একই ছাদের নীচে তৈরি হচ্ছে তিন ধর্মের উপাসনালয়

ধর্মীয় সম্প্রীতি জোরদারে জার্মানির বার্লিনে নেয়া হচ্ছে অভিনব উদ্যোগ। একই ছাদের নীচে তৈরি হবে খ্রিষ্টান, ইহুদি আর মুসলিম উপাসনালয়। বিশ্ব যখন ক্রমাগত ধর্মীয় সংঘাত আর সংঘর্ষে লিপ্ত, তখন বার্লিনের কিছু শান্তিপ্রিয় মানুষের উদ্যোগে তৈরি হতে যাচ্ছে ‘হাউজ অব ওয়ান’ নামে এ প্রার্থনাগৃহ।

একই ছাদের নীচে তৈরি হবে গির্জা, সিনাগগ ও মসজিদ। উদ্দেশ্যে-ধর্মীয় ভেদাভেদ ভুলে সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া। ইটপাথরে মোড়ানো স্থাপনাটির উচ্চতা হবে ৪০ মিটার। নির্মাণ খরচ পড়বে প্রায় ৪৪ মিলিয়ন ইউরো। নাম হবে ‘হাউজ অব ওয়ান’।

তিনদিকে থাকবে তিন ধর্মের উপাসনালয়। আর মাঝখানে হবে বড় একটি হলরুম। যেখানে মতবিনিময় হবে ধর্মপরায়ণ ইহুদী, খ্রিস্টান ও মুসলিমদের মধ্যে।

ভিন্ন ধর্মের মানুষ কী ভাবছেন, কীভাবে ভাবছেন, তা জানাও জরুরী। মতবিনিময় সমাজের জন্যই কল্যাণকর। আমরা এখানে তাই করার উদ্যোগ নিয়েছি।

খ্রিষ্টান সংখ্যাগরিষ্ঠ জার্মানিতে গেলো সাতশো বছরে এমন স্থাপনা এই প্রথম। বার্লিন প্রশাসনের ধারণা, এতে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়বে সেখানে। এতে আনন্দিত দেশটির সাধারণ মানুষ।

ধর্মীয় ভেদাভেদ ভুলে যাওয়ার এটাই সূত্রপাত। এখান থেকেই মিলনের জয়গান শুরু হোক। শুরু হোক একই সুতোয় মালা গাঁথা।

প্রায় ১০ বছর আগে পরিকল্পনা করা হয় এই স্থাপনার। যার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয় ২৭ মে।

এটি পারস্পরিক সহিষ্ণুতার জায়গা। হাউজ অব ওয়ান- খ্রিষ্টান, ইহুদি ও মুসলমানদেরকে একই ছায়াতলে আবদ্ধ করবে। সবাই একসাথে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সম্পর্কে মিলিত হবে।

হাউজ-অব-ওয়ান বার্লিনের এমন এক জায়গায় স্থাপিত হচ্ছে, তের শতাব্দিতে যেখানে ছিল ঐতিহাসিক গির্জা প্যাট্রিকার্চ। ১৯৬৪ সালে তা মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছিল তৎকালীন পূর্ব জার্মানের কমিউনিস্ট সরকার।

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন