মুহ.মিজানুর রহমান বাদল,মানিকগঞ্জ
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে একটি কবরস্থানে কবর খুঁড়ে ৫টি লাশের মাথার খুলি চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে, শুক্রবার দিবাগত রাতের আধাঁরে উপজেলার জামির্ত্তা ইউনিয়নের হাতনি কবরস্থানে।
শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারী) ভোরে লাশ চুরির খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে কবরস্থানে দাফনকৃত ব্যক্তিদের স্বজনরা ও স্থানীয় লোকজন মূহুর্তের মধ্যে কবরস্থানে ছুটে আসে। এ সময় চুরি হওয়া লাশগুলোর স্বজনরা কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে উঠে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার হাতনি কবরস্থানে ৫/৬টি কবর খোঁড়া অবস্থায় আছে। এরমধ্যে হাতনী গ্রামের আওলাদ হোসেনের মেয়ের লাশের হাড়-গোড় একটি কবরে থাকলেও মাথার খুলি পাওয়া যায়নি। কবরগুলো খুড়ে আবার মাটি দিয়ে ঢেকে রেখে গেছে। এক কবরে প্রায় ৪-৫ টি কাফনের কাপড় ও হাড়-গোড় পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে এই লাশগুলো চুরি হয়েছে।
স্থানীয় আওলাদ হোসেন জানান, তার মেয়ে ২ মাস আগে মারা যান। মারা যাওয়ার পরে হাতনী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। মাত্র ১২ বছর বয়সের মেয়ে কারো ক্ষতি করেনি। আজ ভোরে খবর পাই কবরস্থান থেকে লাশ চুরি হয়েছে ছুটে এসে দেখতে পাই আমার মেয়ের কবর খোঁড়া। ভেতরেই কাফনের কাপড়, শরীরের অংশ পড়ে আছে। মাথা চোরেরা নিয়ে গেছে।
নবিনুর ইসলাম নামের আরেকজন বলেন, আমার বাবা ৭ মাস আগে মারা গেলে এই কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। শনিবার সকালে লাশ চুরির খবর পেয়ে এখানে এসে দেখি আমার বাবার কবরের বাঁশ উপরে রেখে মাটি দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। কবরের ভিতরে আমার বাবার লাশও হয় তো নেই।
হাতনী কবরস্থান কমিটির সভাপতি আবু সাঈদ বলেন, আমি প্রতিদিন ফজরের নামাজ পড়ে কবর জিয়ারত ও দেখাশুনা করতে আসি। শনিবার কবরস্থানে ঢুকতেই দেখি ১টি কবর খোঁড়া। আশপাশে তাকিয়ে দেখি একে একে আরো কবরের মাটি, বাশ এলোমেলো। তখনই আমি এলাকাবাসীকে খবর দেই। এই চুরি এলাকায় আতঙ্ক তৈরী হয়েছে।
এ ঘটনায় শান্তিপুর তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ রণজিৎ সাহা বলেন, বিষয়টি জানার পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বার্তাপ্রেরক
মুহ.মিজানুর রহমান বাদল
মোবাইল-০১৭১৫-১৫৩৯৬৫
তাং-৮/২/২০২৫ ইং