মীর ইমরান -মাদারীপুর প্রতিনিধিঃ
মাদারীপুরে শিবচরে অটো ভ্যানচালক মোঃ মিজান গাজী জীবনের তাগিদে প্রতিদিনের ন্যায় গত বৃহস্পতিবার বিকেলে অটো ভ্যানটি নিয়ে শিবচর সদরে বের হয়। এরপর আর রাত হয়ে গেলোও বাড়িতে না আসলে নববিবাহিত স্ত্রী ও বাবা- মা চিন্তিত হয়ে পরে তারপর রাত গভীর হলেও বাড়িতে আর আসেনি এরপর শুক্রবার- ৭ ফেব্রুয়ারি শিবচর থানা কাদিরপুরের একটি গলাকাটা লাশ দেখতে পায় স্থানীয়রা এর পর থানা পুলিশসহ সেনাবাহিনী ও মিডিয়া কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি তুলে ধরে আর তখনিই নজরে আসে মিজান গাজীর পরিবারের লাশটি দিকে তারপর ঘটস্থলে মিজান গাজীর লাশ সনাক্ত করে মিজান গাজীর পরিবার ।
হত্যার ঘটনার ক্লোখোঁজতে কাজ করে শিবচর থানা পুলিশ।
এদিকে মিজান গাজীর (২০) হত্যা ও লাশ গুমের ঘটনায় একটি হত্যা মামলা রুজু হলে মামলাটির তদন্তে শুরু করে শিবচর থানার একটি পুলিশের চৌকস তদন্ত টিম।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলমের প্রত্যক্ষ তত্বাবধানে শিবচর সার্কেল এএসপি মোঃ আজমির হোসেন ও শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি ) মোঃ রতন শেখ’র নেতৃত্বে শুরুকরে এ মামলাটির রহস্য উদঘাটন।
তারপর তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে গতকাল ৯ ফেব্রুয়ারি গ্রেফতার করা হয় ঘটনার সাথে জড়িত মাদারীপুরের শিবচর থানার ,শিকদার হাট এলাকার মোঃ হুমায়ূন শিকদারের ছেলে মোঃ হান্নান শিকদারকে (২৬),
হান্নান পেশায় একজন ইট ভাঙা শ্রমিক। মাদকের নেশায় আসক্ত হয়ে জরুরি টাকার প্রয়োজন হলে, সে একই এলাকার অটোভ্যান চালক মিজান গাজীকে টার্গেট করে।
অন্যান্য আসামিদের প্ররোচনায় মাত্র দুই হাজার টাকার বিনিময়ে হান্নান অন্যান্যদের সহায়তায় নৃশংস ভাবে খুন করে ভ্যানচালক মিজান গাজীকে।
ঘটনার দিন ৬ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৬ টার পর হান্নানসহ অন্যান্য আসামীরা মিজান গাজীকে অটোভ্যানসহ ৫০০ টাকায় ভাড়া করে ঘটনাস্থলে নিয়ে যায়।
শিবচর থানার কাদিরপুর ইউনিয়নের মানিক পুর মোড় নামক স্থানে ইট ভাটার পাশে সামাদ মৃধার ভুট্টা ক্ষেতের আড়ালে নিয়ে প্রথমে চড়-থাপ্পর মারে চারজন মিলে। অতঃপর আসামিদের সাথে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে মিজানকে।
এক পর্যায়ে মিজান মাটিতে লুটিয়ে পড়লে গলায় ছুরি চালায় আসামি হান্নান শিকদার।
মিজান গাজীর’র মৃত্যু নিশ্চিত করে মিজানের মোবাইল ফোন, নগদ টাকা, তার ভাড়ায় চালিত অটোভ্যান নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে আসামিরা।
শিবচর উপজেলা শহরে এসে টাকার ভাগবাটোয়ারা করে চারজন মিলে। গ্রেফতারকৃত আসামি হান্নান শিকদার নগদ ৫০০ টাকা আর ভিকটিমের মোবাইল ফোনটি ভাগে পায়। পরবর্তীতে অটোভ্যান বিক্রি করে সব টাকা ভাগাভাগি করে নেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত নেয় তারা। এরপর সবাই যার যার বাসায় চলে যায়। হান্নান শিকদার পুলিশের ভয়ে তার নিকট থাকা ভিকটিমের মোবাইল ফোনটি ভুট্টা ক্ষেতে ফেলে দেয়। পরবর্তীতে আসামির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তার দেখানো মতে ভুট্টা ক্ষেত থেকে ভিকটিম মিজানের মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়।
১০ ফেব্রুয়ারি আসামি হান্নান শিকদারকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে আসামি হান্নান বিজ্ঞ বিচারকের নিকট ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে তার দোষ স্বীকার করে এবং ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারা মোতাবেক তার জবানবন্দি প্রদান করে।
এ বিষয়ে শিবচর থানায় মাদারীপুর পুলিশ সুপার ( সার্কেল) শিবচর মোঃ আজমীর হোসেন সাংবাদিকদের সাথে প্রেস ব্রিফিং করে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটিত তথ্য প্রকাশ করে , এসময় উপস্থিত ছিলেন শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোঃ রতন শেখ’র উপস্থিত ছিলেন।
মিজান গাজী