কানাডায় এক পরিবারের চার মুসলিমকে হত্যা

কানাডায় একটি মুসলিম পরিবারের চার সদস্যকে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। মুসলিম হওয়ায় তাদের হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কানাডিয়ান পুলিশ। কানাডার অন্টারিও প্রদেশের লন্ডন শহরে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেছেন, কানাডায় ইসলামোফোবিয়ার স্থান নেই।

জানা গেছে, গত রোববার রাতে ওই মুসলিম পরিবারের সদস্যরা প্রতিদিনের মতো হাঁটতে বেরিয়েছিলেন। বাবা, মা, মেয়ে, ছেলে এবং নানি। এমন সময় একটি ট্রাক এসে তাদের ধাক্কা মারে। পুলিশ জানিয়েছে, যে ব্যক্তি ট্রাক চালাচ্ছিলেন, তিনি ইচ্ছা করে এবং হত্যার উদ্দেশ্য নিয়ে এই পরিবারকে ধাক্কা মেরেছে। ঘটনাটি ঘটেছে অন্টারিও-র লন্ডনে। পুলিশ প্রধান স্টিভ উইলিয়ামস জানিয়েছেন, ‘আমাদের বিশ্বাস, ২০ বছর বয়সী গাড়িচালক ইচ্ছে করেই এই কাজ করেছে। আমাদের বিশ্বাস, এই পরিবারকে সে টার্গেট করেছিল, কারণ তারা মুসলিম। এটা হেট ক্রাইম।’ হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো টুইটারে লিখেছেন, ‘কানাডায় ইসলামোফোবিয়ার (ইসলাম ধর্মের প্রতি ভীতি) কোনো স্থান নেই। এবং এই ধরনের ঘটনা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত। মুসলিমদের বলতে চাই আমরা আপনাদের পাশে আছি, কানাডা আপনাদের পাশে আছে। অন্টারিওর ঘটনায় আমি আতঙ্কিত। আমি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে আছি, হাসপাতালে ভর্তি সেই শিশুর পাশে আছি।’

প্রত্যক্ষদর্শীরা গ্লোবাল নিউজ নেটওয়ার্ককে বলেছেন, ট্রাকটা রাস্তার অন্যদিক থেকে আসে এবং হাঁটার জন্য নির্ধারিত জায়গায় গিয়ে পরিবারের মানুষদের ধাক্কা মারে। চালককে কাছেই একটি শপিং মলের পার্কিং থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে হত্যা ও হত্যার চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। ডিটেকটিভ সুপার পল ওয়েইট জানিয়েছেন, পুলিশ এখন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ আনবে কি না, তা খতিয়ে দেখছে। ঘটনার পরে গ্রেপ্তার হওয়া লন্ডনের বাসিন্দা, নাথানিয়ার ওয়েলটম্যানের বিরুদ্ধে প্রথম ডিগ্রি হত্যার চারটি মামলা এবং হত্যার চেষ্টা করার একটি মামলা করা হয়েছে। সোমবার তাকে রিমান্ডে নেয়ার পর বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে উপস্থাপণের কথা রয়েছে।

পুলিশ এখনও হতাহতের নাম প্রকাশ করেনি। তবে লন্ডন ফ্রি প্রেস জানিয়েছে যে, নিহতদের মধ্যে সৈয়দ আফজাল (৪৬), তার স্ত্রী মাদিহা সালমান (৪৪) এবং তাদের ১৫ বছর বয়সী কন্যা ইয়ুনাহ আফজাল রয়েছেন। সৈয়দ আফজালের ৭৪ বছরের মা, যার নাম এখনও নিশ্চিত হয়নি, তিনিও মারা গিয়েছিলেন। তাদের ৯ বছরের ছেলে ফয়েজ আফজাল গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তবে তার জীবনের আশঙ্কা নেই। পরিবারটির বন্ধু জাহিদ খান জানিয়েছেন, পরিবারটি ১৪ বছর আগে পাকিস্তান থেকে এসেছিল। স্থানীয় মসজিদে নিয়মিত তাদের যাতায়াত ছিল। প্রতিদিনই তারা রাতে হাঁটতে যেতেন। রোববারেও গেছিলেন। শহরের মেয়র জানিয়েছেন, মুসলিম-বিদ্বেষের কারণেই হত্যা করা হয়েছে।

শহরের চার লাখ বাসিন্দার মধ্যে প্রায় ৪০ হাজার মুসলিম। এই ঘটনার জন্য শহরের পতাকা তিনদিনের জন্য নামিয়ে রাখা হবে। ২০১৭ সালের কুইবেক সিটির একটি মসজিদে ছয় জন নিহত হওয়ার পর কানাডার মুসলমানদের বিরুদ্ধে একে সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সূত্র : ট্রিবিউন, এপি।

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
লাইভ রেডিও
সর্বশেষ সংবাদ