ফরিদপুর প্রতিনিধিঃ
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ফুলসুতি আব্দুল আলেম চৌধুরী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুশান্ত কুমার সরকার শিক্ষার্থীদের অনুরোধে গানের সাথে নৃত্য করাকে কেন্দ্র করে সামাজিক ভাবে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, ফুলসুতি আব্দুল আলেম চৌধুরী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা, চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) নাটরের গ্রীণ ভ্যালী পার্কে শিক্ষা সফরে যায়। ওই দিন অনুষ্ঠানের ফাঁকে শিক্ষার্থীদের অনুরোধে প্রধান শিক্ষক সুশান্ত সরকার বিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থীদের নিয়ে গান বাজিয়ে নৃত্য পরিবেশন করেন। পরবর্তীতে তার এই নৃত্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, এতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা সমালোচনা হতে দেখা যায়।

বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক (নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক) বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুশান্ত কুমার সরকার শিক্ষকতার পাশাপাশি একজন সাংস্কৃতিক মনা মানুষ, মুলত শিক্ষার্থীদের বাড়তি আনন্দ দিতে তিনি এটা করেছেন। এখানে অশ্লীলতার কোন কিছু দেখছি না। তাকে মুলত বির্তকিত করতে এই সব করা হচ্ছে। বিষয়টা আমরা স্বাভাবিক ভাবেই নিচ্ছি।
বিদ্যালয়টির ম্যানেজিং কমিটির সদস্য হাসান মাতুব্বর বলেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুশান্ত কুমার দায়িত্ব পাওয়ার পর বিদ্যালয়টির পরাশুনা থেকে শুরু করে প্রতিষ্ঠানটির মান উন্নয়নে দৃশ্যমান পরিবর্তন হয়েছে। তিনি সকল শিক্ষার্থীদের সাথে বন্ধুসুলভ আচারণ করেন। দায়িত্বের ব্যপারে তার সুনাম রয়েছে। তার নৃত্যের ভিডিওটি আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে দেখেছি। তবে বিষয়টি শিক্ষার্থীদের বাড়তি আনন্দ দেওয়া হয়েছে বলে আমরা মনে করছি। এই ঘটনা স্বাভাবিক। এতে আমাদের পক্ষ থেকে কোন প্রতিক্রিয়া নেই।
বিদ্যালয়টির ম্যানেজিং কমিটির অন্য সদস্য আইয়ুব মাতুব্বর বলেন শিক্ষকের একটি নিত্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখেছি। সেখানে কি হয়েছিল সেটা আমার জানা নেই তবে যদি এই নৃত্যের বিষয়টি তিনি অসৎ উদ্দেশ্য করে থাকেন তাহলে সেটা আলোচনা সাপেক্ষে খতিয়ে দেখা হবে।
প্রধান শিক্ষক সুশান্ত কুমারের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হেনস্তা করার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নগরকান্দা প্রেস ক্লাবের সভাপতি শওকত আলী শরীফ তিনি বলেন নাটোরের গ্রীন ভ্যালী পার্কে শিক্ষা সফরে গিয়ে শিক্ষার্থীদের অনুরোধে নেচেছেন বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুশান্ত সরকার। বিষয়টি নিয়ে এক শ্রেণির মানুষ ঘোলা পানিতে মাছ শিকারে নেমেছে! শিক্ষকের উপর চাপ সৃষ্টি করছেন। যারা সমালোচনা করছেন, তাদের একটা কথা মনে রাখা উচিত, ভাইরাল হওয়া ভিডিও টা কিন্তু শিক্ষা সফরের, ক্লাস রুমের নয়।
এই ব্যপারে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হেনস্তার শিকার শিক্ষক সুশান্ত কুমার সরকার বলেন, মুলত আমি আমার শিক্ষার্থীদের সন্তানের মতো মনে করি। বিদ্যালয়ে আমি যেমন শিক্ষক সেই সাথে প্রতিষ্ঠানের বাইরে তাদের সাথে সম্পর্ক টা থাকে বন্ধুসুলভ। শিক্ষার্থীরা বনভোজনে এসে আনন্দ করতে যাতে আমাদের উপস্থিতিতে সংকিত না হয় হয় সেই জন্য আমি এটা করেছি। তবে, আমি দুঃখ প্রকাশ করছি এটা করা আমার ঠিক হয়নি।
তার বিরুদ্ধে কোন মহল ষড়যন্ত্র করছে কিনা বা এই ব্যপারে তিনি আইনি সহযোগিতা চান কিনা এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিটা শিক্ষার্থী আমার সন্তানের মতো
যারাই আমাকে সামাজিক ভাবে হেনস্তা করতে আমাকে বির্তকিত করার চেষ্টা করছে তাদের বিরুদ্ধে আমার কোন অভিযোগ নেই। আমি তাদের ক্ষমা করে দিয়েছি। তারা হয়তো না বুঝে এটা করেছে। অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে যেটা স্পষ্ট, যদিও এই বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয়ের কতৃপক্ষ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকদের কাছে আমার ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। তারপরও আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার আমি মেনে নিতে পারছি না।
এই ঘটনার পর নগরকান্দা উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা সহকারী কমিশনার ভুমি মাসুম বিল্লাহ বলেন, ফুলসুতি আবদুল আলম চৌধুরী মাধ্যমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সুশান্ত কুমারের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেখেছি। এই ব্যপারে বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থী বা অভিভাবকদের কাছ থেকে কোন ধরনের অভিযোগ পাইনি। তবে এই ভিডিওতে আমি খারাপ কিছু পাই নাই। তিনি শিক্ষার্থীদের থেকে নিরাপদ দুরত্ব বজায় রেখে এই নৃত্য করেছেন।