মেসি-রোনালদোদের বিশ্বকাপভাগ্য নিয়ে যা জানালেন পেরেজ

খেলা ডেস্ক

ফাইল ছবি

উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্দর সেফেরিন কাল বড় এক হুমকি দিয়েছেন। বিশ্ব ফুটবলে ঝড় তুলে দেওয়া ইউরোপিয়ান সুপার লিগকে যে কোনো ভাবেই হোক বন্ধ করে দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করেছেন। আর সে পথে তিনি অস্ত্র মেনেছেন দুটি। প্রথমত, আপাতত যে ১২ ক্লাবের নাম পাওয়া গেছে এই ‘বিদ্রোহী’ লিগে, তাদের সবাইকে তাদের নিজ নিজ লিগ ও চলমান ইউরোপিয়ান দুই প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ করে দেবেন। দ্বিতীয়ত, এই ক্লাবে খেলা সব খেলোয়াড়কে উয়েফা ও ফিফার অধীনে অনুষ্ঠিত সব টুর্নামেন্ট থেকে নিষিদ্ধ করে দেবেন।

সোজা হিসাব, সেফেরিনের দেওয়া হুমকি যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে এ বছর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ইউরো ও কোপা আমেরিকায় দেখা যাবে না রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা, লিভারপুল, জুভেন্টাস বা ম্যানচেস্টার সিটিতে খেলা কোনো খেলোয়াড়কে।

এমন ভয়ংকর কিছুর কথা কল্পনা করেও আঁতকে উঠছেন ফুটবলপ্রেমীরা। বিভিন্ন দেশের ফুটবল ফেডারেশনগুলো তো নির্ঘাত শঙ্কায় পড়ে গেছে, কাদের নিয়ে বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব পার হবে, সে চিন্তা করে। তবে সুপার লিগের মূল উদ্যোক্তাদের একজন ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ মেসিদের নিশ্চয়তা দিয়েছেন। বলেছেন নির্ভার থাকতে, উয়েফা চাইলেও নাকি জাতীয় দলে খেলা আটকাতে পারবে না।

গতকাল গড়পড়তা আরেকটি সভাতেই বসার কথা ছিল উয়েফার নির্বাহী কমিটির। কিন্তু পরশু রাতে ইউরোপের ১২টি ক্লাবের চ্যাম্পিয়নস লিগ বাদ দিয়ে সুপার লিগ খেলতে চাওয়ার কথা জানানোর পর সেটাই মহাগুরুত্বপূর্ণ এক মিটিং হয়ে ওঠে। সে মিটিংয়ে নতুন ধরনের এক চ্যাম্পিয়নস লিগের কথা জানিয়েছে উয়েফা।

যে চ্যাম্পিয়নস লিগে দল ও ম্যাচের সংখ্যা বাড়ানো হবে। সে সুবাদে ক্লাবগুলোর আয়ও বাড়বে, এমনটাই বলেছে উয়েফা। এরপর আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে সুপার লিগের বিরুদ্ধে ক্রুদ্ধ আক্রোশ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন উয়েফা সভাপতি সেফেরিন। ক্লাবগুলোকে অর্থলোভী বলেছেন। জুভেন্টাস সভাপতি আন্দ্রেয়া আনেয়েল্লি ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ভাইস চেয়ারম্যান এড উডওয়ার্ডকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করেছেন।

সেফেরিন সে সঙ্গে মেসি-রোনালদোদেরও হুমকি দিয়েছেন। বলেছেন, ‘যেসব খেলোয়াড় এই লিগে খেলবে, তাদের বিশ্বকাপ ও ইউরোতে নিষিদ্ধ করা হবে। ওদের জাতীয় দলে খেলতে দেওয়া হবে না। আমাদের পক্ষে যতটা সম্ভব সব ব্যবস্থা নেব।’

অর্থাৎ মেসিকে ছাড়া খেলবে আর্জেন্টিনা, পর্তুগালে থাকবেন না ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, বেলজিয়ামকে খেলতে হবে এডেন হ্যাজার্ড, কেভিন ডি ব্রুইনা, থিবো কোর্তোয়া, রোমেলু লুকাকুর মতো খেলোয়াড় বাদ দিয়ে। ২০২২ আফ্রিকান নেশনস কাপে থাকবেন না মোহাম্মদ সালাহ, সাদিও মানে, রিয়াদ মাহরেজ, নাবি কেইটা, এদুয়ার্দ মেন্দি, মোহাম্মদ এল নেনি, আশরাফ হাকিমিরা! ২০২২ কাতার বিশ্বকাপেও দেখা যাবে না এঁদের কাউকেই।

ক্লাব ও উয়েফার দ্বন্দ্বে খেলোয়াড়দের ‘জান’ যায় আর কী। গত ডিসেম্বরেই টনি ক্রুস যেমন নিজেদের অসহায়ত্বের কথা জানিয়েছিলেন, বলেছিলেন ক্লাব ও উয়েফা যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে ব্যবহার করছে তারা। নিজেদের দুই পক্ষের ‘হাতের পুতুল’ বলতেও বাধেনি রিয়াল মাদ্রিদ মিডফিল্ডারের।

ইউরোপিয়ান সুপার লিগ খেলা মানে সেই ‘পুতুল’ হিসেবেই থেকে যাওয়া। তবে রিয়াল মাদ্রিদ ও নতুন গঠিত ইউরোপিয়ান সুপার লিগের সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ খেলোয়াড়দের আশ্বস্ত করেছেন কাল। স্প্যানিশ টিভি শো এল চিরিঙ্গিতোতে এসে বলেছেন, ‘সব খেলোয়াড় এ ব্যাপারে নিশ্চিন্তে থাকুন। কারণ, এটা (নিষেধাজ্ঞা) হবে না। তারা সুপার লিগ খেললে নিষিদ্ধ হবে না।’কেন এই বিদ্রোহী লিগ আয়োজন করছেন, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন পেরেজ। বলেছেন, ‘জীবনের সবকিছুর মতো ফুটবলকেও বদলাতে হবে। যে সময়ে বাস করছি, তার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে ফুটবলকে। ফুটবল আগ্রহ হারাচ্ছে, টিভিস্বত্ব কমে যাচ্ছে। আমরা সুপার লিগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আগেই, মহামারি আমাদের এটা দ্রুত করতে বাধ্য করেছে। ফুটবলে এখন সবাই বরবাদ (মহামারির কারণে) হয়ে গেছি।

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
লাইভ রেডিও
সর্বশেষ সংবাদ