শাহজাহান আলী মনন, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি:
নীলফামারীর সৈয়দপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পরিবারের মধ্যে রক্তাক্ত সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের ১১ জন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে সৈয়দপুর পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের কয়া গোলাহাট এবরাতুল্লাহ সরকার পাড়ায় এই ঘটনা ঘটেছে।
জানা যায়, ওই এলাকার শহিদুল ইসলাম পরিবার ও শাহজাহান আলী পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন থেকে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এর জের ধরে ইতোপূর্বেও একাধিকবার দুই পরিবারের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ গত শুক্রবারও (১৩ মার্চ) বিকেলে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে হাতাহাতি ও লাঠিসোটা নিয়ে হামলার ঘটনা ঘটে।
এতে শাহজাহান পরিবারের দুই জন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার সকাল সাড়ে ১০ টার সময় আবারও সংঘর্ষ বাঁধে তাদের মাঝে। এতে শাহজাহান পরিবারের আরও ৫ জন ও শহিদুল পরিবারের ৪ জন আহত হয়। দীর্ঘ ৩ ঘন্টা পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
আহতরা হলেন, শাহজাহান আলীর ছেলে আবু বকর সিদ্দিক স্বপন (৩২), মৃত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে জমসেদ আলী (৫৫), গোলাম রব্বানীর ছেলে রফিকুল ইসলাম (৩৫), শরিফুল ইসলাম (২৮), রব্বেল আলীর ছেলে মো. আসাদুল (৩০), মৃত হযর উদ্দিনের ছেলে মো. দুলাল (৪৫), মৃত নুর ইসলামের ছেলে সামেদুল ইসলাম বাবু (৩৩)।
অন্যদিকে শহিদুল ইসলামের স্ত্রী জাহান আরা (৫২), ছেলে আরিফ (২৫) ও আব্দুস সালাম (২৮) এবং আব্দুস সাত্তারের ছেলে সাখাওয়াত হোসেন চৌধুরী (৫৫) রক্তাক্ত জখম হয়েছে। এর মধ্যে ৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
সবাই সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সেখানে গেলে গোলাম রব্বানীর ছেলে রফিকুল ইসলাম বলেন, গতকাল শহিদুলের ছেলে আব্দুস সালাম, আরিফ, সোহাগ, বাফাজ উদ্দিনের ছেলে মিজানুর, আব্দুস সাত্তারের ছেলে শাহাজাদ, সাখাওয়াত হোসেন চৌধুরী, হাসিম উদদীনের ছেলে তারিকুল ও রিফাতসহ ২০-৩০ জন বিরোধপূর্ণ জমিতে গিয়ে অযথা গালিগালাজ করে।
এতে প্রতিবাদ করলে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে লাঠিসোটা নিয়ে মারধর করায় আবু বকর সিদ্দিক স্বপন ও জমসেদ আলী আহত হয়। তাদের গতকালই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা পারিবারিক ভাবে আলোচনা কালেই আজ সকালে আবার তারা সংঘবদ্ধভাবে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত আমাদের বাড়িতে এসে হামলা চালায়। এতে আমরা আহত হয়েছি।
প্রতিপক্ষের হামলায় আমরা রক্তাক্ত হয়ে প্রায় ২ ঘন্টা মাটিতে পড়ে ছিলাম। তারা অস্ত্র হাতে রাস্তা অবরোধ করে রাখায় হাসপাতালে নেয়া সম্ভব হয়ে উঠেনি। তাদের ভয়ে পাড়া প্রতিবেশীরাও সাহায্যে এগিয়ে আসতে পারেনি। এমনকি পুলিশ আসার পরও তারা অস্ত্র নিয়ে মোহড়া দেয় এবং বাড়ির সব গাছ কেটে সাবার করেছে। পরে আরও পুলিশ এসে আমাদের উদ্ধার করে।
পক্ষান্তরে শহিদুল পরিবারের জাহান আরা বলেন, যেখানে মামলা চলছে। সেখানে শাহজাহান ও তার লোকজন ওই জমি গায়ের জোরে দখল করতে বাইর থেকে ভাড়া করে লোক এনে বাড়িতে জড়ো করেছিল। এই খবর পেয়ে জমি দখল প্রতিরোধে এগিয়ে গেলে তারা পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী হামলা চালায়। আমাকে ও আমার ছেলের উপর অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। এতে আমরা রক্তাক্ত জখম হয়েছি।

