দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর উৎসবমুখর পরিবেশে দেশজুড়ে চলছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে জানানো হয়েছে, সকাল থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত সারা দেশে ৩২ হাজার ভোটকেন্দ্রে গড়ে ১৪.৯৬ শতাংশ ভোট পড়েছে।
জাতীয় সংসদের ৩০০টি আসনের মধ্যে আজ ২৯৯টি আসনে ভোট গ্রহণ চলছে। শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুতে ওই আসনের ভোট স্থগিত করা হয়েছে। নির্বাচনে বর্তমান কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ছাড়া ৫০টি রাজনৈতিক দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। উল্লেখযোগ্য দলগুলোর মধ্যে রয়েছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জাতীয় পার্টি।
ভোটের নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৯ লাখেরও বেশি সদস্য। এছাড়া ১ হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য মাঠে রয়েছেন। আধুনিক প্রযুক্তির অংশ হিসেবে নির্বাচন কমিশন সারা দেশে প্রায় ১ হাজার ড্রোন উড়িয়ে নজরদারি চালাচ্ছে।
এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৫ জন। এর মধ্যে প্রায় ৪ কোটি তরুণ ভোটার প্রথমবারের মতো তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। প্রবাসীদের সুবিধার্থে প্রথমবারের মতো প্রবর্তিত হয়েছে পোস্টাল ব্যালট, যার মাধ্যমে প্রবাসী ছাড়াও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কারাবন্দিরা ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
নির্বাচনী লড়াইয়ে রয়েছেন মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী। রাজনৈতিক দলগুলো থেকে ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র হিসেবে ২৭৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নারী প্রার্থীদের অংশগ্রহণও এবার চোখে পড়ার মতো; বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে মোট ৮৩ জন নারী প্রার্থী লড়ছেন।
বহু বছর পর একটি অবাধ ও শঙ্কামুক্ত নির্বাচনের প্রত্যাশায় গ্রাম থেকে শহর—সর্বত্রই ভোটারদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। বিশেষ করে নতুন ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গত ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণার পর থেকেই দেশে যে নির্বাচনি আমেজ শুরু হয়েছিল, আজ ভোটদানের মাধ্যমে তার চূড়ান্ত প্রতিফলন ঘটছে।

