প্রতীকী ফাঁসির মঞ্চ বানিয়ে বৃক্ষ নিধনের  প্রতিবাদ 

 

ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গাছ কাটার প্রতিবাদে  ‘সবুজহীনতায় মৃত্যুর উপাখ্যান’ শীর্ষক পারফর্মিং আর্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে ।  এই পরিবেশনাটির মধ্য দিয়ে প্রাণ, প্রকৃতি রক্ষা করে উন্নয়ন করার আহ্বান জানানো হয়। পারফর্মিং আর্টে অংশ নেন অভিনয়শিল্পী কাজী নওশাবা আহমেদ, শাহাদাত রাসএল, মনীষা অর্চি, প্রকৃতি ও ঊষশী। আয়োজনটির ভাবনা ও পরিকল্পনায় ছিলেন শাহাদাত রাসেল।

সারা বিশ্বে দ্রুত জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটছে । দিন দিন মানুষ পরিবেশ রক্ষায় বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে ।  এমন সময়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে উন্নয়নের নামে বৃক্ষ  নিধন শুরু হয়েছে । তারই বিরুদ্ধে স উদ্যানে অনুষ্ঠিত হলো এই ব্যতিক্রমী প্রদর্শনী। এতে প্রতীকী ফাঁসির মঞ্চ তৈরি করে মঞ্চে দাঁড়ান তিনজন শিল্পী। বৃক্ষ নিধনের মাধ্যমে উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে কুড়াল হাতে ছিলেন আরও একজন।

আয়োজনটি নিয়ে অভিনেত্রী নওশাবা আহমেদ বলেন, ‘আমরা প্রকৃতিকে আঘাত না করে সভ্যতার পথ ধরে হাঁটতে চাই। সকল প্রাণী ও প্রকৃতিকে নিরাপদ রেখেই এগিয়ে যেতে চাই উন্নয়নের পথে। প্রকৃতিবান্ধব উন্নয়ন চাই। প্রকৃতি ধ্বংস করে সবুজ নিধন করে কোনো উন্নয়ন চাই না। অক্সিজেন বন্ধ করে চিকেন ফ্রাই, ফ্লাইওভার চাই না। আমরা এই বার্তাটিই সকলের কাছে পৌঁছে দিতে চেষ্টা করছি। গাছ কাটা মানে নিজের শিকড় কাটা। আর শিকড় কেটে কেউ বেশি দিন টিকে থাকতে পারে না। এই উন্নয়ন টিকবে না।

আয়োজনটি নিয়ে আয়োজক চলচ্চিত্র নির্মাতা শাহাদাত রাসেল বলেন, ‘জাতীয়ভাবে ঐতিহ্যবাহী ও বাঙালির স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে ৭ মার্চের প্রতিটি স্তরের স্মৃতিবিজড়িত সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে উন্নয়নের নামে নির্বিচার গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। এভাবে প্রকৃতি ধ্বংস পৃথিবীকেই মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। গাছ কাটার মাধ্যমে আমরা নিজেদের পায়ে নিজেরাই কুড়াল মারছি। নিজেদের ধ্বংস ডেকে আনছি।’

নওশাবা আরও বলেন, ‘গাছটা কেটে ফেললেই ফাঁসি হয়ে যাবে এমন একটা থিম ছিল। এটাতে আসলে মানব জীবনের অবক্ষয় দেখানো হয়েছে। আবার গাছের কাটা গুঁড়িগুলো নতুন প্রজন্ম পানি দিয়ে সেগুলো সতেজ করে তুলছে। সেটাই ছিল থিম। আসলে আমরা যা ধ্বংস করেছি সেটা তরুণ প্রজন্ম আবার শোধরে নেওয়ার চেষ্টা করছে সেই বিষয়টাও এই থিমের ভেতর দিয়ে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।’

আয়োজকরা জানান, জাতীয়ভাবে ঐতিহ্যবাহী ও বাঙালির স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে ৭ই মার্চের প্রতিটি স্তরের স্মৃতি বিজড়িত সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে উন্নয়নের নামে নির্বিচারে গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। এভাবে প্রকৃতি ধ্বংস করার ফলে পৃথিবীকেই মৃত্যুর দিকে ঠেলে  দিচ্ছে। প্রকৃতির স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে সকল প্রাণী ও প্রকৃতিকে নিরাপদ রেখেই এগিয়ে যেতে হবে উন্নয়নের পথে। প্রকৃতি বান্ধব উন্নয়ন চাই। আমরা এই বার্তাটি সকলের কাছে পৌঁছে দিতে চেষ্টা করছি।

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
লাইভ রেডিও
সর্বশেষ সংবাদ