ইংল্যান্ডের Derby শহরের কেন্দ্রস্থল Friar Gate এলাকায় পথচারীদের ওপর গাড়ি উঠিয়ে দেওয়ার ঘটনায় অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। শনিবার রাত আনুমানিক ৯টা ৩০ মিনিটে একটি কালো Suzuki Swift গাড়ি দ্রুতগতিতে পথচারীদের ভিড়ের মধ্যে উঠে যায়। ঘটনার পর এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
Derbyshire Police জানায়, দুর্ঘটনার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। পরে প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাত্র সাত মিনিটের মধ্যে সন্দেহভাজন চালককে শহরের অন্য একটি স্থান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে আটক করা হয় এমন একটি সেতুর কাছে, যা ব্যবসা ও বাণিজ্যিক এলাকা প্রাইড পার্কের দিকে যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি ৩৬ বছর বয়সী একজন পুরুষ, যিনি ভারতীয় বংশোদ্ভূত হলেও দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালানো, ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর শারীরিক আঘাত করা এবং বেপরোয়া ড্রাইভিংয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে তাকে পুলিশ হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
আহত সাতজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, কয়েকজন গুরুতর আহত হলেও কারও জীবনহানির আশঙ্কা নেই। চিকিৎসকরা তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন
ঘটনার পরপরই ফ্রায়ার গেট এলাকায় পুলিশ কর্ডন বসানো হয় এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন। রাস্তায় ছড়িয়ে থাকা জুতা, পোশাকসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র তদন্তের অংশ হিসেবে জব্দ করা হয়েছে। পরে রবিবার বিকাল ৩টার দিকে পুলিশ কর্ডন তুলে নেওয়া হয় এবং সড়কটি আবার চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু হয়েছে এবং বাসিন্দাদের বাড়িতে ফিরতে অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে সন্ত্রাসবাদ দমন ইউনিট সহায়তা করছে, যা এ ধরনের ঘটনায় নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ। তবে এখন পর্যন্ত ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না। পুলিশ এটিকে একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখছে এবং সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধরনের কোনো ঝুঁকি নেই বলে জানিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ঘটনার পর এলাকাজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। অনেককে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা যায় এবং জরুরি সেবা কর্মীরা দ্রুত আহতদের চিকিৎসা সহায়তা দেন। কেউ কেউ ঘটনাটিকে অত্যন্ত ভয়াবহ অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
স্থানীয় একটি ফুটবল ক্লাবও ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং আহতদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। একই সঙ্গে জরুরি সেবা কর্মীদের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করা হয়েছে।
পুলিশ এখনও প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছে তথ্য চেয়েছে। যারা ঘটনাটি দেখেছেন বা ভিডিও ধারণ করেছেন, তাদের পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

