কৃষিতে আরও গবেষণা বাড়ানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

 

 

একনেক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাফোকাস বাংলা

কৃষিতে আরও উন্নয়ন চান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ উদ্দেশ্যে কৃষিতে গবেষণা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। নির্দিষ্ট করে আলু ও সবজির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আধুনিক গবেষণার মাধ্যমে মানসম্পন্ন ফলন এবং বীজ উৎপাদন বাড়াতে হবে। এর মাধ্যমে আবাদ এবং ফলন বাড়িয়ে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলেছেন তিনি। একইসঙ্গে বিশ্ববাজারে চাহিদার সুযোগে রপ্তানি বাড়ানোর কথাও বলেছেন তিনি।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। মঙ্গলবার এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। একনেক চেয়ারপারসন হিসেবে বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এতে সংযুক্ত হন তিনি।

শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন নির্দেশনা এবং অনুমোদিত প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

বৈঠকে ১০টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে একনেক। এগুলোর মধ্যে একটি সংশোধিত, ৯টি নতুন। এসব প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ছয় হাজার ৬৫১ কোটি টাকা। এই ব্যয়ের মধ্যে সরকারি জোগান প্রায় পাঁচ হাজার ২২০ কোটি টাকা। বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজস্ব তহবিল ৭৩৪ কোটি টাকা। বাকি ৬৩৮ কোটি টাকা বিদেশি ঋণ।

 

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীসহ সংশ্নিষ্ট প্রতিমন্ত্রীরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। সংশ্নিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভার কার্যক্রমে অংশ নেন।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, একনেকে অনুমোদিত ‘জৈবপ্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষিবীজ উন্নয়ন বর্ধিতকরণ’ প্রকল্প প্রসঙ্গে কৃষি উন্নয়নে নতুন নতুন গবেষণায় গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, টিস্যু কালচারের মাধ্যমে আলু ও সবজি, আখের রপ্তানিযোগ্য উন্নয়ন করা সম্ভব। এ ছাড়া পানির প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে স্লুইস গেট নির্মাণকে অনুৎসাহিত করেছেন। বিকল্প উপায়ে পানি ব্যবহারের কথা বলেছেন তিনি।

একনেকে অনুমোদিত ১০ প্রকল্প: একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হচ্ছে- বরিশাল (দিনেপারার পুল) লক্ষীপাশা-দুমকি সড়কের পান্ডব-পায়রা নদীর ওপর নলুয়া-বাহেরচর সেতু নির্মাণ। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ২৪ কোটি টাকা। চিলমারী এলাকায় (রমনা, জোড়াগাছ, রাজীবপুর, রৌমারী, নয়ারহাট) নদীবন্দর নির্মাণ। পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, প্রকল্পটি অনুমোদনের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্থানীয় ভাওয়াইয়া গানের ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করেন।

অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলো হচ্ছে- মধুপুর-ময়মনসিংহ জাতীয় মহাসড়ক যথাযথ মানে উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ, বিপিএটিসির প্রশিক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ, বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনসের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ, সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুরে ব্রাহ্মণ গ্রাম হাটপাঁচিল এলাকায় যমুনা নদীর ডানতীর সংক্ষণ, ঠাকুরগাঁও জেলার টাঙ্গন ব্যারাজ বুড়িবাঁধ ও ভুল্লিবাঁধ সেচ প্রকল্প পুনর্বাসন, জিন প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষিবীজ উন্নয়ন ও বর্ধিতকরণ, সারাদেশে ৩০টি সাইলো নির্মাণ এবং বাখরাবাদ-মেঘনাঘাট-হরিপুর গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন নির্মাণ।

চিলমারীতে উচ্ছ্বাস: চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি জানান, একনেকে নৌবন্দর নির্মাণ প্রকল্প পাস হওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে সেখানকার মানুষ। তাদের আশা, প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী চিলমারী নৌবন্দরটি ফিরে পাবে তার হারানো ঐতিহ্য।

 

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন