রূপগঞ্জের ক্যানেলপাড়ায় শুক্রবার সকালের ভূমিকম্পে দেয়াল ধসে ১০ মাস বয়সী শিশু ফাতেমা নিহত হয়েছে। নিহতের মা কুলসুম গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হতে না পেরে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ঘুরছিলেন—অবশেষে তাকে ন্যাশনালে ভর্তি করা হয়।
ক্যানেলপাড়ার বাসিন্দা ইমতিয়াজ জানান, ভূমিকম্পের আতঙ্কের মধ্যেই বিকট শব্দে পাশের বাড়ির উঁচু দেয়াল ধসে পড়ে। দৌড়ে গিয়ে তিনি দেখেন—দেয়ালের নিচে চাপা পড়ে আছে এক শিশু। ইট-ভাঙা সরিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করলেও বাঁচানো যায়নি। একটু পরেই দেখা যায়—একই দেয়ালের নিচে চাপা পড়েছেন শিশু ফাতেমা ও তার মা কুলসুমও।
ইমতিয়াজ বলেন, ‘এক মুহূর্তের ভূমিকম্প থামিয়ে দিল তাদের যাত্রা। ছোট্ট মাইয়াডা শেষ বিদায়েও বাবা-মার সঙ্গ পাইলো না।’
ফাতেমার বাবা আব্দুল হকের বরাত দিয়ে স্বজনরা জানান, মাথায় আঘাত পাওয়ায় কুলসুমকে ইউএস বাংলা, ঢামেক ও ন্যাশনাল—কোথাও সিট না থাকায় ভর্তি নেয়নি। স্বজন মোহাম্মদ হোসেন বলেন, ‘অচেতন মানুষকেও ভর্তি নেবে না—এটাই শুনেছি সবার কাছ থেকে।’
স্থানীয় বাসিন্দা তুহিন জানান, দুই মেয়েকে মানুষ করে ডাক্তার বানানোর স্বপ্ন ছিল আব্দুল হকের। কিন্তু ছোট্ট ফাতেমা চিকিৎসকের কাছে পৌঁছানোর সুযোগই পেল না।
দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ইউএনও সাইফুল ইসলাম। তিনি জানান, ধসে পড়া দেয়ালটি নিয়ম মেনে নির্মাণ করা হয়নি; ১০ ফুটের বেশি উঁচু সেই দেয়ালে ছিল না রড বা পিলার। এ কারণে সামান্য ভূমিকম্পেই সেটি ভেঙে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, ইউনিয়নের অনেক ভবন ও প্রাচীর নিয়ম না মেনে নির্মিত হয়েছে—এসব ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হবে।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফাতেমার দাফনের জন্য পরিবারকে ২০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

