আবু রায়হান, বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
বাউফল উপজেলার কালাইয়া বাণিজ্যিক বন্দরে দোকানের পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে শ্রমিক ফেডারেশন ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি আটজনকে নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ হেফাজতে নেয়।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টা ও রাত ৮টার দিকে উপজেলার কালাইয়া বাণিজ্যিক বন্দরের মার্চেন্টপট্টি এলাকায় দুই দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেলে কালাইয়া ইউনিয়ন শ্রমিক ফেডারেশনের সেক্রেটারি কাওসার হোসেনের বড় ভাই নাসির হোসেনের কাছে স্বপন নামের এক ব্যবসায়ী দোকানের বকেয়া টাকা চাইলে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে স্বপন নাসিরকে চড়-থাপ্পড় মারেন বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নাসির মুঠোফোনে তার ভাই কাওসারকে জানালে তিনি ঘটনাস্থলে এসে স্বপনকে চড় মারেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাউফল প্রেসক্লাবের সদস্য মাসুম সিদ্দিকের বাসায় একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেখানে কাওসারের পক্ষে ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ইমরান উপস্থিত ছিলেন। সালিশ চলাকালে উভয় পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়ে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। এ সময় একই এলাকার ব্যবসায়ী আরাফাত কাওসারকে কিল-ঘুষি মারলে পুনরায় সংঘর্ষ বেঁধে যায়।
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। এ সময় আটজন ব্যবসায়ী আটকা পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আটকা পড়া ব্যবসায়ীদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
ব্যবসায়ী স্বপন অভিযোগ করেন, নাসির হোসেন দীর্ঘদিন ধরে দোকানের পাওনা টাকা পরিশোধে গড়িমসি করছিলেন। শনিবার বিকেলে টাকা চাইলে তিনি হুমকি দিয়ে চলে যান। পরে কাওসারসহ কয়েকজন এসে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে তাকে মারধর করেন। রাতে সালিশের সময়ও তাদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে শ্রমিক ফেডারেশনের সেক্রেটারি কাওসার হোসেন বলেন, তার ভাইকে মারধরের খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তেজিত হয়ে স্বপনকে একটি থাপ্পড় দেন। পরে সালিশের নামে ডেকে নিয়ে স্বপন, আরাফাত, মইন ও খায়েরসহ ১০-১৫ জন পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে তাকে ও ছাত্রশিবির নেতা ইমরানসহ কয়েকজনকে গুরুতর আহত করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান জানান, দেনা-পাওনা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থলে আটকা পড়া ব্যবসায়ীদের সহযোগিতার জন্য পুলিশ উদ্ধার করে রাতে নিরাপত্তা হেফাজতে রাখে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

