শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের প্রায় আঠারো মাসের কর্মকাণ্ড রাজনৈতিক এবং সামাজিক বিশ্লেষকেরা নিয়ে আলোচনা করছেন।
সরকার জানিয়েছে, তাদের মূল লক্ষ্য ছিল: সংবিধান ও প্রশাসনিক সংস্কার, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার’, এবং সংসদ নির্বাচন আয়োজন। সরকারের মতে, এসব ক্ষেত্রে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে।
সংস্কার:
১১টি কমিশন ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করে অন্তত ৩০টি বিষয়ে দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত।
চারটি বিষয়ে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের সঙ্গে সঙ্গে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ভেতরের অংশের কারণে কিছু সংস্কার কার্যকর হয়নি।
বিচার ও মানবতাবিরোধী অপরাধ:
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
৮৩৭টি মামলা রেকর্ড; ৪৫টি আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে চলছে।
সমালোচনা: অনেক মামলা নিয়ে ‘বিচার নাকি প্রতিশোধ’ প্রশ্ন উঠেছে।
আইন-শৃঙ্খলা ও সামাজিক নিরাপত্তা:
মব সন্ত্রাস ও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারসহ সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
নারীর সমতা ও নিরাপত্তা বিপন্ন হয়েছে।
অর্থনীতি:
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ১৪ বিলিয়ন থেকে ২৮ বিলিয়ন ডলারে বৃদ্ধি।
দুর্বল ব্যাংক একীভূত ও শৃঙ্খলা ফিরিয়েছে।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সীমিত সাফল্য; ২০২৫ সালের গড় মূল্যস্ফীতি ৮.৭৭%।
সাংবাদিকতা ও প্রেস ফ্রিডম:
শুরুর দিকে ১৬৭ জন সাংবাদিকের অ্যাক্রিডিটেশন বাতিল; পরে তা ভুল পদক্ষেপ হিসেবে স্বীকার।
প্রথম আলো-ডেইলি স্টারে হামলা ও গ্রেফতারের ঘটনা স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর হামলা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সরকারের মূল্যায়ন:
সংবিধান ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সংস্কার এবং দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্যকে বড় সাফল্য মনে করছে।
বিচার ও সেনা কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্তি ইতিবাচক অর্জন।
আর্থিক খাতে দুর্নীতি মোকাবিলা, বৈদেশিক অর্থ ফেরানো, প্রেস ফ্রিডম ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বজায় রাখা সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষক মন্তব্য:
অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় সরকার তুলনামূলক সফল, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নির্বাচনের দিকে অগ্রগতি।
সামাজিক নিরাপত্তা, সংখ্যালঘু ও নারীর সুরক্ষা, মব নিয়ন্ত্রণ ও সংস্কারে ভেতরের বাধা ব্যর্থতা হিসেবে চিহ্নিত।

