আল আকসায় সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক

 

                        বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে রাবার বুলেট, স্টান গ্রেনেড জলকামান ব্যবহার করে ইসরায়েলি পুলিশ।

জেরুজালেমের আল আকসা মসজিদ এলাকায় ইসরায়েলি পুলিশের সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে অন্তত ১৬৩ জন ফিলিস্তিনি আর ছয় জন ইসরায়েলি পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছে। ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্ট ইমারজেন্সি সার্ভিস ও ইসরায়েলি পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে।

শুক্রবার রমজানের বিদায়ী জুমা উদযাপনের জন্য আল-আকসা মসজিদ হাজার হাজার মুসলমান সমবেত হয়। এরপর সন্ধ্যায় সেখান থেকে ফিলিস্তিনিদের ছোঁড়া পাথর ও বোতলের জবাবে ইসরায়েলি পুলিশ রাবার বুলেট ও স্টান গ্রেনেড ছোঁড়ে। যে কারণে বেশিরভাগ ব্যক্তি আহত হয়েছে মসজিদের ভেতরে। খবর বিবিসির।

রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, আহতদের চিকিৎসার জন্য তারা সেখানে একটি অস্থায়ী ফিল্ড হাসপাতাল চালু করেছে।

ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের জন্য পূর্ব জেরুজালেমের বাড়িঘর থেকে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করার আশঙ্কায় ওই এলাকায় বেশ কিছুদিন ধরেই উত্তেজনা চলছে।

আল-আকসা মসজিদ ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের কাছে অন্যতম শ্রদ্ধার স্থান। এটি ইহুদিদের কাছেও একটি পবিত্র স্থান, যাকে তারা টেম্পল মাউন্ট হিসেবে জানেন। এই স্থানে এর আগেও একাধিকবার সহিংসতা হয়েছে,  শুক্রবার রাতে যা আবার দেখা গেল।

ইসরায়েলি পুলিশ দাবি করেছে, সন্ধ্যার নামাজের পর ‘হাজার হাজার ধর্মাবলম্বী দাঙ্গা শুরু করলে’ তারা ‘আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য’ শক্তি প্রয়োগ করতে বাধ্য হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আল-আকসার একজন কর্মকর্তা মসজিদের লাউডস্পিকারে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। লাউডস্পিকারে তিনি বলছিলেন, ‘পুলিশ বাহিনী অবিলম্বে মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে স্টান গ্রেনেড নিক্ষেপ বন্ধ করুন। তরুণরা শান্ত হোন।’

রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, রাবার লাগানো ধাতব বুলেটে আহত হওয়ার পর সেখান থেকে অন্তত ৮৮ জন ফিলিস্তিনিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

ইসরায়েলি পুলিশ জানিয়েছে, তাদের অন্তত ছয় জন কর্মকর্তা আহত হয়েছেন, যাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবারের সহিংসতার পর সবাইকে উত্তেজনা প্রশমন করার আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। সেই সঙ্গে জেরুজালেমের শাইখ জারাহ এলাকা থেকে উচ্ছেদের হুমকিতে ক্ষোভও বাড়ছে।

জাতিসংঘের একজন মুখপাত্র ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন যে কোনো ধরনের উচ্ছেদের কর্মকাণ্ড বন্ধ করা হয়। ‘বিক্ষোভকারীদের প্রতি সর্বোচ্চ সহনশীলতা দেখানো’ আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ‘উত্তেজনা বৃদ্ধি নিয়ে গভীর উদ্বেগে’ রয়েছে ওয়াশিংটন।

এদিকে এই দীর্ঘদিন ধরে চলা মামলার বিষয়ে সোমবার একটি শুনানি করতে যাচ্ছে ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্ট।

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন