা শিম্পাঞ্জির ওপর ট্রায়াল দিতে অনেক জটিলতা আছে। চীনে দুটি জায়গায় এই পরীক্ষা করা হয়। উন্নয়নশীল দেশগুলোতেও এ ধরনের ট্রায়ালের একই অবস্থা। এক্ষেত্রে এই পরীক্ষার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সরকার টু সরকার যোগাযোগ করা হচ্ছে

 

এদিকে বাংলাদেশের করোনা ভাইরাসের টিকা ‘বঙ্গভ্যাক্স’ এবং ভারত ও চীনের দুটি টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের অনুমোদন দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ মেডিক্যাল রিসার্চ কাউন্সিল (বিএমআরসি)। তবে এজন্য তিনটি কোম্পানিকেই কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছে। বিএমআরসির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘গতকাল বুধবার বিএমআরসির ইথিক্যাল বোর্ডে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের অনুমোদন দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তবে কতগুলো নিয়ম অবশ্যই পালন করতে হবে। ফেজ ওয়ানের আগে বানর বা শিম্পাঞ্জির ওপর পরীক্ষা করতে হবে। এদের ওপর টিকার কার্যকারিতা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সমস্ত কাগজপত্র বিএমআরসিতে জমা দিতে হবে। আমরা প্রত্যেক সিআরওকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানিয়ে দেব। যে তিনটি কোম্পানি কথা বলেছে, তাদের প্রত্যেককে চিঠি দেব। তিনটি প্রতিষ্ঠান হচ্ছে বঙ্গভ্যাক্স, ভারত বায়োটেক ও চীনের একটি প্রতিষ্ঠান।’ গতকাল সংসদ অধিবেশনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, যে শর্ত দেওয়া হয়েছে, তা পূরণ করলেই বঙ্গভ্যাক্সকে হিউম্যান ট্রায়ালের জন্য অনুমতি দেওয়া হবে। বিএমআরসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী বলেন, হিউম্যান ট্রায়ালের জন্য গ্লোব বায়োটেক আবেদন জমা দিয়েছে। ইথিক্যাল কমিটি যে সিদ্ধান্ত দেবে, সেটা আমরা বাস্তবায়ন করব।

 

তবে হিউম্যান ট্রায়ালের আগে বানর বা শিম্পাঞ্জির ওপর ট্রায়াল দিতে হবে।’ গ্লোব বায়োটেক লিমিটেডের মান নিয়ন্ত্রণ বিভাগের প্রধান ড. মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘ফাইজার ও মডার্না যে প্রক্রিয়ায় ভ্যাকসিন উত্পাদন করছে, সেই মানদণ্ডে বঙ্গভ্যাক্স উত্পাদন করা হবে। হিউম্যান ট্রায়ালের অনুমতি পেলে আমরা সফল হবই। আমরা নিশ্চিত যে, বঙ্গভ্যাক্স মানবদেহে প্রয়োগে কোনো ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হবে না।’

বাংলাদেশের কোম্পানি গ্লোব বায়োটেকের উদ্ভাবিত করোনা ভাইরাসের সম্ভাব্য টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল বা মানবদেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের নীতিগত অনুমোদনের জন্য বিএমআরসিতে গত জানুয়ারিতে আবেদন জমা দেওয়া হয়। পরে বিএমআরসির চাহিদা অনুযায়ী তথ্য-উপাত্ত যোগ করে ফেব্রুয়ারিতে সংশোধিত আবেদন জমা দেওয়া হয়। দেশে করোনা ভাইরাসের মহামারি শুরুর পর গত বছরের ২ জুলাই ওষুধ প্রস্ততকারী গ্লোব ফার্মার সহযোগী প্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়োটেক টিকা তৈরির কাজ শুরুর কথা জানায়।

 

ছয় থেকে সাত মাসের মধ্যে এই টিকা বাজারে আনা যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেছিল তারা। সেদিন সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, খরগোশের ওপর এই টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ ‘সফল’ হয়েছে। মানবদেহেও তা সফল হবে বলে আশাবাদী তারা। পরে গত বছরের ৫ অক্টোবর গ্লোব বায়োটেক জানায়, ইঁদুরের ওপর প্রয়োগ করেও তাদের টিকা ‘কার্যকর ও সম্পূর্ণ নিরাপদ’ প্রমাণিত হয়েছে।

 

গ্লোব বায়োটেকের উদ্ভাবিত তিনটি সম্ভাব্য টিকা পরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন ক্যান্ডিডেট তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। শুরুতে গ্লোব বায়োটেক তাদের টিকার নাম দেয় ‘ব্যানকোভিড’। পরে তা পরিবর্তন করে ‘বঙ্গভ্যাক্স’ রাখা হয়। টিকা উদ্ভাবনে সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন প্রতিষ্ঠানের সিইও ড. কাকন নাগ এবং সিওও ড. নাজনীন সুলতানা।

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন